ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বহরে নতুন বোয়িং ৭৭৭ যুক্ত করল এয়ার চায়না কার্গো

  • আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 5
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক রুটে পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এয়ার চায়না কার্গো তাদের আকাশযান বহরকে আরও শক্তিশালী করেছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি তাদের বহরে ১৪তম বোয়িং ৭৭৭ মালবাহী উড়োজাহাজ যুক্ত করেছে। নতুন এই উড়োজাহাজটির নিবন্ধন নম্বর বি-২২৯ডি। গত ১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের এভারেট কারখানায় তৈরি এই উড়োজাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে এয়ার চায়না কার্গোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিয়াটলের পেইন ফিল্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজটি বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বর্তমানে এয়ার চায়না কার্গোর বহরে থাকা বোয়িং ৭৭৭এফ মডেলের উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টিতে। এগুলোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি আটটি এয়ারবাস এ৩৩০-২০০ এবং দুটি বোয়িং ৭৪৭-৪০০ মালবাহী উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। উল্লেখ্য, যাত্রীবাহী থেকে রূপান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের এই উড়োজাহাজগুলো পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এদিকে এয়ারবাসের সাথে করা চুক্তি অনুযায়ী, গত মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি আরও চারটি এ৩৫০ মালবাহী উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করেছে, যার ফলে এই মডেলে তাদের মোট ক্রয়াদেশের সংখ্যা এখন ১০টিতে পৌঁছেছে। এই নতুন সংযোজনগুলো দীর্ঘমেয়াদে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধু বোয়িং উড়োজাহাজ নয়, এয়ারবাসের মালবাহী উড়োজাহাজ দিয়েও বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে বোয়িং ৭৭৭এফ মডেলের প্রতিটি উড়োজাহাজ একবারে সর্বোচ্চ ১০২ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম। এর উড্ডয়ন পরিসর প্রায় ৯ হাজার ২০০ কিলোমিটার, যা আন্তর্জাতিক আকাশপথে পণ্য চলাচলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। দীর্ঘ দূরত্বের এই উড়োজাহাজগুলো এয়ার চায়নার কার্গো কার্যক্রমকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

অন্যদিকে, বোয়িংয়ের ৭৭৭এফ কর্মসূচির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নির্গমনসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৭ সালের নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করার পরেও উড়োজাহাজটির উৎপাদন ও বিপণন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বোয়িংকে বাজারের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে এবং একই সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের ৭৭৭-৮ মালবাহী উড়োজাহাজ তৈরির প্রস্তুতি ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরও ত্বরান্বিত করবে। এর ফলে ২০২৭ সালের শেষ সময়সীমার পরও উড়োজাহাজটির বিক্রি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বহরে নতুন বোয়িং ৭৭৭ যুক্ত করল এয়ার চায়না কার্গো

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক রুটে পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এয়ার চায়না কার্গো তাদের আকাশযান বহরকে আরও শক্তিশালী করেছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি তাদের বহরে ১৪তম বোয়িং ৭৭৭ মালবাহী উড়োজাহাজ যুক্ত করেছে। নতুন এই উড়োজাহাজটির নিবন্ধন নম্বর বি-২২৯ডি। গত ১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের এভারেট কারখানায় তৈরি এই উড়োজাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে এয়ার চায়না কার্গোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিয়াটলের পেইন ফিল্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজটি বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বর্তমানে এয়ার চায়না কার্গোর বহরে থাকা বোয়িং ৭৭৭এফ মডেলের উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টিতে। এগুলোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি আটটি এয়ারবাস এ৩৩০-২০০ এবং দুটি বোয়িং ৭৪৭-৪০০ মালবাহী উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। উল্লেখ্য, যাত্রীবাহী থেকে রূপান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের এই উড়োজাহাজগুলো পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এদিকে এয়ারবাসের সাথে করা চুক্তি অনুযায়ী, গত মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি আরও চারটি এ৩৫০ মালবাহী উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করেছে, যার ফলে এই মডেলে তাদের মোট ক্রয়াদেশের সংখ্যা এখন ১০টিতে পৌঁছেছে। এই নতুন সংযোজনগুলো দীর্ঘমেয়াদে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধু বোয়িং উড়োজাহাজ নয়, এয়ারবাসের মালবাহী উড়োজাহাজ দিয়েও বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে বোয়িং ৭৭৭এফ মডেলের প্রতিটি উড়োজাহাজ একবারে সর্বোচ্চ ১০২ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম। এর উড্ডয়ন পরিসর প্রায় ৯ হাজার ২০০ কিলোমিটার, যা আন্তর্জাতিক আকাশপথে পণ্য চলাচলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। দীর্ঘ দূরত্বের এই উড়োজাহাজগুলো এয়ার চায়নার কার্গো কার্যক্রমকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

অন্যদিকে, বোয়িংয়ের ৭৭৭এফ কর্মসূচির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নির্গমনসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৭ সালের নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করার পরেও উড়োজাহাজটির উৎপাদন ও বিপণন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বোয়িংকে বাজারের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে এবং একই সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের ৭৭৭-৮ মালবাহী উড়োজাহাজ তৈরির প্রস্তুতি ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরও ত্বরান্বিত করবে। এর ফলে ২০২৭ সালের শেষ সময়সীমার পরও উড়োজাহাজটির বিক্রি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।