রিজেন্ট এয়ারওয়েজের মূল প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের নির্দেশ হাইকোর্টের
- আপডেট সময় : ০২:৪৬:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
উড়োজাহাজ ইজারা বাবদ বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় রিজেন্ট এয়ারওয়েজের মূল প্রতিষ্ঠান হাবিব গ্রুপের সহযোগী সংস্থা এইচজি এভিয়েশন লিমিটেডকে অবসায়নের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান উইলমিংটন ট্রাস্ট কোম্পানিকে ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৮২৭ ডলারের বেশি পাওনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। পাওনা আদায়ের আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য একজন অবসায়কও নিয়োগ করেছেন আদালত। বিচারপতি মো. তৌফিক ইমানের একক কোম্পানি বেঞ্চ গত ১৯ আগস্ট এই রায় প্রদান করেন এবং গত ১৭ অক্টোবর ১৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী পাওনা বকেয়া অর্থ, প্রযোজ্য সুদ এবং অন্যান্য শর্তানুযায়ী অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আদালত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফ বিন আনোয়ারকে অবসায়ক হিসেবে নিয়োগ করেছেন। তাঁকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অবসায়ন কার্যক্রম শুরু করে দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর উইলমিংটন ট্রাস্ট থেকে একটি ব্যবহৃত বোয়িং ৭৩৭-৭০০ উড়োজাহাজ ইজারা নিয়েছিল এইচজি এভিয়েশন। পরবর্তীতে ইজারার বকেয়া কিস্তির অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। ২০২০ সালের শুরুতে একাধিক আইনি নোটিশের প্রেক্ষিতে কোম্পানিটি দায় স্বীকার করলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করেনি। পরিশেষে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা অনুযায়ী উইলমিংটন ট্রাস্ট হাইকোর্টে অবসায়নের আবেদন করে। তবে সেই প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
আইনজীবী মো. মুক্তাদির রহমানের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে হাবিব গ্রুপের ১১টি প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে একটির বিষয়ে আদালত আদেশ দিলেও পাওনা আদায় না হলে বাকি ১০টির বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তালিকাভুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে হাবিব স্টিলস, ডায়মন্ড সিমেন্ট, রিজেন্ট স্পিনিং মিলস, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস, রিজেন্ট পাওয়ার ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে, এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার প্রায় চার হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।
১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হাবিব গ্রুপ একসময় তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ইস্পাত, সিমেন্ট ও বিমান পরিবহনসহ বিভিন্ন বৃহৎ খাতে ব্যবসা পরিচালনা করত। তবে দীর্ঘস্থায়ী আর্থিক সংকট ও ঋণখেলাপির কবলে পড়ে গ্রুপটির অধিকাংশ ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কোভিড-১৯ মহামারির শুরুর দিকে ২০২০ সালে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ তাদের ফ্লাইট পরিচালনা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এই আদালতের রায়ের ফলে এখন হাবিব গ্রুপের সম্পদ থেকে পাওনা আদায়ের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, যা গ্রুপটির অন্যান্য ঋণদাতা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মাঝে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

























