শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, সীতাকুণ্ডে আশ্বাসে ফিরল স্বাভাবিক পরিবেশ
- আপডেট সময় : ১০:৫০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বিকেল চারটার দিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সরাসরি হস্তক্ষেপ ও দাবিসমূহ বাস্তবায়নের দৃঢ় আশ্বাসে সমাপ্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে লরির ধাক্কায় এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু ও অন্যদের আহতের ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে নেমেছিলেন। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৬ ঘণ্টা পর আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে। সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি লোকাল বাসকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি উল্টে গিয়ে চাপা পড়লে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করলেও নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
সহপাঠীর মৃত্যুর খবরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে এই আন্দোলন নিকটবর্তী রেলপথ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজটের পাশাপাশি ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। এতে শত শত দূরপাল্লার যাত্রী, অ্যাম্বুলেন্স এবং সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা দ্রুত তৎপর হন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার খোঁজ নেন এবং নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি জরুরি আলোচনা করেন।
ঘটনাস্থলে সীতাকুণ্ডের ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-উপাচার্য উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানান। মহাসড়কেই আয়োজিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। পরে শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবি শুনে তিনি তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবির মধ্যে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানান, তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন পাঠাবেন। পাশাপাশি মহাসড়কের অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদের বিষয়ে তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান সড়ক দখল করে লরি বা গাড়ি রাখতে পারবে না। এ বিষয়ে ডিসি বলেন, আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজের জন্য লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজটি নির্মাণ করা যায়। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।
দুর্ঘটনার শিকার লরিটি পুলিশ ইতিমধ্যে জব্দ করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন এসপি মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে চালক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ চলছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উভয়ই চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং নিহতের পরিবারের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন।
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ।























