মুম্বাই হামলা : পলাতক সন্ত্রাসী হাফিজ সাইদসহ ৬ আসামির বিচার শুরু
- আপডেট সময় : ১১:১৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 1
বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর ভারতের মুম্বাইবাসীর জন্য ছিল বিভীষিকাময় একটি দিন। সেদিন সমুদ্রপথে মুম্বাইতে প্রবেশ করে কয়েকটি জনবহুল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও গ্রেনেড নিয়ে হামলা চালায় পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লশকর-ই-তৈয়বা-র ১০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। এসব হামলায় ১৬৬ জন নিহত হন। আহত হন ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ।
ঘটনার ১৮ বছর পর হামলায় জড়িত পলাতক ছয় পাকিস্তানি আসামির বিরুদ্ধে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। সেই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজ সাইদ নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন লশকর-ই-তৈয়বার প্রধান।
আল-কায়েদা সঙ্গে তালেবানের সঙ্গে যোগসূত্রের কারণে ২০০৫ সালে লশকর-ই-তৈয়বাকে নিষিদ্ধ করে জাতিসংঘ। ২০০৮ সালে সাইদকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র।
ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫৬ ধারার অধীনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রসিকিউটর উজ্জ্বল নিকামের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে মুম্বাই পুলিশ।
বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর উজ্জ্বল নিকাম জানান, প্রধান পলাতক আসামি: হাফিজ মুহাম্মদ সাইদ, জাকি-উর-রহমান লাখভি, সাজিদ মীর, আবু আলকামা, আসিম ওরফে আবু কাহাফা এবং মেজর আবদুর রহমান পাশার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি জানান, একটি বিচারিক আদালত ইতোমধ্যে ছয় পলাতক আসামির বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করেছে। এই হুলিয়া সম্পর্কিত আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার পর ছয় সন্দেহভাজনের অনুপস্থিতিতে তাদের আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই অনুপস্থিতি বিচারের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত হলে, আসামিদের যখনই ভারতে আনা হবে তখনই তারা তাৎক্ষণিক সাজা ও শাস্তির মুখোমুখি হবে।
এর আগে জুলাই মাসে, পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলা মামলায় হাফিজ সাইদের বিরুদ্ধে অনাদায়ী পরোয়ানা জারি করেছিল জম্মুর একটি আদালত। জাতীয় তদন্ত সংস্থা একটি সম্পূরক চার্জশিটে তাকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করার পর এই পরোয়ানা জারি করা হয়।
তদন্তের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, সামরিক সুরক্ষায় পাকিস্তান থেকে কার্যক্রম চালানো সাইদের বিচার তার অনুপস্থিতিতেই করা হবে।
২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে চারদিনে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ টার্মিনাস, তাজমহল প্যালেস হোটেল ও ওবেরয় ট্রাইডেন্ট হোটেল, লিওপোল্ড ক্যাফে, নরিমান হাউস এবং কামা হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। হামলাকারী ১০ সন্ত্রাসীর মধ্যে ৯ জনই ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়। একমাত্র আজমল কাসভ নামের এক সন্ত্রাসীকে জীবিত গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর পুনের ইয়েরওয়াড়া জেলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে কাসভের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
বিডিসংবাদ/এএইচএস



















