ভিপি নুরের নাম ভাঙিয়ে টাকা চাওয়ার অডিও
- আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার রাতে পরিচালিত এক অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অডিওটিতে ‘ভিপি নুরের নির্দেশ—৫ লাখ টাকার কম হবে না’—এমন বক্তব্যের পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ফারুক হোসেনের এই অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশে আলোচনা শুরু হয়।
গ্রেপ্তারের একদিন পর মঙ্গলবার বিকেলে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলা গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান চৌধুরী বাদী হয়ে এই মামলাটি করেছেন। এতে ফারুক হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, নুরুলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির ফলে তার এবং দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে, যা ১০ কোটি টাকার ক্ষতির সমান। এর একদিনের মাথায় মঙ্গলবার বিকেলে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং ১০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ কারণে আমি বাধ্য হয়ে এই মামলা করেছি।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ জানিয়েছেন, দলীয় নেতাদের নাম ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে অর্থ দাবির অভিযোগে ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে অডিও ক্লিপটিতে এক ব্যক্তিকে পাসপোর্ট, ভিসা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও বিএমইটি কার্ডসহ বিভিন্ন কাজের খরচ বাবদ ৫ লাখ টাকা দাবি করতে শোনা যায়। তবে এই অডিওর সত্যতা বা এতে কোনো প্রযুক্তির কারসাজি আছে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই অডিও রেকর্ডের সত্যতা বা পূর্ণাঙ্গতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী এবং নীতিপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ফারুক হোসেনকে সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তার নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপকর্ম করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। সংগঠনের পক্ষ থেকে ফারুককে বহিষ্কারের বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
তবে ফারুক হোসেন নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, একটি স্থানীয় চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার কণ্ঠস্বর সম্পাদনা করে এই ভুয়া অডিও তৈরি করেছে। ফারুক হোসেনের ভাষ্যমতে, সাকিব নামের এক পরিচিত যুবক পাসপোর্টের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মাত্র ৫ হাজার টাকার কথা বলেছিলেন। সেই অডিওটিকেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃতভাবে ৫ লাখে রূপান্তর করা হয়েছে।

























