ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

দুই দশকের মার্কিন সামরিক অভিযানের ইতি টানল ইরাক

  • আপডেট সময় : ১০:৩২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরাকের মাটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। মঙ্গলবারের শেষ সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে দেশটিতে ২০০৩ সালে শুরু হওয়া মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি নিশ্চিত হলো। এই প্রস্থানকে ইরাক সরকার তাদের জাতীয় ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’ হিসেবে উদযাপন করছে, তবে একই সঙ্গে দেশটির দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রত্যাহারের নেপথ্যের কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট

ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করার নির্ধারিত চূড়ান্ত সময়সীমা ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। তবে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই শেষ ব্যাচের সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হয়, যা দেশটিতে মার্কিন সামরিক জোটের দীর্ঘদিনের মোতায়েনের অবসান ঘটায়। এই পরিকল্পনার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ২০২৪ সালে, যখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সঙ্গে ইরাক সরকার একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় পৌঁছায়। সেই সময়ে ইরাকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল, যাদের পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হয়।

অভিযানের বিবর্তন ও ইতিহাস

২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে ইরাকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তী বছরগুলোতে দেশটিতে মার্কিন সেনার উপস্থিতি কয়েক গুণ বেড়েছিল; ২০০৭ সালে সেই সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছে গিয়েছিল। যদিও ২০১১ সালে বড় পরিসরে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কিন্তু ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানের পর পরিস্থিতি বদলে যায় এবং আইএসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আবারও ইরাকে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়।

নিরাপত্তা নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ

মার্কিন বাহিনীর বিদায়কে ইরানের ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের বড় বিজয় হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ইরাকে তেহরানের প্রভাবের বিপরীতে একটি ভারসাম্য বজায় রাখত। এখন মার্কিন গোয়েন্দা ও নজরদারি সহায়তা ছাড়া আইএসের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) কাঠামোর সাথে যুক্ত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি ইরাক

  • ইরাকি সরকার দাবি করছে, বিদেশি সহায়তা ছাড়াই নিজস্ব বাহিনী এখন দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পুরোপুরি সক্ষম।
  • নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা সহায়তা হারানোর ফলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নজরদারি করা ইরাকি বাহিনীর জন্য কঠিন হতে পারে।
  • মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব আঞ্চলিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
  • জাতীয় সার্বভৌমত্ব অর্জনের তৃপ্তি এবং নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরির আশঙ্কা—এই দুই বিপরীত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে ইরাক এখন এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দুই দশকের মার্কিন সামরিক অভিযানের ইতি টানল ইরাক

আপডেট সময় : ১০:৩২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরাকের মাটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। মঙ্গলবারের শেষ সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে দেশটিতে ২০০৩ সালে শুরু হওয়া মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি নিশ্চিত হলো। এই প্রস্থানকে ইরাক সরকার তাদের জাতীয় ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’ হিসেবে উদযাপন করছে, তবে একই সঙ্গে দেশটির দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রত্যাহারের নেপথ্যের কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট

ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করার নির্ধারিত চূড়ান্ত সময়সীমা ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। তবে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই শেষ ব্যাচের সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হয়, যা দেশটিতে মার্কিন সামরিক জোটের দীর্ঘদিনের মোতায়েনের অবসান ঘটায়। এই পরিকল্পনার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ২০২৪ সালে, যখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সঙ্গে ইরাক সরকার একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় পৌঁছায়। সেই সময়ে ইরাকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল, যাদের পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হয়।

অভিযানের বিবর্তন ও ইতিহাস

২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে ইরাকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তী বছরগুলোতে দেশটিতে মার্কিন সেনার উপস্থিতি কয়েক গুণ বেড়েছিল; ২০০৭ সালে সেই সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছে গিয়েছিল। যদিও ২০১১ সালে বড় পরিসরে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কিন্তু ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানের পর পরিস্থিতি বদলে যায় এবং আইএসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আবারও ইরাকে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়।

নিরাপত্তা নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ

মার্কিন বাহিনীর বিদায়কে ইরানের ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের বড় বিজয় হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ইরাকে তেহরানের প্রভাবের বিপরীতে একটি ভারসাম্য বজায় রাখত। এখন মার্কিন গোয়েন্দা ও নজরদারি সহায়তা ছাড়া আইএসের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) কাঠামোর সাথে যুক্ত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি ইরাক

  • ইরাকি সরকার দাবি করছে, বিদেশি সহায়তা ছাড়াই নিজস্ব বাহিনী এখন দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পুরোপুরি সক্ষম।
  • নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা সহায়তা হারানোর ফলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নজরদারি করা ইরাকি বাহিনীর জন্য কঠিন হতে পারে।
  • মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব আঞ্চলিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
  • জাতীয় সার্বভৌমত্ব অর্জনের তৃপ্তি এবং নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরির আশঙ্কা—এই দুই বিপরীত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে ইরাক এখন এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে।