সোরিয়াসিস কিঃ চিকিৎসা, বিধি-নিষেধ ও উপদেশ
- আপডেট সময় : ০২:৩৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১
- / 1349
ডাঃ সাফানা আহমেদ
সোরিয়াসিস কি?
সোরিয়াসিস এক ধরনের চর্মরোগ। এতে পাতলা বা অনেক সময় মোটা রুপালী আঁশযুক্ত ছোপ দেখা যায়, যা উঠে যাবার পর উক্ত স্থান লালচে ভাব বা সামান্য রক্তক্ষরণ হতে পারে।
যে কোনও বয়সে এ রোগ হতে পারে তবে ১৫ বছর হতে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে সাধারণত বেশী দেখা যায়।
এটা কোনও ধরনের ছোয়াচে বা সংক্রামক চর্মরোগ নয়।
এ রোগের মূল কারন এখনও জানা যায় নাই। তবে ধারনাকরা হয় এ রোগের সাথে বংশগত যোগসুত্র থাকতে পারে। বিভিন্ন কারনে সোরিয়াসিস বাড়তে পারে যেমন আক্রান্তস্থানে আঘাত, মানসিক দুশ্চিন্তা, কিছু কিছু ঔষধ ইত্যাদি।
সোরিয়াসিস কোনও ভয়ংকর রোগ নয় তবে শুরুতেই সঠিক চিকিৎসা না করালে তা অনেক সময় জটিল আকার ধারন করতে পারে। জটিল সোরিয়াসিস যেমন, হাত / পা এর বিভিন্ন গিটে ব্যাথা বা ফোলা (Psoraitic Arthritis or Arthopathy), পুরো শরীর জুড়ে রোগটি ছড়িয়ে পড়া, আক্রান্তস্থানে পুজ যুক্ত সংক্রমণ হওয়া ইত্যাদি।
চিকিৎসাঃ
সোরিয়াসিস এর চিকিৎসা নির্ভর করে রোগটি শরীর এর কোন স্থানে এবং কতটুকু আক্রান্ত হয়েছে তার উপর। এ রোগটি সেরে যাবার পর আবার হতে পারে। আমাদের চিকিৎসার উদ্দেশ্য থাকে একজন রোগীকে কতটা দীর্ঘ সময় রোগটির উপসর্গ মুক্ত রাখা যায়।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার / ক্ষতস্থানে লাগানোর বিভিন্ন ধরনের ঔষধ ব্যাবহার করতে বলা হয়। সেই সাথে অনেক সময় ফটোথেরাপী (NBUVB) নিতে বলা হয়। বেশ কিছু আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি বর্তমানে আমাদের দেশেও শুরু হয়েছে যেমন বায়োলজিকাল ঔষধ এর ব্যাবহার। সোরিয়াসিস এর চিকিৎসা হিসেবে এক ধরনের লেজার এর ব্যাবহার বর্তমানে কিছু কিছু দেশে হচ্ছে কিন্তু তার কার্যকারিতা এখনও পুরোমাত্রায় প্রমানিত হয়নি।
সোরিয়াসিস এমন এক ধরনের চর্মরোগ যা সঠিক চিকিৎসা এবং সেই সাথে জীবনযাত্রার কিছু বিধি নিষেধ ও উপদেশ মেনে চললে এ রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার সবচেয়ে ভালো সুযোগ থাকে।
বিধি নিষেধঃ
• আক্রান্তস্থান জোরে জোরে চুলকানো / মড়া চামড়া টেনে তোলা যাবে না।
• লাল মাংশ যেমন- গরু, মহিষ, শুকর এর মাংশ / টক জাতীয় খাবার যেমন- লেবু, কমলা, জাম্বুরা ইত্যাদি যতটা সম্ভব কম খেতে হবে।
• ধূমপান, জর্দা, মদ্যপান সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে।
• কিছু কিছু ঔষধ যেমন উচ্চ রক্তচাপের জন্য বিটাব্লকার, এসিই ইনহিবিটর / ব্যাথা নাশক ঔষধ / লিথিয়াম / ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনের জন্য কিছু ঔষধ / ফাঙ্গাসজনিত চর্ম রোগের কিছু ঔষধ ইত্যাদি ঔষধ আপনার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ ব্যাতীত খাবেন না।
উপদেশঃ
• গোসলের সময় পরিস্কার করার জন্য রোগাক্রান্ত ত্বক বেশী ঘষবেন না। হাল্কাভাবে পরিস্কার করুন। ক্ষারযুক্ত সাবান এর বদলে গ্লিসারিন যুক্ত সাবান ব্যাবহার করতে পারেন।
• সব সময় খেয়াল রাখবেন আক্রান্তস্থানে যেন আঘাত না লাগে। জোরা জোরে চুলকানোও কিন্তু এক ধরনের আঘাত।
• নিয়মিত ভেসেলিন / ময়েশ্চারাইজার ব্যাবহার করুন। এতে আপনার ত্বক শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা পাবে। শুস্ক ত্বকে সোরিয়াসিস বাড়তে পরে।
• পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি ও ফ্ল খাবেন (টক জাতীয় ছাড়া)
• পরিমিত সুষম আহার করুন – নিয়মিত কিছু সময় হাঁটুন – ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুন।
• আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যাতিত কোনও ঔষধ চালু বা বন্ধ করবেন না। ঔষধ গ্রহণ জনিত কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত আপনার চিকিৎসককে অবহিত করবেন।
• দুশ্চিন্তা, রাগ, মানসিক চাপ ইত্যাদি কারনে সোরিয়াসিস বাড়তে পারে। দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করবেন।
প্রাথমিক অবস্থায় চর্মরোগ দেখা দিলেই আপনার নিকটস্থ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।
সঠিক সময়ে – সঠিক চিকিৎসা করলে চর্ম রোগ ভালো হয়।
ডাঃ সাফানা আহমেদ
এমবিবিএস, ডিডিভি
ফেলো লেজার সার্জারি (থাইল্যান্ড)
চর্ম, এলার্জি ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ
এস্থেটিক ও লেজার সার্জন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়
চেম্বারঃ
শমরিতা হাসপাতাল লিমিটেড, ৮৯/১, পান্থপথ, ঢাকা-১২১৫,
পুরাতন বিল্ডিং, ২য় তলা, রুম নং-২১১
সিরিয়াল – ০১৭৬৬-৩১৫১১১, ০১৮৭৪-৭৫১২৩৩,০১৭৮১-৯১৪১২৪
টেলিফোন- ৯১৩১৯০১ (৬ লাইন) এক্স- ১৭৩/২৩৬
ইমেল- drsafana23@gmail.com, samoritabd@gmail.com





















