টেকনাফের পাহাড়ে তল্লাশি শেষে যা জানালো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
- আপডেট সময় : ০২:৫৮:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ও রঙ্গীখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ দল। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নিলেও সেখানে কোনো মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কয়েক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে দুর্গম পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে, তবে সেখানে মরদেহ বা কাউকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া মরদেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান শেষ করে ফিরে আসে যৌথ বাহিনী।
স্থানীয়দের মধ্যে অনেকে ধারণা করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় হয়তো মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা রাতের আঁধারে মরদেহ সরিয়ে ফেলেছে। অভিযানে অংশ নেওয়া জাদিমুরা গ্রামের বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন ভুট্টো জানান, পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে রান্নার কাজে ব্যবহৃত কিছু পাতিল, সৌর প্যানেল ও বিছানাপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে দুর্গম পাহাড়ে মরদেহের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি। এই এলাকাটি অত্যন্ত প্রতিকূল হওয়ায় কোনো কিছু খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। তবে, স্থানীয়দের ধারণা, সম্ভবত সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি চাউর হওয়ায় গভীর রাতে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য্যরা লাশগুলো সরিয়ে ফেলতে পারে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই এলাকায় মানবপাচারকারীদের একটি গোপন আস্তানায় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ৫৬ জনকে উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় গোলাগুলির সময় সেনাবাহিনীর সৈনিক মোহাম্মদ তিতাস শেখ (২৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এবং পাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়। গোলাগুলির ঘটনার পর থেকেই পাহাড়ে মরদেহ পড়ে থাকার তথ্যটি চাউর হয়। উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরাও সেখানে মৃতদেহ থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছিলেন, মরদেহ থাকার খবর পাওয়া গেছে, তবে উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য ও রহস্যজনক পরিস্থিতির কারণে পুরো ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে, যদিও বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন তথ্যের সত্যতা মেলেনি। তবে যতক্ষণ না সেগুলো উদ্ধার হচ্ছে তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না, সেখানে আসলে কোনো মরদেহগুলো আছে কিনা। অভিযান চলাকালে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র পাচারকারীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।























