ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের টস বন্ডের চারটি গুদাম সিলগালা দেশের দুই জেলায় বজ্রবৃষ্টিসহ ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কবার্তা রাজধানীর বাজারে সবজির চড়া দাম, শিমের কেজি ২০০ টাকা তিন মাসে দ্বিগুণ হলো এয়ার অ্যাস্ট্রার উড়োজাহাজ বহর নেতানিয়াহুকে সমর্থন নেই ট্রাম্পের, ইরান ইস্যুতে দিলেন কড়া বার্তা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মিষ্টির শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন: ইসি বিএনপি জোটেরই থাকবে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসন: ইসি ক্যাশলেস লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহার হবে সম্পূর্ণ ফ্রি

লিপু হত্যার ১১ মাসেও মেলেনি কোন ‘ক্লু’

  • আপডেট সময় : ০১:১২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭
  • / 355
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু হত্যাকান্ডের কোনো কুল কিনারা করতে পারছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। হত্যাকা-ের ১১ মাসেও কোনো ক্লু খুঁজে পায়নি তারা। হত্যাকারীরা হলের বাইরের নাকি ভেতরের তারও জবাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

জানা যায়, গত বছরের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলের ভেতরের নির্মমভাবে খুন হয় লিপু। মাথায় জোরালো আঘাত করে তাকে খুন করা হয়। ঘটনার দিন লিপুর চাচা বশির উদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ এই সময়ে দফায় দফায় তদন্তকারী সংস্থা ও তদন্ত কর্মকর্তা বদল হলেও কার্যত চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার কোনো অগ্রগতি নেই, ফলাফল শূন্য। নৃশংস এই হত্যাকান্ডের কারণ ও খুনি কারা- তা এখনো রহস্যাবৃত্ত। দীর্ঘদিনেও খুনিরা ধরা না পড়ায় হতাশ নিহতের স্বজনরা। মামলাটি দুইজন পুলিশ কর্মকর্তার হাত বদল হয়ে বর্তমানে সিআইডিতে রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে , হত্যাকান্ডের প্রথম ৩ মাসের মধ্যে ৩ বার বদল হয় তদন্ত কর্মকর্তা। মামলাটির বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির ইন্সপেক্টর আসমাউল হক। হত্যাকা-ের ১১ মাস পূর্ণ হলেও মামলার অভিযোগপত্র তো দুরে, হত্যাকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ক্লু পাচ্ছে না সিআইডি। তবে মামলাটি সমাধান করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। এজন্য বিভিন্নজনকে জিঞ্জাসাবাদও করা হচ্ছে। লিপুর কয়েকজন সহপাঠীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদেরকে ওই হলের ঘটনার রাতের সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজও দেখানো হয়েছে। ওই রাতে কারা হলে প্রবেশ করেছিল ও বের হয়েছিল তার সব ফুটেজ তাদের দেখানো হয়েছে।

হত্যাকান্ডের ঘটনায় লিপুর রুমমেট মনিরুল ইসলাম, বন্ধু প্রদীপ এবং হলের দুজন গার্ড সাইদুল ও মনিরকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ  করা হয়। তবে তাদেরকে তেমন কোনো তথ্য না পাওয়ায় রুমমেট ছাড়া বাকিদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। রুমমেট মনিরুল কিছু তথ্য দিয়েছিল সেগুলো যাচাই-বাছাই করে আবার তার রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তার শুনানি ছিল ১৫ নভেম্বর। কিন্তু রিমান্ড শুনানির আগেই সে জামিন পায়।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা অনুমান করছেন, লিপুকে হলের ভেতরেই রাত ২ টার দিকে খুন করা হয়েছে। খুন করার পর লাশ ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয়া হয়। কিন্তু খুনিরা হলের ভেতরের কেউ নাকি বাহির থেকে এসে কেউ লিপুকে খুন করেছে সে বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না তারা। তবে সেই রাতে হলের ভেতরের বিভিন্ন কর্মকা- নিয়ে তদন্ত করছেন তারা। এছাড়াও সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজের কিছু ছবি তারা হাতে পেয়েছেন। এসব ছবি নিয়ে তারা তদন্ত করছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসমাউল হক বলেন, মামলাটি বর্তমানে জটিল আকার ধারণ করেছে। আমরা বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছি। এখনো বলার মতো মামলার কোনো অগ্রগতি করা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

লিপু হত্যার ১১ মাসেও মেলেনি কোন ‘ক্লু’

আপডেট সময় : ০১:১২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু হত্যাকান্ডের কোনো কুল কিনারা করতে পারছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। হত্যাকা-ের ১১ মাসেও কোনো ক্লু খুঁজে পায়নি তারা। হত্যাকারীরা হলের বাইরের নাকি ভেতরের তারও জবাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

জানা যায়, গত বছরের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলের ভেতরের নির্মমভাবে খুন হয় লিপু। মাথায় জোরালো আঘাত করে তাকে খুন করা হয়। ঘটনার দিন লিপুর চাচা বশির উদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ এই সময়ে দফায় দফায় তদন্তকারী সংস্থা ও তদন্ত কর্মকর্তা বদল হলেও কার্যত চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার কোনো অগ্রগতি নেই, ফলাফল শূন্য। নৃশংস এই হত্যাকান্ডের কারণ ও খুনি কারা- তা এখনো রহস্যাবৃত্ত। দীর্ঘদিনেও খুনিরা ধরা না পড়ায় হতাশ নিহতের স্বজনরা। মামলাটি দুইজন পুলিশ কর্মকর্তার হাত বদল হয়ে বর্তমানে সিআইডিতে রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে , হত্যাকান্ডের প্রথম ৩ মাসের মধ্যে ৩ বার বদল হয় তদন্ত কর্মকর্তা। মামলাটির বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির ইন্সপেক্টর আসমাউল হক। হত্যাকা-ের ১১ মাস পূর্ণ হলেও মামলার অভিযোগপত্র তো দুরে, হত্যাকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ক্লু পাচ্ছে না সিআইডি। তবে মামলাটি সমাধান করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। এজন্য বিভিন্নজনকে জিঞ্জাসাবাদও করা হচ্ছে। লিপুর কয়েকজন সহপাঠীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদেরকে ওই হলের ঘটনার রাতের সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজও দেখানো হয়েছে। ওই রাতে কারা হলে প্রবেশ করেছিল ও বের হয়েছিল তার সব ফুটেজ তাদের দেখানো হয়েছে।

হত্যাকান্ডের ঘটনায় লিপুর রুমমেট মনিরুল ইসলাম, বন্ধু প্রদীপ এবং হলের দুজন গার্ড সাইদুল ও মনিরকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ  করা হয়। তবে তাদেরকে তেমন কোনো তথ্য না পাওয়ায় রুমমেট ছাড়া বাকিদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। রুমমেট মনিরুল কিছু তথ্য দিয়েছিল সেগুলো যাচাই-বাছাই করে আবার তার রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তার শুনানি ছিল ১৫ নভেম্বর। কিন্তু রিমান্ড শুনানির আগেই সে জামিন পায়।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা অনুমান করছেন, লিপুকে হলের ভেতরেই রাত ২ টার দিকে খুন করা হয়েছে। খুন করার পর লাশ ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয়া হয়। কিন্তু খুনিরা হলের ভেতরের কেউ নাকি বাহির থেকে এসে কেউ লিপুকে খুন করেছে সে বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না তারা। তবে সেই রাতে হলের ভেতরের বিভিন্ন কর্মকা- নিয়ে তদন্ত করছেন তারা। এছাড়াও সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজের কিছু ছবি তারা হাতে পেয়েছেন। এসব ছবি নিয়ে তারা তদন্ত করছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসমাউল হক বলেন, মামলাটি বর্তমানে জটিল আকার ধারণ করেছে। আমরা বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছি। এখনো বলার মতো মামলার কোনো অগ্রগতি করা সম্ভব হয়নি।