ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানে ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য : জেডি ভ্যান্স ১০ কোটি ভিউ পার করলো ইমরান-পড়শীর ‘জনম জনম’ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে নতুন প্রতিরোধ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ : চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধে তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তানজিদের বেগম খালেদা জিয়া : গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা

সমতল ও পাহাড়ে কোনো বৈষম্য থাকবে না : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী

  • আপডেট সময় : ১১:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 47
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, পাহাড় এবং সমতলকে সমভাবে এগিয়ে নেওয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। সমতল ও পাহাড়ে কোনো বৈষম্য থাকবে না। পরস্পরের মধ্যে সম্প্রীতির সম্মিলন করা গেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম এগিয়ে যাবে, সেই সাথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

আজ রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে রাঙ্গামাটিতে পাঁচ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মেলার উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এসব কথা বলেন। আগামী ১০ এপ্রিল শেষ হবে এ উৎসব।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এখানে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়কে সাথে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। পাহাড়ে বিজু উৎসব বৈসাবী উৎসব নামে উদযাপন করা হলেও বর্তমানে এই উৎসব পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের নামেই উদযাপন করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু, চাংক্রান, বিষু, সাংলান, চাংক্রাই, পাতাও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বিজু উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে মিলনমেলা শুরু হয়। এটা সামাজিক বন্ধনের একটি দৃঢ় সেতু। পাহাড়ের সৌন্দর্য ও আতিথেয়তা সকলকে মুগ্ধ করে। এখানকার সংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে রাঙ্গামাটি সরকারী কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণ থেকে একটি র‌্যালি শুরু হয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হবে।

পাঁচ দিনব্যাপী বাংলা নববর্ষ ও বৈসাবী উৎসবে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসব, খেলাধুলা, পণ্য প্রদর্শনী, নাটক মঞ্চায়নসহ ব্যাপক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বসানো হয়েছে বিভিন্ন স্টল। এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, বৈসু ও সাংগ্রাইকে ঘিরে পাহাড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় পালিত হচ্ছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা।

প্রতিবছর চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষে উৎসবটির আয়োজন করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী। উৎসবকে চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুরারা বৈসুক, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু এবং অহমিয়া জনগোষ্ঠী বিহু নামে পালন করে। আগামী ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল তিন দিনব্যাপী মূল উৎসব পালন করা হয় পাহাড়িদের ঘরে ঘরে। মারমাদের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসবের মধ্য দিয়েই পাহাড়ে সমাপ্ত হবে ঐতিহ্যবাহী বিজু উৎসব।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তৃতা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, রাঙ্গামাটি সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল একরামুল রাহাত, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক জীতেন চাকমা প্রমুখ।

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সমতল ও পাহাড়ে কোনো বৈষম্য থাকবে না : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, পাহাড় এবং সমতলকে সমভাবে এগিয়ে নেওয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। সমতল ও পাহাড়ে কোনো বৈষম্য থাকবে না। পরস্পরের মধ্যে সম্প্রীতির সম্মিলন করা গেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম এগিয়ে যাবে, সেই সাথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

আজ রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে রাঙ্গামাটিতে পাঁচ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মেলার উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এসব কথা বলেন। আগামী ১০ এপ্রিল শেষ হবে এ উৎসব।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এখানে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়কে সাথে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। পাহাড়ে বিজু উৎসব বৈসাবী উৎসব নামে উদযাপন করা হলেও বর্তমানে এই উৎসব পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের নামেই উদযাপন করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু, চাংক্রান, বিষু, সাংলান, চাংক্রাই, পাতাও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বিজু উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে মিলনমেলা শুরু হয়। এটা সামাজিক বন্ধনের একটি দৃঢ় সেতু। পাহাড়ের সৌন্দর্য ও আতিথেয়তা সকলকে মুগ্ধ করে। এখানকার সংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে রাঙ্গামাটি সরকারী কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণ থেকে একটি র‌্যালি শুরু হয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হবে।

পাঁচ দিনব্যাপী বাংলা নববর্ষ ও বৈসাবী উৎসবে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসব, খেলাধুলা, পণ্য প্রদর্শনী, নাটক মঞ্চায়নসহ ব্যাপক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বসানো হয়েছে বিভিন্ন স্টল। এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, বৈসু ও সাংগ্রাইকে ঘিরে পাহাড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় পালিত হচ্ছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা।

প্রতিবছর চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষে উৎসবটির আয়োজন করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী। উৎসবকে চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুরারা বৈসুক, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু এবং অহমিয়া জনগোষ্ঠী বিহু নামে পালন করে। আগামী ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল তিন দিনব্যাপী মূল উৎসব পালন করা হয় পাহাড়িদের ঘরে ঘরে। মারমাদের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসবের মধ্য দিয়েই পাহাড়ে সমাপ্ত হবে ঐতিহ্যবাহী বিজু উৎসব।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তৃতা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, রাঙ্গামাটি সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল একরামুল রাহাত, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক জীতেন চাকমা প্রমুখ।

বিডিসংবাদ/এএইচএস