ঢাকা ১০:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলকাতায় পূজামণ্ডপ ধসে ১৭ জনের প্রাণহানি, আহত অন্তত ২০ ভারতে বিমানের অস্বাভাবিক ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারকে এক মাস সময় তিন বছর পূর্তিতে ঢাকাইয়াদের মিলনমেলায় মুখর ডিপিসি ঝিনাইদহে পারিবারিক বিবাদে পৃথক ঘটনায় প্রাণ হারালেন দুই ভাই প্রধানমন্ত্রী -: প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে সরকার শামা ওবায়েদ: মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড ‘আমাদের জন্য শিক্ষা’ সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: বিস্তারিত তথ্যের জন্য চিঠি কনস্যুলেটের ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৩ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ মুচলেকা দিয়ে দিল্লির আদালত থেকে মুক্তি পেলেন অভিজিৎ দীপকে ঢাবিতে ১০৭ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পেলেন সাদা ছড়ি

ওলির সাথে যে চুক্তি করে প্রধানমন্ত্রী হলেন প্রচন্ড, মাথাব্যথা বাড়বে ভারতের!

  • আপডেট সময় : ০১:২২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২২
  • / 141
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

নাটকীয়ই বটে! নেপালের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন সকালে। দুপুর গড়াতেই বিরোধী সিপিএন-ইউএমএল-সহ ছোট দলগুলো বাড়ায় সমর্থনের হাত। তাদের সমর্থনে নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সিপিএন-মাওয়িস্ট সেন্টার নেতা পুষ্পকুমার দহল ওরফে ‘প্রচন্ড’। আজ সোমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে পারেন।

ভারতের একটি পত্রিকার মতে, ভারতপন্থী হিসেবে বিবেচিত দিউবাকে বাদ দিয়ে নতুন সরকার গঠন ভারত-নেপালের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ অতীতে ভূখণ্ড সংক্রান্ত বিষয়ে নয়াদিল্লিকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেছেন প্রচন্ড এবং কেপি শর্মা ওলি। দুজনই চীনপন্থী হিসেবে বিবেচিত অনেকের কাছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দলের সাথে চুক্তি হয়েছে প্রচন্ডের দলের। দুই দল থেকেই ভাগাভাগি করে হবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রচন্ডের দাবি মেনে তাকে প্রথম প্রধানমন্ত্রী করার বিষয়ে সায় দিয়েছেন ওলি। তাই এখন প্রচন্ডই হচ্ছেন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী। পরের দফায় প্রধানমন্ত্রী হবেন ওলি।

রোববার সকালেই নেপালি কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন পাঁচ দলের জোট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন প্রচন্ড। তাকে প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রিত্ব দিতে রাজি হননি প্রধানমন্ত্রী তথা নেপাল কংগ্রেসের প্রধান শের বাহাদুর দেউবা। এমনকি, প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের পদও নিজেদের দখলেই রাখতে চেয়েছিলেন দেউবা। সিপিএন-এমসিকে আপাতত স্পিকারের পদই দিতে চেয়েছিলেন। রাজি হননি প্রচন্ড। ওই কারণে জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি।

এর পর রোববার ওলির বাসকোটের বাসভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে প্রচন্ডের নেতৃত্বাধীন সিপিএন-এমসি, ওলির নেতৃত্বাধীন সিপিএন-ইউএমএল, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) এবং অন্য ছোট ছোট দল। ছিলেন সব দলের শীর্ষ নেতারা। নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে জোট সরকার গড়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দলগুলো। সিপিএন-এমসি নেতা দেব গুরুঙ্গ জানান, নেপালের সংবিধানের ৭৬ (২) ধারা মেনে ১৬৫ জন আইনপ্রণেতা চুক্তিতে সই করেছেন। প্রেসিডেন্টের কাছে সেই চুক্তি পাঠানো হবে।

নেপালে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যসংখ্যা ২৭৫। সেখানে ১৬৫ জনের সমর্থন পেয়েছে নতুন জোট সরকার। তার মধ্যে সিপিএন-ইউএমএলের ৭৮ জনের সমর্থন পেয়েছে নতুন জোট সরকার। প্রচণ্ডের দল সিপিএন-এমসির ৩২ জনের সমর্থন রয়েছে। আরএসপির ২০ জন, আরপিপির ১৪ জন, জেএসপির ১২ জন, জনমত দলের ছয় ন এবং নাগরিক উন্মুক্তি পার্টির তিনজনের সমর্থন রয়েছে।

সিপিএন-ইউএমএলের সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর পোখারেল বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয়েও নেপালি কংগ্রেস সরকার গড়তে পারেনি। এখন প্রচণ্ডের নেতৃত্বে সিপিএন-ইউএমএলের নতুন সরকার গড়তে উদ্যোগী হয়েছে। তাতে সমর্থন রয়েছে ১৬৫ জন আইনপ্রণেতার।’

উল্লেখ্য, নেপালের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হলো নেপালি কংগ্রেস। তাদের আসন সংখ্যা ৮৯। সরকার গড়ার জন্য ১৩৮ জনের সমর্থন প্রয়োজন। সেখানে নতুন জোট সরকারের ১৬৫ জনের সমর্থন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে আস্থাভোটে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে প্রচন্ডকে।

একনজরে নেপালের বর্তমান অবস্থা
১) নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপালের (মাওবাদী সেন্টার) নেতা বর্শামান পান জানান, আড়াই বছর নয়া সরকারের নেতৃত্ব দেবেন প্রচন্ড। আড়াই বছর ক্ষমতায় থাকবে সিপিএন-ইউএমএল।

২) নেপালি কংগ্রেস পার্টি মূল বিরোধী দল হতে চলেছে। ৮৯ আসন আছে নেপালি কংগ্রেসের পার্টির হাতে।

৩) ২০০৮ সাল থেকে নেপালে ১০ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। এ সময় হিমালয়-পরিবেষ্টিত দেশে ২৩৯ সালের রাজশাসনে ইতি পড়েছিল।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, আনন্দবাজার ও অন্যান্য

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ওলির সাথে যে চুক্তি করে প্রধানমন্ত্রী হলেন প্রচন্ড, মাথাব্যথা বাড়বে ভারতের!

আপডেট সময় : ০১:২২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২২

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

নাটকীয়ই বটে! নেপালের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন সকালে। দুপুর গড়াতেই বিরোধী সিপিএন-ইউএমএল-সহ ছোট দলগুলো বাড়ায় সমর্থনের হাত। তাদের সমর্থনে নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সিপিএন-মাওয়িস্ট সেন্টার নেতা পুষ্পকুমার দহল ওরফে ‘প্রচন্ড’। আজ সোমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে পারেন।

ভারতের একটি পত্রিকার মতে, ভারতপন্থী হিসেবে বিবেচিত দিউবাকে বাদ দিয়ে নতুন সরকার গঠন ভারত-নেপালের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ অতীতে ভূখণ্ড সংক্রান্ত বিষয়ে নয়াদিল্লিকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেছেন প্রচন্ড এবং কেপি শর্মা ওলি। দুজনই চীনপন্থী হিসেবে বিবেচিত অনেকের কাছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দলের সাথে চুক্তি হয়েছে প্রচন্ডের দলের। দুই দল থেকেই ভাগাভাগি করে হবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রচন্ডের দাবি মেনে তাকে প্রথম প্রধানমন্ত্রী করার বিষয়ে সায় দিয়েছেন ওলি। তাই এখন প্রচন্ডই হচ্ছেন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী। পরের দফায় প্রধানমন্ত্রী হবেন ওলি।

রোববার সকালেই নেপালি কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন পাঁচ দলের জোট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন প্রচন্ড। তাকে প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রিত্ব দিতে রাজি হননি প্রধানমন্ত্রী তথা নেপাল কংগ্রেসের প্রধান শের বাহাদুর দেউবা। এমনকি, প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের পদও নিজেদের দখলেই রাখতে চেয়েছিলেন দেউবা। সিপিএন-এমসিকে আপাতত স্পিকারের পদই দিতে চেয়েছিলেন। রাজি হননি প্রচন্ড। ওই কারণে জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি।

এর পর রোববার ওলির বাসকোটের বাসভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে প্রচন্ডের নেতৃত্বাধীন সিপিএন-এমসি, ওলির নেতৃত্বাধীন সিপিএন-ইউএমএল, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) এবং অন্য ছোট ছোট দল। ছিলেন সব দলের শীর্ষ নেতারা। নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে জোট সরকার গড়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দলগুলো। সিপিএন-এমসি নেতা দেব গুরুঙ্গ জানান, নেপালের সংবিধানের ৭৬ (২) ধারা মেনে ১৬৫ জন আইনপ্রণেতা চুক্তিতে সই করেছেন। প্রেসিডেন্টের কাছে সেই চুক্তি পাঠানো হবে।

নেপালে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যসংখ্যা ২৭৫। সেখানে ১৬৫ জনের সমর্থন পেয়েছে নতুন জোট সরকার। তার মধ্যে সিপিএন-ইউএমএলের ৭৮ জনের সমর্থন পেয়েছে নতুন জোট সরকার। প্রচণ্ডের দল সিপিএন-এমসির ৩২ জনের সমর্থন রয়েছে। আরএসপির ২০ জন, আরপিপির ১৪ জন, জেএসপির ১২ জন, জনমত দলের ছয় ন এবং নাগরিক উন্মুক্তি পার্টির তিনজনের সমর্থন রয়েছে।

সিপিএন-ইউএমএলের সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর পোখারেল বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয়েও নেপালি কংগ্রেস সরকার গড়তে পারেনি। এখন প্রচণ্ডের নেতৃত্বে সিপিএন-ইউএমএলের নতুন সরকার গড়তে উদ্যোগী হয়েছে। তাতে সমর্থন রয়েছে ১৬৫ জন আইনপ্রণেতার।’

উল্লেখ্য, নেপালের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হলো নেপালি কংগ্রেস। তাদের আসন সংখ্যা ৮৯। সরকার গড়ার জন্য ১৩৮ জনের সমর্থন প্রয়োজন। সেখানে নতুন জোট সরকারের ১৬৫ জনের সমর্থন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে আস্থাভোটে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে প্রচন্ডকে।

একনজরে নেপালের বর্তমান অবস্থা
১) নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপালের (মাওবাদী সেন্টার) নেতা বর্শামান পান জানান, আড়াই বছর নয়া সরকারের নেতৃত্ব দেবেন প্রচন্ড। আড়াই বছর ক্ষমতায় থাকবে সিপিএন-ইউএমএল।

২) নেপালি কংগ্রেস পার্টি মূল বিরোধী দল হতে চলেছে। ৮৯ আসন আছে নেপালি কংগ্রেসের পার্টির হাতে।

৩) ২০০৮ সাল থেকে নেপালে ১০ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। এ সময় হিমালয়-পরিবেষ্টিত দেশে ২৩৯ সালের রাজশাসনে ইতি পড়েছিল।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, আনন্দবাজার ও অন্যান্য

বিডিসংবাদ/এএইচএস