লেবাননে বিস্ফোরকবাহী ট্রাক জব্দ, কঠোর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ০১:১৭:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য নেওয়া ৭৮০ কেজি বিস্ফোরকভর্তি একটি ট্রাক জব্দের ঘটনার পর থেকে লেবাননের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জব্দ হওয়া বিস্ফোরকের মধ্যে ২৫০ কেজি টিএনটি এবং ৫৫০ পাউন্ড সি-ফোর প্লাস্টিক বিস্ফোরক রয়েছে। গত সপ্তাহে বৈরুত থেকে বেকা উপত্যকায় যাওয়ার মহাসড়কে এই ট্রাকটি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। লেবাননের বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, ট্রাকটিতে মোট ৭৮০ কেজি বিস্ফোরক ছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। বৃহস্পতিবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, বিস্ফোরক পাঠানোর নেপথ্যের নির্দেশদাতা, অর্থদাতা এবং পরিকল্পনাকারীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই হিজবুল্লাহর কাছে এই বিস্ফোরক ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না।
প্রেসিডেন্ট আউনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফোনালাপে লেবাননের প্রেসিডেন্ট রুবিওকে আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে। পাল্টা জবাবে আউন দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে দেশটির ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে, হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে সাংবাদিকদের কাছে ট্রাকটির সাথে তাদের সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্যমতে, এই বিস্ফোরকগুলো ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযানে ব্যবহারের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, ট্রাক আটকের পর হিজবুল্লাহ অবিলম্বে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্ফোরক ফিরিয়ে দেওয়া ও আটক ব্যক্তিদের মুক্তির অনুরোধ করেছিল।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সোমবার জানিয়েছেন, এই বিস্ফোরক পরিবহনের ঘটনাটিকে সরকার একটি ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে দেখছে এবং এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ট্রাকটি আটক করায় নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে গত মার্চ মাসে হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকাণ্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে সব অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে সংঘাতের মধ্যে অস্ত্র পরিবহন অব্যাহত রেখেছে সংগঠনটি। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তেজনা প্রশমনে লেবানন ও ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পক্ষেও মত দিয়েছেন মার্কো রুবিও।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রুবিও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও কথা বলেছেন, যেখানে ইরান প্রসঙ্গ উঠে আসে। চলতি বছরের বসন্তের শুরুতে রুবিওর মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ হয়েছিল।
এতসব উদ্যোগ সত্ত্বেও ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। লেবাননের পক্ষ থেকে প্রায়ই ইসরাইলি হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের তথ্য জানানো হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের উপস্থিতি এবং পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞে পরিস্থিতি এখনো অস্থির রয়েছে। বহু বছর ধরে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় অবাধে অস্ত্র পরিবহন করেছে হিজবুল্লাহ। সেখানে অসংখ্য গ্রাম পরিকল্পিতভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো ইসরাইলি সেনাদের দখলে রয়েছে। জুনে একটি কাঠামোগত সমঝোতা সই হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
























