ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানে ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য : জেডি ভ্যান্স ১০ কোটি ভিউ পার করলো ইমরান-পড়শীর ‘জনম জনম’ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে নতুন প্রতিরোধ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ : চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধে তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তানজিদের বেগম খালেদা জিয়া : গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা

দুর্নীতির অভিযোগে ইইউতে চাঞ্চল্য

  • আপডেট সময় : ১২:০৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২২
  • / 188
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের ভেতরে প্রভাব বিস্তারের জন্য কাতার কয়েকজন ইইউ কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়েছে, এমন এক অভিযোগ ওঠার পর ব্রাসেলসে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে ‘খুবই গুরুতর’ দুর্নীতির অভিযোগ বলে বর্ণনা করেছেন ইসি চেয়ারম্যান উরসুলা ভন ডার লাইন, যা ইউরোপে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

বেলজিয়ামের পুলিশ যে চারজনকে গ্রেফতার করেছে তাদের মধ্যে আছেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইভা কাইলি। বাকিদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ-পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশি অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থও উদ্ধার করা হয়।

যদিও কাতার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিবিসির সংবাদদাতা বলেন, অভিযোগের গুরুত্ব ও মাত্রা দেখে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের অনেক সদস্য হতবাক হয়ে গেছেন।

অনেকে বলছেন, এটি হয়তো ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্নীতির কেলেংকারির অন্যতম হতে যাচ্ছে।

‘দেশটির নাম কাতার’
কৌঁসুলিরা বলছেন, তারা সন্দেহ করছিলেন যে একটি উপসাগরীয় দেশ বেশ কয়েক মাস ধরে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব বিস্তার করছিল। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে দেশটির নাম কাতার বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে কাতারের সরকার বলছে, অসদাচরণের এসব দাবি ‘গুরুতর অজ্ঞতাপ্রসূত।’
ইউরোপীয় সংসদের সদস্যদের কোনোরকম ব্রিফিং করার কথাও কাতার অস্বীকার করেছে।

গ্রীক রাজনীতিক ইভা কাইলির বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তাকে তার বাড়িতে বস্তাভর্তি অর্থসহ ধরা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এক বিতর্কে কাতারকে সমর্থন করার জন্য তিনি ওই অর্থ পেয়েছেন। তবে কাতারের সরকার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের ঘুষ দেয়ার কথা অস্বীকার করেছে।

পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাইলির দায়িত্বের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তিনি অতীতে কাতারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

নগদ লাখ লাখ ইউরো পেয়েছে পুলিশ
ব্রাসেলসে শুক্রবার ১৬টি জায়গায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ নগদ ৬০ লাখ ইউরো বাজেয়াপ্ত করে, তা ছাড়া কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

কাইলি আট বছর ধরে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন এবং এ ঘটনার পর তাকে পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

এছাড়া পার্লামেন্টের সোশালিস্ট-ডেমোক্র্যাট গ্রুপ এবং গ্রিসের মধ্য-বাম পাসোক পার্টি থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছারাও গ্রিসের কৌঁসুলিরা কাইলির সকল সম্পদ ফ্রিজ করেছেন বলেও জানা গেছে।

‘হিমশৈলের চূড়া মাত্র’
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একজন ঊর্ধ্বতন সদস্য বলেছেন কাতারকে ঘিরে বর্তমান দুর্নীতির কেলেঙ্কারি তার ভাষায় ‘হিমশৈলের চূড়ামাত্র’। পার্লামেন্টের বামপন্থী গোষ্ঠীর সহ-সভাপতি মানন অব্রে এক টুইট বার্তায় বলেন, তিনি দেখেছেন যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তার সহকর্মীরা যারা কাতারে গেছেন তারা ফিরে আসার পর মত বদলে ফেলেছেন।

মানন অব্রে বলেন, সরকারগুলোর জোরালো তদবিরের প্রক্রিয়া নিষিদ্ধ করা উচিত এবং ইইউর প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মনীতি নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।
সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দুর্নীতির অভিযোগে ইইউতে চাঞ্চল্য

আপডেট সময় : ১২:০৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২২

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের ভেতরে প্রভাব বিস্তারের জন্য কাতার কয়েকজন ইইউ কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়েছে, এমন এক অভিযোগ ওঠার পর ব্রাসেলসে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে ‘খুবই গুরুতর’ দুর্নীতির অভিযোগ বলে বর্ণনা করেছেন ইসি চেয়ারম্যান উরসুলা ভন ডার লাইন, যা ইউরোপে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

বেলজিয়ামের পুলিশ যে চারজনকে গ্রেফতার করেছে তাদের মধ্যে আছেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইভা কাইলি। বাকিদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ-পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশি অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থও উদ্ধার করা হয়।

যদিও কাতার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিবিসির সংবাদদাতা বলেন, অভিযোগের গুরুত্ব ও মাত্রা দেখে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের অনেক সদস্য হতবাক হয়ে গেছেন।

অনেকে বলছেন, এটি হয়তো ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্নীতির কেলেংকারির অন্যতম হতে যাচ্ছে।

‘দেশটির নাম কাতার’
কৌঁসুলিরা বলছেন, তারা সন্দেহ করছিলেন যে একটি উপসাগরীয় দেশ বেশ কয়েক মাস ধরে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব বিস্তার করছিল। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে দেশটির নাম কাতার বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে কাতারের সরকার বলছে, অসদাচরণের এসব দাবি ‘গুরুতর অজ্ঞতাপ্রসূত।’
ইউরোপীয় সংসদের সদস্যদের কোনোরকম ব্রিফিং করার কথাও কাতার অস্বীকার করেছে।

গ্রীক রাজনীতিক ইভা কাইলির বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তাকে তার বাড়িতে বস্তাভর্তি অর্থসহ ধরা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এক বিতর্কে কাতারকে সমর্থন করার জন্য তিনি ওই অর্থ পেয়েছেন। তবে কাতারের সরকার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের ঘুষ দেয়ার কথা অস্বীকার করেছে।

পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাইলির দায়িত্বের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তিনি অতীতে কাতারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

নগদ লাখ লাখ ইউরো পেয়েছে পুলিশ
ব্রাসেলসে শুক্রবার ১৬টি জায়গায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ নগদ ৬০ লাখ ইউরো বাজেয়াপ্ত করে, তা ছাড়া কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

কাইলি আট বছর ধরে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন এবং এ ঘটনার পর তাকে পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

এছাড়া পার্লামেন্টের সোশালিস্ট-ডেমোক্র্যাট গ্রুপ এবং গ্রিসের মধ্য-বাম পাসোক পার্টি থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছারাও গ্রিসের কৌঁসুলিরা কাইলির সকল সম্পদ ফ্রিজ করেছেন বলেও জানা গেছে।

‘হিমশৈলের চূড়া মাত্র’
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একজন ঊর্ধ্বতন সদস্য বলেছেন কাতারকে ঘিরে বর্তমান দুর্নীতির কেলেঙ্কারি তার ভাষায় ‘হিমশৈলের চূড়ামাত্র’। পার্লামেন্টের বামপন্থী গোষ্ঠীর সহ-সভাপতি মানন অব্রে এক টুইট বার্তায় বলেন, তিনি দেখেছেন যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তার সহকর্মীরা যারা কাতারে গেছেন তারা ফিরে আসার পর মত বদলে ফেলেছেন।

মানন অব্রে বলেন, সরকারগুলোর জোরালো তদবিরের প্রক্রিয়া নিষিদ্ধ করা উচিত এবং ইইউর প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মনীতি নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।
সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস