ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টার্কিশ এয়ারলাইন্সের সেবা প্রসারে গলফহাউসের সাথে নতুন চুক্তি নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে তোপের মুখে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমালো আইএমএফ আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব নিয়ে বিধিনিষেধ: বাড়ছে ক্ষোভ ও বিতর্ক নির্ধারিত দামেও মিলছে না এলপিজি, বাজারে চরম অস্থিরতা নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি এলপিজি বিক্রি, বিপাকে সাধারণ গ্রাহক শাহজালালে কোটি টাকার হীরা ও স্বর্ণালংকারসহ যাত্রী আটক চকবাজারে মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিট সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠালেন আদালত ঈশ্বরদীতে বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা: অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তুঙ্গে

মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমালো আইএমএফ

  • আপডেট সময় : ১১:৩১:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার অর্থনীতিতে ০.৩ শতাংশ সংকোচন হতে পারে। অথচ মাত্র ছয় মাস আগেও সংস্থাটি এ অঞ্চলে ১.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করেছিল। অর্থনৈতিক এই অবনতির পেছনে প্রধানত হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা এবং যুদ্ধের কারণে তেল উৎপাদন ও নৌপরিবহন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়াকে দায়ী করা হয়েছে। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়।

তেল ও গ্যাস রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চলটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। আইএমএফের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছর ইরাক, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের অর্থনীতি দুই অঙ্কের হারে সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ইরানের অর্থনীতি ৭.৬ শতাংশ, সৌদি আরবের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩.৩ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি ৩.৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও একমাত্র ব্যতিক্রম ওমান, যার অর্থনীতি ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

উৎপাদন হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথ রুদ্ধ হওয়ায় এ অঞ্চলের দেশগুলোর সরকারি আয় ও বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী হওয়ায়, এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় এই নৌপথ বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

তবে আইএমএফ জানিয়েছে, ২০২৭ সাল নাগাদ তেল উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলে দেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব হতে পারে। তবে এই প্রত্যাশা অনেকাংশেই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি, জ্বালানি উৎপাদনের স্বাভাবিকীকরণ এবং বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ থামানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ পুনরায় সচল করাই মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমালো আইএমএফ

আপডেট সময় : ১১:৩১:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার অর্থনীতিতে ০.৩ শতাংশ সংকোচন হতে পারে। অথচ মাত্র ছয় মাস আগেও সংস্থাটি এ অঞ্চলে ১.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করেছিল। অর্থনৈতিক এই অবনতির পেছনে প্রধানত হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা এবং যুদ্ধের কারণে তেল উৎপাদন ও নৌপরিবহন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়াকে দায়ী করা হয়েছে। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়।

তেল ও গ্যাস রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চলটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। আইএমএফের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছর ইরাক, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের অর্থনীতি দুই অঙ্কের হারে সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ইরানের অর্থনীতি ৭.৬ শতাংশ, সৌদি আরবের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩.৩ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি ৩.৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও একমাত্র ব্যতিক্রম ওমান, যার অর্থনীতি ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

উৎপাদন হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথ রুদ্ধ হওয়ায় এ অঞ্চলের দেশগুলোর সরকারি আয় ও বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী হওয়ায়, এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় এই নৌপথ বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

তবে আইএমএফ জানিয়েছে, ২০২৭ সাল নাগাদ তেল উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলে দেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব হতে পারে। তবে এই প্রত্যাশা অনেকাংশেই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি, জ্বালানি উৎপাদনের স্বাভাবিকীকরণ এবং বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ থামানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ পুনরায় সচল করাই মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।