ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তথ্য ফাঁসকারীদের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত: ট্রাম্প মক্কায় মসজিদে অনৈতিক কাজে জড়িত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: ৪ জেলে কারাগারে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার সৌদিতে কঠোর বিধিনিষেধ: ১০৩ ফ্লাইটে বিপাকে ১৫ হাজার যাত্রী ইরানে জিবিইউ-৪৩/বি বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা মার্কিন বাহিনীর মোজাম্বিক থেকে দেশে ফিরল প্রবাসী জসিমের মৃত অবস্থায় পাওয়া পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ২৯ জনের প্রাণহানি আইএমএফের ঋণ পেতে পূরণ করতে হবে নির্দিষ্ট শর্ত: অর্থমন্ত্রী ফেনীর ফাজিলপুরে ১৯ নভেম্বর বিনামূল্যে রোগী দেখবেন অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ : অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সৌদি যুবরাজকে নিমন্ত্রণের সমালোচনা

  • আপডেট সময় : ১২:০৩:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • / 262
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

সৌদি আরবের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেয়ার জন্য ব্রিটেনের নিমন্ত্রণ পাওয়ার পর মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজিকে হত্যা ও তার লাশ টুকরো টুকরো করার আদেশ দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ।

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও তার সরকার এটি অস্বীকার করে। তবে এর পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বে তিনি তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন এবং ওই অভিযোগ ওঠার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনি আর ব্রিটেনে যাননি।

সৌদি দূতাবাসের সাথে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এমবিএস নামে পরিচিত যুবরাজ এই সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে লন্ডনে আসবেন। তবে তিনি সোমবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেবেন কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়।

হত্যাকাণ্ডের শিকার সৌদি সাংবাদিকের স্ত্রী হ্যাটিস গেঙ্গিজ বলেছেন, তাকে আমন্ত্রণ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্মৃতির প্রতি একটি কলঙ্ক।

যুবরাজ লন্ডনে অবতরণ করার সময় তাকে গ্রেফতার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যদিও এমন কিছু আসলেই ঘটার ব্যাপারে সন্দেহ আছে তার।

আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায় এমন সংস্থা ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট দ্য আর্মস ট্রেড অভিযোগ করেছে যে, তাদের ভাষায় সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো তাদের মানবাধিকারবিষয়ক দুর্নাম ঘোচানোর জন্য রানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে ব্যবহার করছে।

সংস্থাটি মনে করে, আট বছর আগে ইয়েমেনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রিটেন সেখানে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে ২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অস্ত্র বিক্রি করেছে।

২০১৭ সালে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার পর থেকে সেখানে সামান্য যতটুকু রাজনৈতিক স্বাধীনতা ছিল তাও সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

সরকারের সমালোচকদের সেখানে ব্যাপকহারে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে, এমনকি শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কোনো কিছু পোস্ট করার জন্যেও।

একই সময়ে মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবে সামাজিক উদারীকরণের একটি বিশাল কর্মসূচি শুরু করেছেন।

অনৈসলামিক বলে বিবেচিত হওয়ায় সৌদি রাজতন্ত্রে দীর্ঘ দিন ধরে নিষিদ্ধ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও অন্যান্য বিনোদন জনসাধারণের জন্য আবার চালু হয়েছে।

তার আদেশে সেখানে এখন নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমোদন রয়েছে। মরুভূমির রাজ্যটিতে এখন আন্তর্জাতিক খেলাধুলা ও সঙ্গীতানুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। যার মধ্যে ডিজে ডেভিড গুয়েটার একটি কনসার্ট রয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হওয়া সত্ত্বেও উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরবের সাথে ব্রিটেনের এক ধরনের গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে।

সৌদি আরব পশ্চিমা কয়েকটি দেশ থেকে ব্যাপক পরিমাণে অস্ত্র ক্রয় করে। যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি অস্ত্র ক্রয় করে সৌদি আরব তার একটি।

সৌদি আরবের সাথে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির বিরাট অংকের অস্ত্র ব্যবসা রয়েছে ।

বিশ্বে তেলের মজুদের ১৮ শতাংশ হচ্ছে সৌদি আরবে এবং বিশ্বের সবচাইতে বড় জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশটি। বলা হয়, সৌদি আরব আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

এসব কারণে সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে সমালোচনায় আন্তর্জাতিক মহল প্রায়শই বিরত থাকে বলে মনে করা হয়।

সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ : অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সৌদি যুবরাজকে নিমন্ত্রণের সমালোচনা

আপডেট সময় : ১২:০৩:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

সৌদি আরবের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেয়ার জন্য ব্রিটেনের নিমন্ত্রণ পাওয়ার পর মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজিকে হত্যা ও তার লাশ টুকরো টুকরো করার আদেশ দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ।

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও তার সরকার এটি অস্বীকার করে। তবে এর পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বে তিনি তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন এবং ওই অভিযোগ ওঠার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনি আর ব্রিটেনে যাননি।

সৌদি দূতাবাসের সাথে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এমবিএস নামে পরিচিত যুবরাজ এই সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে লন্ডনে আসবেন। তবে তিনি সোমবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেবেন কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়।

হত্যাকাণ্ডের শিকার সৌদি সাংবাদিকের স্ত্রী হ্যাটিস গেঙ্গিজ বলেছেন, তাকে আমন্ত্রণ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্মৃতির প্রতি একটি কলঙ্ক।

যুবরাজ লন্ডনে অবতরণ করার সময় তাকে গ্রেফতার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যদিও এমন কিছু আসলেই ঘটার ব্যাপারে সন্দেহ আছে তার।

আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায় এমন সংস্থা ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট দ্য আর্মস ট্রেড অভিযোগ করেছে যে, তাদের ভাষায় সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো তাদের মানবাধিকারবিষয়ক দুর্নাম ঘোচানোর জন্য রানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে ব্যবহার করছে।

সংস্থাটি মনে করে, আট বছর আগে ইয়েমেনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রিটেন সেখানে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে ২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অস্ত্র বিক্রি করেছে।

২০১৭ সালে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার পর থেকে সেখানে সামান্য যতটুকু রাজনৈতিক স্বাধীনতা ছিল তাও সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

সরকারের সমালোচকদের সেখানে ব্যাপকহারে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে, এমনকি শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কোনো কিছু পোস্ট করার জন্যেও।

একই সময়ে মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবে সামাজিক উদারীকরণের একটি বিশাল কর্মসূচি শুরু করেছেন।

অনৈসলামিক বলে বিবেচিত হওয়ায় সৌদি রাজতন্ত্রে দীর্ঘ দিন ধরে নিষিদ্ধ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও অন্যান্য বিনোদন জনসাধারণের জন্য আবার চালু হয়েছে।

তার আদেশে সেখানে এখন নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমোদন রয়েছে। মরুভূমির রাজ্যটিতে এখন আন্তর্জাতিক খেলাধুলা ও সঙ্গীতানুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। যার মধ্যে ডিজে ডেভিড গুয়েটার একটি কনসার্ট রয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হওয়া সত্ত্বেও উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরবের সাথে ব্রিটেনের এক ধরনের গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে।

সৌদি আরব পশ্চিমা কয়েকটি দেশ থেকে ব্যাপক পরিমাণে অস্ত্র ক্রয় করে। যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি অস্ত্র ক্রয় করে সৌদি আরব তার একটি।

সৌদি আরবের সাথে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির বিরাট অংকের অস্ত্র ব্যবসা রয়েছে ।

বিশ্বে তেলের মজুদের ১৮ শতাংশ হচ্ছে সৌদি আরবে এবং বিশ্বের সবচাইতে বড় জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশটি। বলা হয়, সৌদি আরব আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

এসব কারণে সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে সমালোচনায় আন্তর্জাতিক মহল প্রায়শই বিরত থাকে বলে মনে করা হয়।

সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস