ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দুর্গাপূজা রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা: রাষ্ট্রপতি জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটুট প্রতিশ্রুতি: প্রধানমন্ত্রী রিজেন্ট এয়ারওয়েজের মূল প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের নির্দেশ হাইকোর্টের ২৪ অক্টোবর নিউইয়র্কে এএবিইএ-এর দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ইসরাইলের নির্বাচনে আরব ভোট ও নেতানিয়াহুর রাজনীতির হিসাব জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই আগামীর মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী দখলমুক্ত হয়ে খেলার মাঠ এখন শিশুদের জন্য উন্মুক্ত সাতক্ষীরায় আলোচিত যুবক মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ভিয়েতনামের কোয়াং ত্রি বিমানবন্দরে সফল কারিগরি ফ্লাইট পরিচালনা প্রধানমন্ত্রী: জাতীয় স্বার্থে সরকার সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব সুদৃঢ়

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডার পদত্যাগ

  • আপডেট সময় : ০৩:২৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৩
  • / 134
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আগামী বছর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে জানিয়েছেন। আগামী মাসের ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন। আর কিছু দেয়ার নেই বলেই তিনি সরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

অনেক কষ্টে কান্না চেপে জেসিন্ডা বৃহস্পতিবার নেপিয়ারে সাংবাদিকদের বলেন, ৭ ফেব্রুয়ারি হবে তার শেষ অফিস।

তিনি বলেন, ‌আমি চলে যাচ্ছি, কারণ কাজটি কঠিন।’ তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কী করবেন, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে একটু সময় নেবেন।

কিউই প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘কাজটা কঠিন বলে আমি ছেড়ে দিচ্ছি না। সেটাই যদি হতো, তাহলে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দু’মাস পরেই সেই কাজটা করতাম। আমি ছেড়ে যাচ্ছি কারণ এরকম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে বাড়তি দায়িত্ব চাপে। নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আপনিই সঠিক ব্যক্তি কিনা, তা জানার দায়িত্ব আসে। সেইসঙ্গে আপনি যখন নেতৃত্ব দেওয়ার সঠিক লোক হন না, সেটা বোঝার দায়িত্বও থাকে। আমি জানি যে এই দায়িত্ব পালনের জন্য কতটা শক্তি প্রয়োজন। আমি এটাও জানি যে সেই দায়িত্বের প্রতি সদ্ব্যবহার করার মতো জ্বালানি পড়ে নেই আমার মধ্যে।’

জেসিন্ডা ২০১৭ সালে জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন। চলতি বছর তাকে কঠিন নির্বাচনী পরীক্ষায় পড়তে হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুই বছর আগে উদারপন্থী লেবার পার্টি সহজেই বিপুল বিজয় পেলেও সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে যে রক্ষণশীলেরা বেশ এগিয়ে গেছে।

করোনাভাইরাস মহামারী দমনে তার ভূমিকা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। তবে কড়াকড়িভাবে করোনাবিধি পালন করায় দেশে তিনি সমালোচিত হয়েছেন।

জেসিন্ডা জানান, আগামী ১৪ অক্টোবর পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, আগামী রোববার পরবর্তী লেবার নেতা নির্বাচন করা হবে। তিনি আশা করেন, তার নেতৃত্বে লেবার পার্টি আবার জয়ী হবে।

তিনি ২০১৭ সালে ৩৭ বছর বয়সে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী সরকারপ্রধান নির্বাচিত হন। এর এক বছর পর তিনি দায়িত্ব পালনকালেই বিশ্বে দ্বিতীয় নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে সন্তান জন্ম দেন।

বৃহস্পতিবার একেবারে চমকে দিয়েই দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা করেন নিউজিল্যান্ডের ‘তারকা’ প্রধানমন্ত্রী। যিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রগতিশীল মুখ হয়েছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ‘কঠিন’ সাড়ে পাঁচ বছর কাটিয়েছেন। কিন্তু তিনিও তো মানুষ। তাই তাকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি জানি, এই সিদ্ধান্তের পরে অনেক আলোচনা হবে। আসল কারণ কী, তা খোঁজার চেষ্টা করা হবে। শুধুমাত্র একটাই দিক আপনারা খুঁজে পাবেন, ছয় বছরের কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ সামলালেও দিনের শেষে আমি একজন মানুষ।’ সেইসাথে ৪২ বছরের নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতিবিদরাও মানুষ। যতদিন সম্ভব, আমরা তত দিন নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিই। কিন্তু তারপর সেই সময়টা শেষ হয়ে যায়। আমার ক্ষেত্রে, সময় হয়ে এসেছে।’

সূত্র : আল জাজিরা, বিবিসি ও অন্যান্য

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডার পদত্যাগ

আপডেট সময় : ০৩:২৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৩

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আগামী বছর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে জানিয়েছেন। আগামী মাসের ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন। আর কিছু দেয়ার নেই বলেই তিনি সরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

অনেক কষ্টে কান্না চেপে জেসিন্ডা বৃহস্পতিবার নেপিয়ারে সাংবাদিকদের বলেন, ৭ ফেব্রুয়ারি হবে তার শেষ অফিস।

তিনি বলেন, ‌আমি চলে যাচ্ছি, কারণ কাজটি কঠিন।’ তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কী করবেন, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে একটু সময় নেবেন।

কিউই প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘কাজটা কঠিন বলে আমি ছেড়ে দিচ্ছি না। সেটাই যদি হতো, তাহলে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দু’মাস পরেই সেই কাজটা করতাম। আমি ছেড়ে যাচ্ছি কারণ এরকম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে বাড়তি দায়িত্ব চাপে। নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আপনিই সঠিক ব্যক্তি কিনা, তা জানার দায়িত্ব আসে। সেইসঙ্গে আপনি যখন নেতৃত্ব দেওয়ার সঠিক লোক হন না, সেটা বোঝার দায়িত্বও থাকে। আমি জানি যে এই দায়িত্ব পালনের জন্য কতটা শক্তি প্রয়োজন। আমি এটাও জানি যে সেই দায়িত্বের প্রতি সদ্ব্যবহার করার মতো জ্বালানি পড়ে নেই আমার মধ্যে।’

জেসিন্ডা ২০১৭ সালে জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন। চলতি বছর তাকে কঠিন নির্বাচনী পরীক্ষায় পড়তে হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুই বছর আগে উদারপন্থী লেবার পার্টি সহজেই বিপুল বিজয় পেলেও সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে যে রক্ষণশীলেরা বেশ এগিয়ে গেছে।

করোনাভাইরাস মহামারী দমনে তার ভূমিকা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। তবে কড়াকড়িভাবে করোনাবিধি পালন করায় দেশে তিনি সমালোচিত হয়েছেন।

জেসিন্ডা জানান, আগামী ১৪ অক্টোবর পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, আগামী রোববার পরবর্তী লেবার নেতা নির্বাচন করা হবে। তিনি আশা করেন, তার নেতৃত্বে লেবার পার্টি আবার জয়ী হবে।

তিনি ২০১৭ সালে ৩৭ বছর বয়সে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী সরকারপ্রধান নির্বাচিত হন। এর এক বছর পর তিনি দায়িত্ব পালনকালেই বিশ্বে দ্বিতীয় নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে সন্তান জন্ম দেন।

বৃহস্পতিবার একেবারে চমকে দিয়েই দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা করেন নিউজিল্যান্ডের ‘তারকা’ প্রধানমন্ত্রী। যিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রগতিশীল মুখ হয়েছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ‘কঠিন’ সাড়ে পাঁচ বছর কাটিয়েছেন। কিন্তু তিনিও তো মানুষ। তাই তাকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি জানি, এই সিদ্ধান্তের পরে অনেক আলোচনা হবে। আসল কারণ কী, তা খোঁজার চেষ্টা করা হবে। শুধুমাত্র একটাই দিক আপনারা খুঁজে পাবেন, ছয় বছরের কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ সামলালেও দিনের শেষে আমি একজন মানুষ।’ সেইসাথে ৪২ বছরের নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতিবিদরাও মানুষ। যতদিন সম্ভব, আমরা তত দিন নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিই। কিন্তু তারপর সেই সময়টা শেষ হয়ে যায়। আমার ক্ষেত্রে, সময় হয়ে এসেছে।’

সূত্র : আল জাজিরা, বিবিসি ও অন্যান্য

বিডিসংবাদ/এএইচএস