সৌদিতে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত দুই ক্রু
- আপডেট সময় : ১০:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরান এলাকায় টহল বা নজরদারি পরিচালনার সময় দেশটির একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি ছিল এএইচ-৬আই মডেলের এবং এ ঘটনায় হেলিকপ্টারের দুই ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনাস্থলটি সৌদি ন্যাশনাল গার্ডের আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত।
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার এই খবর সামনে আসার আগেই ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে একটি দাবি উত্থাপন করেছিলেন। শনিবার দেওয়া বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, তাদের যোদ্ধারা নাজরানে একটি অ্যাপাচি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছেন এবং সেটি হুথিদের ওপর হামলা চালানোর জন্য আসছিল। হুথিদের এই দাবির পর সৌদি কর্তৃপক্ষ নজরদারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও, এর সাথে হুথিদের দাবির কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেনি।
হুথি মুখপাত্রের অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি। তিনি এর প্রমাণ হিসেবে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের ছবি প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, হুথিরা যে হেলিকপ্টারটির কথা বলছে, সেটি প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এবং তাদের দাবি ভিত্তিহীন। এদিকে, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জুলাই মাস থেকে সৌদি বাহিনী হুথিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে এবং পাল্টা জবাবে হুথিরা রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার দাবি করেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিলে দেশটিতে সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। এর পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে ফের নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও চলমান অস্থিরতার বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হুথিদের দাবির সাথে এর সম্পর্ক নিশ্চিত হতে সৌদি কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা। ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৪ সালে, যখন হুথিরা রাজধানী সানাসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকা দখল করে নেয়।

























