ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাজ্যে ‘লিখিত সংবিধান থাকা জরুরি’ : বার্নহ্যাম ইরানে নতুন হামলা থেকে আপাতত বিরত থাকবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল : ট্রাম্প নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান অর্থ উপদেষ্টার তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী ঢাকার চারপাশে নৌপথ সচল করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে উদ্বোধনী জুটি নিয়ে চিন্তায় বাংলাদেশ মিরপুরে অনূর্ধ্ব-২৩ ক্যাম্প শুরু করল বিসিবি টঙ্গীতে পর্দা নামল প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কর প্রণোদনা জুলাইয়ে প্রবাসী রেমিট্যান্স বেড়ে ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ১৫.৪ শতাংশ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান অর্থ উপদেষ্টার

  • আপডেট সময় : ১১:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকে সরকারি কর্মসূচির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের চাহিদা ও সচেতনতা তৈরি করা গেলে বাজারও সেই চাহিদা অনুসরণ করবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার নীতিগত সংস্কার, কর-প্রণোদনা, স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সহজ অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

রোববার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইআরএফ আয়োজিত কর্মশালায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিকল্প নেই। আর এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কেন্দ্র করে গণসচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তার ভাষায়, ‘প্রথম কাজ হচ্ছে মানুষের চাহিদা তৈরি করা। চাহিদা তৈরি হলে সরবরাহও সেই পথেই এগোবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণসাক্ষরতা অভিযান, খাল খনন কর্মসূচি এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল বলেই সফল হয়েছে। একইভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এনজিও, নাগরিক সমাজ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

উপদেষ্টা বলেন, গৃহস্থালি পর্যায়ে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে গ্যাস ও এলপিজির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় কমার পাশাপাশি সঞ্চয় বাড়বে এবং সেই অর্থ অন্য খাতে ব্যয় ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে দেশের আমদানি ব্যয়ও কমবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি জানান, সরকার সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও ইনভার্টারসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেশে উৎপাদনে উৎসাহ দিচ্ছে। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কর-কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমসহ সহজ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণেও কাজ চলছে।

ড. তিতুমীর বলেন, প্রতিটি এনজিও তাদের কর্মসূচির অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে। প্রয়োজন হলে পুনঃঅর্থায়ন ও সহজ শর্তে অর্থায়নের নতুন উদ্যোগও নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শুধু কর-প্রণোদনার ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদে নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে এ খাতকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চায় সরকার।

আগের স্বৈরাচার সরকারের সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতে একটি ‘বিষাক্ত ব্যবস্থা’ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। দীর্ঘদিন গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় দেশকে আমদানিনির্ভরতার চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতের বিষাক্ত ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে চাই না; সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।’

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে অনিশ্চয়তাই নতুন বাস্তবতা। তাই আমদানিনির্ভরতার পরিবর্তে স্বাবলম্বী জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যেই সরকার ধাপে ধাপে এনার্জি মিক্সে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। গৃহস্থালি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। এনজিও, বাংলাদেশ ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, পল্লী বিদ্যুৎসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উপজেলা ও গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত জনসচেতনতা সৃষ্টি করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকে জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে পারলে বাংলাদেশ জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান অর্থ উপদেষ্টার

আপডেট সময় : ১১:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকে সরকারি কর্মসূচির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের চাহিদা ও সচেতনতা তৈরি করা গেলে বাজারও সেই চাহিদা অনুসরণ করবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার নীতিগত সংস্কার, কর-প্রণোদনা, স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সহজ অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

রোববার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইআরএফ আয়োজিত কর্মশালায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিকল্প নেই। আর এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কেন্দ্র করে গণসচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তার ভাষায়, ‘প্রথম কাজ হচ্ছে মানুষের চাহিদা তৈরি করা। চাহিদা তৈরি হলে সরবরাহও সেই পথেই এগোবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণসাক্ষরতা অভিযান, খাল খনন কর্মসূচি এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল বলেই সফল হয়েছে। একইভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এনজিও, নাগরিক সমাজ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

উপদেষ্টা বলেন, গৃহস্থালি পর্যায়ে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে গ্যাস ও এলপিজির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় কমার পাশাপাশি সঞ্চয় বাড়বে এবং সেই অর্থ অন্য খাতে ব্যয় ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে দেশের আমদানি ব্যয়ও কমবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি জানান, সরকার সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও ইনভার্টারসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেশে উৎপাদনে উৎসাহ দিচ্ছে। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কর-কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমসহ সহজ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণেও কাজ চলছে।

ড. তিতুমীর বলেন, প্রতিটি এনজিও তাদের কর্মসূচির অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে। প্রয়োজন হলে পুনঃঅর্থায়ন ও সহজ শর্তে অর্থায়নের নতুন উদ্যোগও নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শুধু কর-প্রণোদনার ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদে নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে এ খাতকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চায় সরকার।

আগের স্বৈরাচার সরকারের সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতে একটি ‘বিষাক্ত ব্যবস্থা’ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। দীর্ঘদিন গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় দেশকে আমদানিনির্ভরতার চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতের বিষাক্ত ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে চাই না; সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।’

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে অনিশ্চয়তাই নতুন বাস্তবতা। তাই আমদানিনির্ভরতার পরিবর্তে স্বাবলম্বী জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যেই সরকার ধাপে ধাপে এনার্জি মিক্সে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। গৃহস্থালি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। এনজিও, বাংলাদেশ ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, পল্লী বিদ্যুৎসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উপজেলা ও গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত জনসচেতনতা সৃষ্টি করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকে জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে পারলে বাংলাদেশ জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস