ইমিগ্রেশন ছাড়াই দিল্লি থেকে লাপাত্তা ৩ বিদেশি
- আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 21
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও যাত্রী ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ত্রুটির ঘটনা সামনে এসেছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই তিন বিদেশি নাগরিক মিউনিখগামী একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে চেপে দেশত্যাগ করেছেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট এয়ার ইন্ডিয়াকে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫০ মিনিটে, যখন তিন ইতালীয় নাগরিক অমৃতসর থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১১১৫ ফ্লাইটে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এরপর রাত ১টা ৪৫ মিনিটে তারা লুফথানসার এলএইচ-৭৬৩ ফ্লাইটে জার্মানির মিউনিখের উদ্দেশ্যে রওনা হন। অথচ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ওঠার পূর্বশর্ত হিসেবে যে বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন পার হওয়া প্রয়োজন, তা তারা সম্পন্ন করেননি। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, অমৃতসর থেকে আসার সময় ওই তিন যাত্রীকে অভ্যন্তরীণ বা ডমেস্টিক ফ্লাইটের জন্য ‘ডি’ শ্রেণির বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের বোর্ডিং পাসও সরবরাহ করা হয়েছিল, যা নিয়মবহির্ভূত।
তদন্তে উঠে এসেছে, দিল্লিতে পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক যাত্রী হিসেবে তাদের ইমিগ্রেশন ডেস্কে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা গেট ৩৯ ব্যবহার করে সরাসরি আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার এলাকায় চলে যান। সেখানে ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্ট এড়িয়ে তারা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের গেট দিয়ে বিমানে উঠে পড়েন। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কারো চোখে না পড়লেও পরবর্তী ম্যানুয়াল রিকনসিলিয়েশনের সময় এটি ধরা পড়ে।
এই নিরাপত্তা লঙ্ঘনের দায়ে এয়ার ইন্ডিয়ার ডমেস্টিক ও ইন্টারন্যাশনাল অপারেশনসের পাঁচটি বিধি ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়েছে। মূলত, বোর্ডিং পাসের শ্রেণি বিভাজন না মানা, ডমেস্টিক ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আলাদা করতে ব্যর্থ হওয়া এবং ভুল যাত্রীকে ট্রান্সফার এরিয়াতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়াকে বড় ধরনের গাফিলতি হিসেবে দেখছে মন্ত্রণালয়। এছাড়া বিমানবন্দরে দায়িত্বরত নজরদারি দল ও নোডাল কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ঘটনার যথাযথ জবাব না পেলে সংস্থাটির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এয়ার ইন্ডিয়া ও এসএটিএসের কর্মীদের দায়বদ্ধতা এবং যাত্রীদের তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


























