ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বদর প্রতিরক্ষা চুক্তির মূলে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঝুঁকি ৩১ অক্টোবর বায়তুল মোকাররমে জামায়াতের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ লিবিয়ায় জিম্মি যুবক, থানায় গিয়েও মিলছে না সহায়তা প্রশান্ত মহাসাগরে তাপমাত্রা রেকর্ড ভাঙার আভাস, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রে ডিভি লটারি ২০২৭ চালুর নির্দেশ আদালতের ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সিঁদুর খেলায় মেহের আফরোজ শাওন বাবার শেষযাত্রায় প্যারোলে মুক্তি পেলেন মৃত্যুর ঘটনা মামলার অভিযোগে কক্সবাজারে সমুদ্রস্নানে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২ প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন জোট ‘বদর’: যুক্ত চার দেশ ফেসবুকে বড় পরিবর্তন: ৩১ অক্টোবর থেকে বন্ধ হচ্ছে রিচ

অনশনে থাকা গাদ্দাফির ছেলেকে নেয়া হলো কারা হাসপাতালে

  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুন ২০২৩
  • / 129
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

লিবিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে হানিবাল গাদ্দাফি গত তিন সপ্তাহ ধরে অনশন করেছেন। এতে স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

অন্যায়ভাবে আটকের প্রতিবাদে তিনি এ অনশন করেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে মামলার সাথে সম্পৃক্ত এক কর্মকর্তা।

শুক্রবার (২৩ জুন) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

ওই কর্মকর্তার সূত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ জুন থেকে অনশন শুরু করেন হানিবাল গাদ্দাফি। এ সময় তিনি কেবল সামান্য পানি খেয়েই টিকে ছিলেন। অবশেষে বুধবার রক্তচাপ কমে যাওয়া ও মেরুদণ্ডে প্রদাহের কারণে বৈরুতের হোটেল-ডিউ ডি ফ্রান্স হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। এ সময় তাকে সিরাম, অ্যান্টিবায়োটিক ও খাদ্য সম্পূরক দেয়া হয়। পরে স্বাস্থ্যে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে হলে ফের কারাগারে নেয়া হয়।

কর্মকর্তা আরো জানান, একটি ছোট ঘরে বন্দী থাকার কারণে হানিবাল গাদ্দাফি পিঠের ব্যথায় ভুগছিলেন। সেখানে তিনি অবাধে চলাফেরা করতে পারেন না। পারেন না শরীরচর্চাও করতে।

হানিবাল গাদ্দাফিকে ২০১৫ সালে লেবানন থেকে আটক করা হয়। সেখানে তিনি রাজনৈতিক শরণার্থী হিসেবে ছিলেন। মূলত ৪৫ বছর আগে লিবিয়া থেকে নিখোঁজ লেবানিজ শিয়া ধর্মগুরু মুসা আল-সদরের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য নেয়ার জন্য তাকে আটক করা হয়। পরে লেবানন পুলিশ ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা হ্যানিবলকে উত্তর-পূর্বের শহর বালবেক থেকে আটক করেছে। এরপর থেকে তাকে বিনা বিচারে বৈরুতের কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

ধর্মগুরুর পরিবার বিশ্বাস করে, আল-সদর এখনো লিবিয়ার কোনো কারাগারে জীবিত থাকতে পারেন। অবশ্য বেশির ভাগ লেবাননের ধারণা, আল-সদর মারা গেছেন। বেঁচে থাকলে এখন তার বয়স হবে ৯৪ বছর।

আল-সদর ছিলেন আমাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। এটা লেবানিজ প্রতিরোধ ব্রিগেডের সংক্ষিপ্ত রূপ। দলটি পরে লেবাননের ১৯৭৫-১৯৯০ গৃহযুদ্ধে লড়াই করেছিল। লেবাননের শক্তিশালী পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এই দলের প্রধান।

আল-সদরের বেশিরভাগ কর্মী বিশ্বাস করে যে মুয়াম্মার গাদ্দাফি লেবানিজ মিলিশিয়াদের লিবিয়ার অর্থ প্রদানের বিরোধে আল-সদরকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তারা আরো বিশ্বাস করে, আল-সদর ও তার দুই ভ্রমণ সঙ্গী ১৯৭৮ সালে রোমের একটি ফ্লাইটে ত্রিপোলি ছেড়েছিলেন। এ সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি শিয়াদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ের শিকার হয়েছেন।

মুয়াম্মার গাদ্দাফি ২০১১ সালে বিরোধী যোদ্ধাদের হাতে নিহত হন। এর মধ্য দিয়ে উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে তার চার দশকের শাসনের অবসান ঘটে।

আল-সদর নিখোঁজ হওয়ার দুই বছর আগে হানিবাল গাদ্দাফির জন্ম হয়েছিল।

সূত্র : আরব নিউজ

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অনশনে থাকা গাদ্দাফির ছেলেকে নেয়া হলো কারা হাসপাতালে

আপডেট সময় : ১০:৫৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুন ২০২৩

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

লিবিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে হানিবাল গাদ্দাফি গত তিন সপ্তাহ ধরে অনশন করেছেন। এতে স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

অন্যায়ভাবে আটকের প্রতিবাদে তিনি এ অনশন করেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে মামলার সাথে সম্পৃক্ত এক কর্মকর্তা।

শুক্রবার (২৩ জুন) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

ওই কর্মকর্তার সূত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ জুন থেকে অনশন শুরু করেন হানিবাল গাদ্দাফি। এ সময় তিনি কেবল সামান্য পানি খেয়েই টিকে ছিলেন। অবশেষে বুধবার রক্তচাপ কমে যাওয়া ও মেরুদণ্ডে প্রদাহের কারণে বৈরুতের হোটেল-ডিউ ডি ফ্রান্স হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। এ সময় তাকে সিরাম, অ্যান্টিবায়োটিক ও খাদ্য সম্পূরক দেয়া হয়। পরে স্বাস্থ্যে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে হলে ফের কারাগারে নেয়া হয়।

কর্মকর্তা আরো জানান, একটি ছোট ঘরে বন্দী থাকার কারণে হানিবাল গাদ্দাফি পিঠের ব্যথায় ভুগছিলেন। সেখানে তিনি অবাধে চলাফেরা করতে পারেন না। পারেন না শরীরচর্চাও করতে।

হানিবাল গাদ্দাফিকে ২০১৫ সালে লেবানন থেকে আটক করা হয়। সেখানে তিনি রাজনৈতিক শরণার্থী হিসেবে ছিলেন। মূলত ৪৫ বছর আগে লিবিয়া থেকে নিখোঁজ লেবানিজ শিয়া ধর্মগুরু মুসা আল-সদরের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য নেয়ার জন্য তাকে আটক করা হয়। পরে লেবানন পুলিশ ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা হ্যানিবলকে উত্তর-পূর্বের শহর বালবেক থেকে আটক করেছে। এরপর থেকে তাকে বিনা বিচারে বৈরুতের কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

ধর্মগুরুর পরিবার বিশ্বাস করে, আল-সদর এখনো লিবিয়ার কোনো কারাগারে জীবিত থাকতে পারেন। অবশ্য বেশির ভাগ লেবাননের ধারণা, আল-সদর মারা গেছেন। বেঁচে থাকলে এখন তার বয়স হবে ৯৪ বছর।

আল-সদর ছিলেন আমাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। এটা লেবানিজ প্রতিরোধ ব্রিগেডের সংক্ষিপ্ত রূপ। দলটি পরে লেবাননের ১৯৭৫-১৯৯০ গৃহযুদ্ধে লড়াই করেছিল। লেবাননের শক্তিশালী পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এই দলের প্রধান।

আল-সদরের বেশিরভাগ কর্মী বিশ্বাস করে যে মুয়াম্মার গাদ্দাফি লেবানিজ মিলিশিয়াদের লিবিয়ার অর্থ প্রদানের বিরোধে আল-সদরকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তারা আরো বিশ্বাস করে, আল-সদর ও তার দুই ভ্রমণ সঙ্গী ১৯৭৮ সালে রোমের একটি ফ্লাইটে ত্রিপোলি ছেড়েছিলেন। এ সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি শিয়াদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ের শিকার হয়েছেন।

মুয়াম্মার গাদ্দাফি ২০১১ সালে বিরোধী যোদ্ধাদের হাতে নিহত হন। এর মধ্য দিয়ে উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে তার চার দশকের শাসনের অবসান ঘটে।

আল-সদর নিখোঁজ হওয়ার দুই বছর আগে হানিবাল গাদ্দাফির জন্ম হয়েছিল।

সূত্র : আরব নিউজ

বিডিসংবাদ/এএইচএস