ঢাকা ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সৌদি রুটে ১৮০ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে ২৩ হাজার যাত্রী ভাঙ্গুড়ায় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিরিজ ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৩ চরফ্যাশনে সারের সংকট, মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগ কৃষকদের দেশের ২৯তম পররাষ্ট্র সচিব হলেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী টানা দুইবার গোল্ডেন বুট জিতে ইতিহাস গড়লেন লিওনেল মেসি শাহজালালে হারানো ব্যাগ উদ্ধার: ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদের তৎপরতায় উপকৃত যাত্রীরা প্রতিরক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগের পথে সার্বিয়ার শিক্ষার্থী জোট জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা খেয়ে ইরানের বিষয়ে দ্বিধায় ট্রাম্প

সাতক্ষীরায় আলোচিত যুবক মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি

  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 15
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে এ মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে কালিগঞ্জ থানার কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, এই মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুল রহমানের ছেলে। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পাশাপাশি কামিল পাস করেছিলেন এবং হোমিওপ্যাথি নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শামীম মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। তার অসংলগ্ন আচরণের বিষয়টি স্থানীয়দের পরিচিত ছিল। তবে শামীম ও তার স্ত্রীর মধ্যকার কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তজনা সৃষ্টি হয়। অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য রয়েছে এমন অভিযোগে স্থানীয়রা তার বাড়িতে হামলার চেষ্টা করে। গত সোমবার শামীম (৩৮) ও তার স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় সোমবার স্থানীয় বাজারে শামীমকে প্রথম দফায় মারধর করা হয়। পরবর্তী দিন মঙ্গলবার বিকেলে পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নেওয়ার সময় তাকে আবারও আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলেও রাতে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে হাসপাতালে হামলা চালানো হয় এবং শামীমকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় শামীমের বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নেওয়ার সময় একদল লোক শামীমকে সেখান থেকে বের করে আবার মারধর করে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

ফেসবুকে ‘Fh Ameni’ নামের একটি প্রোফাইল ব্যবহারকারী ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তারের আগে বেশ কিছু পোস্ট দিয়েছিলেন। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন যে, যেকোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। একইসাথে তিনি নিজেকে গাজি ইলমুদ্দিনের সাথে তুলনা করে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এছাড়াও বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের বিভিন্ন পোস্টে তিনি শামীমের মানসিক অসুস্থতার দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন এবং অডিওসহ বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্য প্রচার করেন। পুলিশের দাবি, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি আপনাদের মাঝে থাকবো না, যেকোনো সময় আমাকে এরেস্ট করা হবে, কিন্তু মোনাজাতে আমাকে শামিল রাখবেন।’। ওই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘তামাম বিশ্ববাসী আমাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করলেও কিছু যায় আসে না, যদি আল্লাহ পাক আমাকে মাফ করে দেন। এ যুগের গাজী ইলমুদ্দিন হিসেবে আমাকে এবং এই অপারেশনে যারা অংশগ্রহণ করেছিল সকলকে যেন কবুল করে নেন।’। এর আগে শুক্রবার রাত ১০টা ২২ মিনিটে শামীমকে নিয়ে আরেকটি পোস্ট দেন ফজলুল হক আমিনী। এরও আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে দেওয়া একটি পোস্টে শামীমের মানসিক অসুস্থতার দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

সাতক্ষীরায় আলোচিত যুবক মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি

আপডেট সময় : ১২:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে এ মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে কালিগঞ্জ থানার কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, এই মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুল রহমানের ছেলে। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পাশাপাশি কামিল পাস করেছিলেন এবং হোমিওপ্যাথি নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শামীম মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। তার অসংলগ্ন আচরণের বিষয়টি স্থানীয়দের পরিচিত ছিল। তবে শামীম ও তার স্ত্রীর মধ্যকার কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তজনা সৃষ্টি হয়। অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য রয়েছে এমন অভিযোগে স্থানীয়রা তার বাড়িতে হামলার চেষ্টা করে। গত সোমবার শামীম (৩৮) ও তার স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় সোমবার স্থানীয় বাজারে শামীমকে প্রথম দফায় মারধর করা হয়। পরবর্তী দিন মঙ্গলবার বিকেলে পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নেওয়ার সময় তাকে আবারও আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলেও রাতে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে হাসপাতালে হামলা চালানো হয় এবং শামীমকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় শামীমের বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নেওয়ার সময় একদল লোক শামীমকে সেখান থেকে বের করে আবার মারধর করে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

ফেসবুকে ‘Fh Ameni’ নামের একটি প্রোফাইল ব্যবহারকারী ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তারের আগে বেশ কিছু পোস্ট দিয়েছিলেন। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন যে, যেকোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। একইসাথে তিনি নিজেকে গাজি ইলমুদ্দিনের সাথে তুলনা করে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এছাড়াও বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের বিভিন্ন পোস্টে তিনি শামীমের মানসিক অসুস্থতার দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন এবং অডিওসহ বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্য প্রচার করেন। পুলিশের দাবি, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি আপনাদের মাঝে থাকবো না, যেকোনো সময় আমাকে এরেস্ট করা হবে, কিন্তু মোনাজাতে আমাকে শামিল রাখবেন।’। ওই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘তামাম বিশ্ববাসী আমাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করলেও কিছু যায় আসে না, যদি আল্লাহ পাক আমাকে মাফ করে দেন। এ যুগের গাজী ইলমুদ্দিন হিসেবে আমাকে এবং এই অপারেশনে যারা অংশগ্রহণ করেছিল সকলকে যেন কবুল করে নেন।’। এর আগে শুক্রবার রাত ১০টা ২২ মিনিটে শামীমকে নিয়ে আরেকটি পোস্ট দেন ফজলুল হক আমিনী। এরও আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে দেওয়া একটি পোস্টে শামীমের মানসিক অসুস্থতার দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন তিনি।