মণিপুরে বর্বরতা : এক অভিযুক্তের বাড়িতে উত্তেজিত নারীদের আগুন
- আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০২৩
- / 124
বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ
ভারতের মণিপুরে নারীদের বিবস্ত্র করে রাস্তায় ঘোরানো ও গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত একজনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে উত্তেজিত জনতা। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী।
সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর তিন নারীকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় ঘোরানোর ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে সারা দেশে। এই অবস্থায় চাপের মুখে অভিযুক্তদের ধরতে পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে চারজনকে। ঘটনার ৭৭ দিন পর এমন পদক্ষেপ নেয়া হলো।
কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হুইরেম হেরোদাস মেইতেইয়ের বাড়িতে জনতা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একদল বিক্ষোভকারী হুইরেমের বাড়িতে আগুন ধরাচ্ছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী।
মণিপুরে তিন নারীকে নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানো ও গণধর্ষণের মামলায় মূল অভিযুক্ত হুইরেমকে গ্রেফতার করা হয় বৃহস্পতিবার।
এদিকে, টুইটার এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে বিবস্ত্র নারীদের সেই ভিডিও সরাতে আদেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বৃহস্পতিবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘মণিপুরের এই ঘটনা দেশের লজ্জা।’ পাশাপাশি তিনি জানান, দোষীদের কড়া শাস্তির জন্য মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন।
এদিকে, গতকালকের পর আজ শুক্রবারও মণিপুর ইস্যুতে উত্তাল সংসদ। দফায় দফায় মুলতুবি হচ্ছে সংসদ।
জানা গেছে, ভাইরাল ভিডিওর ঘটনাটি ঘটে মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে কাংপোকপি জেলায়। পুলিশের এফআইআর অনুযায়ী, সেই ঘটনায় নির্যাতিতা নারীদের পরিবারের দুই সদস্যকেও খুন করা হয়েছিল।
এফআইআরে বলা হয়েছে, ৪ মে এক কুকি পরিবারের পাঁচ সদস্য আতঙ্কে বনে লুকিয়ে পড়েছিলেন। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। কিন্তু পুলিশের হাত থেকে তাদের ছিনিয়ে নেয়া হয়। এরপর ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে খুন করা হয়। তারপর তিনজন নারীকে নগ্ন করিয়ে হাঁটানো হয়। ২১ বছর বয়সী এক নারীকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে ওই তিন নারী কোনোরকমে পালিয়ে যান। ২১ জুন অভিযোগ দায়ের করা হয় পুলিশে।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে থেকে জাতিগত সহিংসতার সাক্ষী মণিপুর। কুকি ও মেইতেই গোষ্ঠীর মাঝে চলছে লড়াই। মাঝে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ছিল। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি অবস্থা। এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চূড়াচাঁদপুর, মোরে, কাকচিং ও কাংপোকপি জেলা থেকে অধিকাংশ মানুষকে সরানো হয়েছে। এরই মধ্যে সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। রেহাই পাচ্ছে না নারী ও শিশুরাও।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
বিডিসংবাদ/এএইচএস























