নগর ভবনে সন্ত্রাসী বগার উপস্থিতি নিয়ে পুলিশের ধোঁয়াশাপূর্ণ বক্তব্য
- আপডেট সময় : ১২:৩৭:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা অবস্থান করছেন—এমন খবরের পর এলাকায় পুলিশের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নগর ভবন এলাকায় পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যকে দেখা যায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বগার অনুসারী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে হট্টগোল সৃষ্টি করেন, যা ওই এলাকায় সাময়িক উত্তেজনার জন্ম দেয়। সূত্র বলছে, বগার উপস্থিতির নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পরই পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। এতে কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে পুলিশের বক্তব্যের কারণে। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এ বিষয়ে কোনো অভিযানের কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের নিয়মিত টহলগাড়ি ওই পথে থাকতে পারে, তবে কোনো অভিযান পরিচালনার কোনো নির্দেশ ছিল না। তার দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বড় ধরনের কোনো অভিযান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এদিকে সংশ্লিষ্ট আরেকটি পুলিশি সূত্রের দাবি, খুলশী থানা ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের বেশ কয়েকটি দল সেখানে অভিযানে গিয়েছিল, যদিও সেখানে বগাকে পাওয়া গেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা এলাকায় ‘বিহারি বগা’ হিসেবে পরিচিত এবং পুলিশি তালিকায় তিনি একজন সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত। চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও বিস্ফোরক ব্যবহারের মতো অপরাধে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন, তবে অপরাধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় চলতি বছরের ৮ জুন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বগা বর্তমানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অপরাধমূলক ঘটনায় পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন। গত ৪ সেপ্টেম্বর নগরের ওয়্যারলেস এলাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে খুলশী থানার ওসিসহ একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সেসময় বগা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এছাড়াও গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়্যারলেস কলোনিতে হৃদয় নামের এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় বগার নাম আলোচনায় আসে। পুলিশের ভাষ্যমতে, হত্যাকাণ্ডের আগে ওই কিশোরকে বগার কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বগার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। তবে ওই হত্যাকাণ্ডে বগার সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।

























