ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানে ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য : জেডি ভ্যান্স ১০ কোটি ভিউ পার করলো ইমরান-পড়শীর ‘জনম জনম’ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে নতুন প্রতিরোধ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ : চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধে তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তানজিদের বেগম খালেদা জিয়া : গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা

নুসরাত হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে শামিম-নুর উদ্দিনের আদালতে জবানবন্দি

  • আপডেট সময় : ০৯:২৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৯
  • / 220
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত ও অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন ও শাহদাত হোসেন শামিম স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রবিবার (১৪এপ্রিল) সিনিয়র জুুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। রোববার দুুুপুর ২টা ৫৫ থেকে রাত ১টা পর্যন্ত চলে রেকর্ড।


রাত ১টা ৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশান (পিবিআই) এর স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন এন্ড অপারেশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহেরুল হক চৌহান এ ব্যাাপারে সাংবাদিকদেও ব্রিফ করেন।
এসময় তিনি বলেন, পিবিআই এ মামলার দায়িত্ব পাওয়ার চার দিনের মধ্যে (১০-১৪ এপ্রিল) আমরা ঘটনার মূল নায়ক যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আইনের মধ্যে থেকে বিজ্ঞ আদালতের কাছে তাদের হাজির করেছেন। আদালত দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সিআরপিসির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। আসামীদ্বয় স্বত:স্পূর্তভাবে বিজ্ঞ আদালতের কাছে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। আসামীদ্বয় পুরো বিষয় খোলাসা করেছেন। হত্যাকান্ডটি কারা ঘটিয়েছে, কিভাবে ঘটিয়েছে, কি প্রক্রিয়ায় ঘটিয়েছে বিস্তারিত বলেছেন কিন্তু তা আপনাদের সামনে পেশ করবো না মামলার তদন্তের স্বার্থে।


এসময় তিনি আরো বলেন, আসামীরা অপরাধ স্বীকার করেছেন, তারা হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন। তারা জেলখানা (সিরাজ উদ দৌলা) থেকে হুকুম পেয়েছেন।


এসময় তিনি আরো বলেন এখনো পর্যন্ত এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ১৩ জনের নাম এসেছে। এছাড়াও বিক্ষিপ্তভাবে কিছু নাম এসেছে। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবো।


তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত যে চারজন তাদের সকলকে আমরা গ্রেপ্তার করতে পারিনি। দুইজন গ্রেপ্তার আছে, বাকী দুইজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। যেকোন সময় আপনাদের একটি ভালো খবর দিতে পারবো।


এর আগে বৃস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহ ভালুকা থেকে নুর উদ্দিন ও পরদিন শুক্রবার সকালে মুক্তাগাছা থেকে শাহাদাত হোসেন শামীমকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনবেস্টিগেশন (পিবিআই)। নুর উদ্দিন নুসরাত হত্যা মামলার ২নং ও শাহাদাত হোসেন শামিম ৩নং আসামী।


তদন্তের দায়িত্ব পাবার চার দিনের মাথায় সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান জানান, নুর উদ্দিনসহ ১৩ জন জড়িত এই বর্বরতায়।


এর আগে গত শুক্রবার পিবিআই প্রধান সংবাদ সম্মেলন করে জানান, আমাদের এই ঘটনায় ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। আরো বাড়তে পারে। এর মধ্যে সিরাজসহ ৮ জন গ্রেফতার আছে।


মূলত সিরাজউদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করা কাল হয়েছিল নুসরাতের জন্য। এরপরেই পরিকল্পনা করা হয় তাকে হত্যার। এর আগে নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যান হওয়ায় শামিমও যুক্ত হয় দলে। আগে থেকেই বোরখা পরে ছাদে অপেক্ষা করছিল হত্যাকারীরা। নুসরাতের সহপাঠী শম্পাই তাকে ডেকে ছাদে নিয়ে যায়। এর আগে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মূল পরিকল্পনা ঝালিয়ে নেয় নূর। পিবিআই প্রধান বলেন, নুরউদ্দিনের নেতৃত্বে ৫ জনের মধ্যে নুরউদ্দিন নিজে। ৭ নম্বর আসামি হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ আরো ৩ জন গেট পাহারা দেয়। আরেক জনের নাম আসছে তিনিও এই ঘটনায় জড়িয়ে যায় সেও ভেতরে ছিল।


মামলার চার্জশিট দ্রুত সময়ের মধ্যে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পিবিআই প্রধান।
আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) গোলাম জিলানী বলেন, মাদরাসাছাত্রীর গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনায় গ্রেফতার নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম আদালতে নেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওসি মো. শাহ আলম। তিনি আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


সোনাগাজীর চাঞ্চল্যকর নুসরাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ছয় আসামি এবং এজাহারবহির্ভূত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১১জন আসামি রিমান্ডে।


এর আগে ৯ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালত নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও শাহিদুল ইসলামকে পাঁচদিন করে রিমান্ড দেন।


১০ এপ্রিল অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলাকে সাতদিন, আবছার উদ্দিন ও আরিফুল ইসলামকে পাঁচদিন করে রিমান্ড দেন একই আদালতের বিচারক। ১১ এপ্রিল উম্মে সুলতানা পপি ও যোবায়ের হোসেনকে পাঁচদিন করে রিমান্ড দেন একই আদালতের বিচারক সরাফ উদ্দিন আহম্মেদ।


১৩ এপ্রিল শনিবার মামলার আরেক আসামী জাবেদ হোসেনকে ৭দিনের রিমান্ড দিয়েছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন।


গত বুধবার রাত ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি। পরদিন সকালে ময়তদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দিলে বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।


৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। মাদরাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে এমন সংবাদ দিলে সে ওই বিল্ডিংয়ের তিন তলায় যান। সেখানে মুখোশপরা ৪/৫ জন ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। সে অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।


এ ঘটনায় সোমবার রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।
এর আগে ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় শ্লীলতাহানি মামলা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নুসরাত হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে শামিম-নুর উদ্দিনের আদালতে জবানবন্দি

আপডেট সময় : ০৯:২৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৯

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত ও অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন ও শাহদাত হোসেন শামিম স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রবিবার (১৪এপ্রিল) সিনিয়র জুুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। রোববার দুুুপুর ২টা ৫৫ থেকে রাত ১টা পর্যন্ত চলে রেকর্ড।


রাত ১টা ৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশান (পিবিআই) এর স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন এন্ড অপারেশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহেরুল হক চৌহান এ ব্যাাপারে সাংবাদিকদেও ব্রিফ করেন।
এসময় তিনি বলেন, পিবিআই এ মামলার দায়িত্ব পাওয়ার চার দিনের মধ্যে (১০-১৪ এপ্রিল) আমরা ঘটনার মূল নায়ক যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আইনের মধ্যে থেকে বিজ্ঞ আদালতের কাছে তাদের হাজির করেছেন। আদালত দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সিআরপিসির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। আসামীদ্বয় স্বত:স্পূর্তভাবে বিজ্ঞ আদালতের কাছে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। আসামীদ্বয় পুরো বিষয় খোলাসা করেছেন। হত্যাকান্ডটি কারা ঘটিয়েছে, কিভাবে ঘটিয়েছে, কি প্রক্রিয়ায় ঘটিয়েছে বিস্তারিত বলেছেন কিন্তু তা আপনাদের সামনে পেশ করবো না মামলার তদন্তের স্বার্থে।


এসময় তিনি আরো বলেন, আসামীরা অপরাধ স্বীকার করেছেন, তারা হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন। তারা জেলখানা (সিরাজ উদ দৌলা) থেকে হুকুম পেয়েছেন।


এসময় তিনি আরো বলেন এখনো পর্যন্ত এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ১৩ জনের নাম এসেছে। এছাড়াও বিক্ষিপ্তভাবে কিছু নাম এসেছে। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবো।


তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত যে চারজন তাদের সকলকে আমরা গ্রেপ্তার করতে পারিনি। দুইজন গ্রেপ্তার আছে, বাকী দুইজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। যেকোন সময় আপনাদের একটি ভালো খবর দিতে পারবো।


এর আগে বৃস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহ ভালুকা থেকে নুর উদ্দিন ও পরদিন শুক্রবার সকালে মুক্তাগাছা থেকে শাহাদাত হোসেন শামীমকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনবেস্টিগেশন (পিবিআই)। নুর উদ্দিন নুসরাত হত্যা মামলার ২নং ও শাহাদাত হোসেন শামিম ৩নং আসামী।


তদন্তের দায়িত্ব পাবার চার দিনের মাথায় সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান জানান, নুর উদ্দিনসহ ১৩ জন জড়িত এই বর্বরতায়।


এর আগে গত শুক্রবার পিবিআই প্রধান সংবাদ সম্মেলন করে জানান, আমাদের এই ঘটনায় ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। আরো বাড়তে পারে। এর মধ্যে সিরাজসহ ৮ জন গ্রেফতার আছে।


মূলত সিরাজউদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করা কাল হয়েছিল নুসরাতের জন্য। এরপরেই পরিকল্পনা করা হয় তাকে হত্যার। এর আগে নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যান হওয়ায় শামিমও যুক্ত হয় দলে। আগে থেকেই বোরখা পরে ছাদে অপেক্ষা করছিল হত্যাকারীরা। নুসরাতের সহপাঠী শম্পাই তাকে ডেকে ছাদে নিয়ে যায়। এর আগে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মূল পরিকল্পনা ঝালিয়ে নেয় নূর। পিবিআই প্রধান বলেন, নুরউদ্দিনের নেতৃত্বে ৫ জনের মধ্যে নুরউদ্দিন নিজে। ৭ নম্বর আসামি হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ আরো ৩ জন গেট পাহারা দেয়। আরেক জনের নাম আসছে তিনিও এই ঘটনায় জড়িয়ে যায় সেও ভেতরে ছিল।


মামলার চার্জশিট দ্রুত সময়ের মধ্যে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পিবিআই প্রধান।
আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) গোলাম জিলানী বলেন, মাদরাসাছাত্রীর গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনায় গ্রেফতার নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম আদালতে নেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওসি মো. শাহ আলম। তিনি আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


সোনাগাজীর চাঞ্চল্যকর নুসরাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ছয় আসামি এবং এজাহারবহির্ভূত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১১জন আসামি রিমান্ডে।


এর আগে ৯ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালত নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও শাহিদুল ইসলামকে পাঁচদিন করে রিমান্ড দেন।


১০ এপ্রিল অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলাকে সাতদিন, আবছার উদ্দিন ও আরিফুল ইসলামকে পাঁচদিন করে রিমান্ড দেন একই আদালতের বিচারক। ১১ এপ্রিল উম্মে সুলতানা পপি ও যোবায়ের হোসেনকে পাঁচদিন করে রিমান্ড দেন একই আদালতের বিচারক সরাফ উদ্দিন আহম্মেদ।


১৩ এপ্রিল শনিবার মামলার আরেক আসামী জাবেদ হোসেনকে ৭দিনের রিমান্ড দিয়েছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন।


গত বুধবার রাত ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি। পরদিন সকালে ময়তদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দিলে বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।


৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। মাদরাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে এমন সংবাদ দিলে সে ওই বিল্ডিংয়ের তিন তলায় যান। সেখানে মুখোশপরা ৪/৫ জন ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। সে অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।


এ ঘটনায় সোমবার রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।
এর আগে ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় শ্লীলতাহানি মামলা করেন।