রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের কাছে নতুন ও কার্যকর প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
- আপডেট সময় : ০১:১২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 3
বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দূতেরা ইউক্রেনের কাছে নতুন ও ‘অধিকতর কার্যকর’ কিছু প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
রোববার এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আগের মতো বিষয়টি নেই। এবারকার প্রস্তাবগুলো আরও কার্যকর। আলোচনা এখনো চলছে। আর এটাই আসলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
এর আগে রোববার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি।
জেলেনস্কি ও যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার— তিনজনই আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করলেও যুদ্ধ বন্ধে কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির ঘোষণা দেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবসায়িক ঘনিষ্ঠ সহযোগী উইটকফ এবং তার জামাতা কুশনার মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের এক দিন পর কিয়েভে যান। এটি ছিল কিয়েভে তাদের কয়েকটি সফরের সর্বশেষটি।
ইউক্রেনের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানায়, দুই মার্কিন দূত কিয়েভ ছেড়ে গেছেন।
রোববারের এই সফর ছিল কিয়েভে তাঁদের প্রথম সফর। রুশ হামলায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউক্রেনের রাজধানীটি প্রাণঘাতী হামলার শিকার হচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা খুবই আশা করছি যে আমাদের মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব। আর যুদ্ধ যদি শীতকালেও চলতে থাকে— এই মুহূর্তে পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে, তাহলে আমরা আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের সমর্থনের ওপরও নির্ভর করছি।’
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
জেলেনস্কি আবারও বলেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধের সমাধান কেবল দুই দেশের নেতাদের সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমেই সম্ভব।
মার্কিন দূতদের কিয়েভ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইউক্রেনের জন্য শান্তি নিশ্চিত করা— একটি মর্যাদাপূর্ণ, নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি। আমরা আমাদের সব প্রচেষ্টা এ লক্ষ্যেই পরিচালিত করছি।’
রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে রেখেছে। শনিবার মার্কিন দূতদের সঙ্গে বৈঠকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা আরও ভূখণ্ড দখলের ব্যাপারে ‘আত্মবিশ্বাসী’।
মস্কো বলেছে, শুধু বর্তমানে দখলে থাকা অঞ্চল নয়, তারা যেসব ভূখণ্ডকে রাশিয়ার অংশ বলে দাবি করে, সেগুলোর ওপরও রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দিতে হবে।
কিয়েভের কাছে এই শর্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
উইটকফ বলেন, দুই পক্ষকেই কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে হবে। সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো তাদের হাতে রয়েছে।
তিনি আলোচনাকে ‘অত্যন্ত অর্থবহ, গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবভিত্তিক’ বলে উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, যত সময় প্রয়োজন, ততদিন আলোচনা চালিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত।
কুশনার বলেন, ‘আশা করছি, এই সফরের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন কিছু পথ বের হয়েছে। এই সফর থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত হিসেবে বিবেচিত এই যুদ্ধের অবসানে ট্রাম্প প্রশাসনের শান্তি উদ্যোগকে আবারও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই উইটকফ ও কুশনার এই অঞ্চলে সফর করেন। গ্রীষ্মজুড়ে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার পর তাদের এই সফর অনুষ্ঠিত হলো।
আলোচনার পৃথক একটি পর্বে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘এখানে আমরা সবাই একই পক্ষে।’
অন্যান্য বিদেশি কর্মকর্তাদের মতো মার্কিন প্রতিনিধিরাও ট্রেনে করে কিয়েভে পৌঁছান। কিয়েভের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ‘পিস এক্সপ্রেস’ লেখা ছিল।
২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরু করার পর থেকে দেশটির আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে।
মার্কিন দূতদের সফর চলাকালে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের রাজধানীতে হামলা না চালানোর অঙ্গীকার করেছিল।
‘গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা’
রাশিয়ার এই আগ্রাসনে কয়েক লাখ মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, মস্কোতে মার্কিন দূতেরা ‘গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।’
তবে বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে ক্রেমলিন বলেছে, মার্কিন প্রতিনিধিরা ‘সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য পথ নিয়ে বেশ কিছু ধারণা’ উপস্থাপন করেছেন।
পুতিন বারবার বলেছেন, মস্কো ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বাকি অংশও দখল করতে চায়। চলতি গ্রীষ্মে রাশিয়া ইউক্রেনে প্রাণঘাতী হামলা আরও বাড়িয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুতিন ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে যুদ্ধ চলছে এবং এর অবসানের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
কিয়েভে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতি হবে— এমন বিশ্বাস খুব কমই দেখা গেছে।
৬৭ বছর বয়সী নাতালিয়া লিপেখ বলেন, মার্কিন দূতদের কিয়েভে আসা অত্যন্ত জরুরি ছিল, যাতে তারা নিজের চোখে দেখতে পারেন যে আমাদের ভূমি ইতোমধ্যেই রক্তে ভিজে গেছে এবং আমাদের সাহায্য প্রয়োজন।
তবে, ২৯ বছর বয়সী ইয়ারোস্লাভ বলেন, ‘এই মুহূর্তে আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো কারণ আমি দেখছি না। এরই মধ্যে এ ধরনের অনেক আলোচনা প্রক্রিয়া আমি দেখেছি।’
বিডিসংবাদ/এএইচএস

















