ঢাকা ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সাকিবের বাংলাদেশ জিততে চায়, যেকোনো মূল্যে জিততে চায়

  • আপডেট সময় : ১২:০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুলাই ২০২৩
  • / 275
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

সাকিবের বাংলাদেশ জিততে চায়, যেকোনো মূল্যে জিততে চায় টাইগাররা। এই জিততে চাওয়ার প্রচেষ্টা দেখা গেছে বারবার বাংলাদেশের ম্যাচে।

১. ক্যাচটা শেষ পর্যন্ত নিতে পারেননি রনি তালুকদার। মাটিতে ঝাঁকি খেয়ে হাত থেকে ফসকে গেলো বল। তবে যেভাবে দৌঁড়ে গেলেন, শেষ বিন্দু দিয়ে চেষ্টা চালালেন, যেভাবে ঝাঁপিয়ে মুঠোবন্দী করলেন; তাতেই পুরো স্টেডিয়াম যেন দাঁড়িয়ে গেল। হাততালি দিয়ে তাকে অভিবাদন জানালো। সতীর্থরাও ছুটে এসে বাহবা দিয়ে গেলেন, ধারাভাষ্যকারের মুখেও ছুটলো প্রশংসার বাহার।

ছোট্ট একটা ঘটনা, তবে ম্যাচের শুরুর এই চিত্রটাই বলে দেয় কতটা মরিয়া বাংলাদেশ। রনি তালুকদার দলের সেরা ফিল্ডার নয়, তবুও হারার আগে হার না মানার এই চেষ্টাই যেন তেষ্টা পাইয়ে দিয়েছিল গোটা দলকে। যার ফলশ্রুতিতে পাওয়ার প্লেতেই আফগানদের টপ অর্ডার ভেঙে দিয়েছিল বাংলাদেশ, ৫২ রানে তুলে নিয়েছিল ৪ উইকেট।

২. সাকিব আল হাসান টেকনিক্যালি দেশের সেরা অধিনায়ক, তা সবাই বলে। তার ক্রিকেটিয় মেধা প্রশংসার দাবিদার নিঃসন্দেহে। তবে সাহসী সাকিব নিয়ে কথা যেনো একটু কমই হয়। অথচ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে, সাহসী হয়ে উঠতে সাকিবের জুড়ি মেলা ভার। গতকাল আফগানিস্তানের বিপক্ষেও দেখা মিললো যার।

আগের দুই ওভারে তাসকিন আর মোস্তাফিজ উভয়েই দিলেন সমান ১৪ করে রান। যে কেউ এই সময়টা এড়িয়ে যেতে চাইতেন, অন্য কারো ধারস্থ হতেন। তবে বরাবরই সাহসী সাকিব নিজেই এগিয়ে এলেন, জুটি ভাঙার চেষ্টা চালালেন। যদিও প্রথম দুই বলে দুটো ছক্কা খেলেন, তবে শেষ পর্যন্ত ওমরজাইকে ফিরিয়েই ওভার শেষ করলেন।

৩. বিপিএল ২০২২। ফাইনালে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হৃদয়ের বাজে ব্যাটিংয়ে হেরে যায় ফরচুন বরিশাল। ফলে সরব হয়ে উঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চারদিকে উঠে সমালোচনার ঝড়; কত নিন্দা, কত ট্রল। তখনই হয়তো তৌহিদ হৃদয় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন, সুযোগ আসলে বদলা নিবেন।

সফলতার থেকে বড় প্রতিশোধ আর কী হতে পারে? হৃদয়ও হাঁটলেন সেই পথে। সেদিন তাকে নিয়ে যাদের মুখ ছিল বিষন্ন, আজ যেন তাদের মুখেই খুশির ফোয়ারা। যেই হৃদয় বরিশালের জার্সি গায়ে সেদিন সবার কাছে হয়ে উঠেছিলেন তিক্ত, আজ দেশের জার্সিতে তাকে ঘিরে সবাই তৃপ্ত। হৃদয় সত্যিই যেন জিতে নিয়েছেন হৃদয়।

৪. বাংলাদেশ ক্রিকেট এতদিন এমন কারো খুঁজেই ছিল। এমন যোদ্ধা ভূমিকা খুব করে মিস করছিল। খুব করে চাইছিল তাদেরকে, হার শব্দটা নেই যাদের অভিধানে। যারা কিনা চাপের মুখে আরো জ্বলে উঠে আপন আগুনে। সমাধান হয়ে আসেন ১৯ যুব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা; তাওহীদ হৃদয় আর শামীম পাটোয়ারী দিলেন আস্থা।

আফগান ফারুকীর ভয়ে যখন দিশেহারা দল, অভিজ্ঞরা তো বটেই, প্রতিভাবানরাও তটস্থ; তখন তার ওভারে ১৬ রান বের করে আনার সাহস দেখালো এই জুটি। এর আগে ওমরজাইয়ের ওভারেও এনেছিল ২১। এই দুটো ওভারই বদলে দেয় খেলার গতিপথ, দেখায় বাংলাদেশকে জয়ের পথ। অথচ খেলা শুর‍ুর আগেও কেউ কেউ বলছিল, যা করার তা করতে হবে টপ অর্ডারকেই!

৫. ভেন্যু পরিবর্তন, ফরম্যাট পরিবর্তন, পরিবর্তন এসেছে উদ্বোধনী জুটিতেও; তবে বদলায়নি চিত্র, বদলায়নি পুরনো গল্প। আবারো ফারুকীর কাছে পরাস্ত উদ্বোধনী জুটি। ওয়ানডে সিরিজের পর প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও ব্যর্থ। প্রথম ওভারের শেষ বলেই ভেঙেছে উদ্বোধনী জুটি। রনির স্ট্যাম্প উড়ার আগে স্কোরবোর্ডে আসে ৫ রান।

৬. জিততে দরকার ৬ বলে ৬ রান, হাতে ৫ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে এর চেয়ে সহজ সমীকরণ আর কী হতে পারে! প্রথম বলেই মিরাজের বাউন্ডারিতে পাঁচ বলে চাই দুই। অথচ এই দূরত্বটাই কঠিন করে তুললেন মিরাজ, তাসকিন, নাসুম। দুই রান তুলতে গিয়ে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে আসলেন তিনজন; করিম জানাতকে উপহার দিলেন হ্যাটট্রিক।

এক নিমিষেই যেন ফিরে আসলো ২০১৬ সালের ব্যাঙ্গালুরু স্মৃতি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেবার ভারতের দেয়া ভারতের বিপক্ষে ৩ বলে ২ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি টাইগাররা, ১৪৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় হেরেছিল ১ রানে। জনমনে আতঙ্ক, এবারো কি এমন কিছু হতে চলেছে! না তা আর হয়নি, দশে নামা শরিফুলের বাউন্ডারিতে ১ বল বাকি থাকতেই ২ উইকেটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

৭. টি-টোয়েন্টি দলটা যেন ভিন্ন ধাচের। সাকিব আল হাসান যেন ভিন্ন একটা রূপ দেয়ার চেষ্টা করছেন। চেষ্টা করছেন সংক্ষিপ্ত এই ফরম্যাটে সমীহ জাগানিয়া একটা দল হিসেবে গড়ে তুলতে। যেই দলটা ভয় পাবেনা, খেলবে প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে। হারার আগে হারবে না, হারতে চাইবে না। শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করবে জয়ের নেশায়।

এখনো হয়তো সেই চাওয়ার পুরোটা পূরণ হয়নি, তবে সেই পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ। একটা দল যখন শেষ ৭ ম্যাচের ছয়টা জিতবে, তখন নিশ্চয়ই তারা সঠিক পথেই আছে। আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড নয়; বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকেও ধবলধোলাই দিয়েছে এই সময়। ফলে শুধু বলা যায়, এই জয়রথ ছুটতে থাকুক।

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সাকিবের বাংলাদেশ জিততে চায়, যেকোনো মূল্যে জিততে চায়

আপডেট সময় : ১২:০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুলাই ২০২৩

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

সাকিবের বাংলাদেশ জিততে চায়, যেকোনো মূল্যে জিততে চায় টাইগাররা। এই জিততে চাওয়ার প্রচেষ্টা দেখা গেছে বারবার বাংলাদেশের ম্যাচে।

১. ক্যাচটা শেষ পর্যন্ত নিতে পারেননি রনি তালুকদার। মাটিতে ঝাঁকি খেয়ে হাত থেকে ফসকে গেলো বল। তবে যেভাবে দৌঁড়ে গেলেন, শেষ বিন্দু দিয়ে চেষ্টা চালালেন, যেভাবে ঝাঁপিয়ে মুঠোবন্দী করলেন; তাতেই পুরো স্টেডিয়াম যেন দাঁড়িয়ে গেল। হাততালি দিয়ে তাকে অভিবাদন জানালো। সতীর্থরাও ছুটে এসে বাহবা দিয়ে গেলেন, ধারাভাষ্যকারের মুখেও ছুটলো প্রশংসার বাহার।

ছোট্ট একটা ঘটনা, তবে ম্যাচের শুরুর এই চিত্রটাই বলে দেয় কতটা মরিয়া বাংলাদেশ। রনি তালুকদার দলের সেরা ফিল্ডার নয়, তবুও হারার আগে হার না মানার এই চেষ্টাই যেন তেষ্টা পাইয়ে দিয়েছিল গোটা দলকে। যার ফলশ্রুতিতে পাওয়ার প্লেতেই আফগানদের টপ অর্ডার ভেঙে দিয়েছিল বাংলাদেশ, ৫২ রানে তুলে নিয়েছিল ৪ উইকেট।

২. সাকিব আল হাসান টেকনিক্যালি দেশের সেরা অধিনায়ক, তা সবাই বলে। তার ক্রিকেটিয় মেধা প্রশংসার দাবিদার নিঃসন্দেহে। তবে সাহসী সাকিব নিয়ে কথা যেনো একটু কমই হয়। অথচ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে, সাহসী হয়ে উঠতে সাকিবের জুড়ি মেলা ভার। গতকাল আফগানিস্তানের বিপক্ষেও দেখা মিললো যার।

আগের দুই ওভারে তাসকিন আর মোস্তাফিজ উভয়েই দিলেন সমান ১৪ করে রান। যে কেউ এই সময়টা এড়িয়ে যেতে চাইতেন, অন্য কারো ধারস্থ হতেন। তবে বরাবরই সাহসী সাকিব নিজেই এগিয়ে এলেন, জুটি ভাঙার চেষ্টা চালালেন। যদিও প্রথম দুই বলে দুটো ছক্কা খেলেন, তবে শেষ পর্যন্ত ওমরজাইকে ফিরিয়েই ওভার শেষ করলেন।

৩. বিপিএল ২০২২। ফাইনালে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হৃদয়ের বাজে ব্যাটিংয়ে হেরে যায় ফরচুন বরিশাল। ফলে সরব হয়ে উঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চারদিকে উঠে সমালোচনার ঝড়; কত নিন্দা, কত ট্রল। তখনই হয়তো তৌহিদ হৃদয় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন, সুযোগ আসলে বদলা নিবেন।

সফলতার থেকে বড় প্রতিশোধ আর কী হতে পারে? হৃদয়ও হাঁটলেন সেই পথে। সেদিন তাকে নিয়ে যাদের মুখ ছিল বিষন্ন, আজ যেন তাদের মুখেই খুশির ফোয়ারা। যেই হৃদয় বরিশালের জার্সি গায়ে সেদিন সবার কাছে হয়ে উঠেছিলেন তিক্ত, আজ দেশের জার্সিতে তাকে ঘিরে সবাই তৃপ্ত। হৃদয় সত্যিই যেন জিতে নিয়েছেন হৃদয়।

৪. বাংলাদেশ ক্রিকেট এতদিন এমন কারো খুঁজেই ছিল। এমন যোদ্ধা ভূমিকা খুব করে মিস করছিল। খুব করে চাইছিল তাদেরকে, হার শব্দটা নেই যাদের অভিধানে। যারা কিনা চাপের মুখে আরো জ্বলে উঠে আপন আগুনে। সমাধান হয়ে আসেন ১৯ যুব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা; তাওহীদ হৃদয় আর শামীম পাটোয়ারী দিলেন আস্থা।

আফগান ফারুকীর ভয়ে যখন দিশেহারা দল, অভিজ্ঞরা তো বটেই, প্রতিভাবানরাও তটস্থ; তখন তার ওভারে ১৬ রান বের করে আনার সাহস দেখালো এই জুটি। এর আগে ওমরজাইয়ের ওভারেও এনেছিল ২১। এই দুটো ওভারই বদলে দেয় খেলার গতিপথ, দেখায় বাংলাদেশকে জয়ের পথ। অথচ খেলা শুর‍ুর আগেও কেউ কেউ বলছিল, যা করার তা করতে হবে টপ অর্ডারকেই!

৫. ভেন্যু পরিবর্তন, ফরম্যাট পরিবর্তন, পরিবর্তন এসেছে উদ্বোধনী জুটিতেও; তবে বদলায়নি চিত্র, বদলায়নি পুরনো গল্প। আবারো ফারুকীর কাছে পরাস্ত উদ্বোধনী জুটি। ওয়ানডে সিরিজের পর প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও ব্যর্থ। প্রথম ওভারের শেষ বলেই ভেঙেছে উদ্বোধনী জুটি। রনির স্ট্যাম্প উড়ার আগে স্কোরবোর্ডে আসে ৫ রান।

৬. জিততে দরকার ৬ বলে ৬ রান, হাতে ৫ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে এর চেয়ে সহজ সমীকরণ আর কী হতে পারে! প্রথম বলেই মিরাজের বাউন্ডারিতে পাঁচ বলে চাই দুই। অথচ এই দূরত্বটাই কঠিন করে তুললেন মিরাজ, তাসকিন, নাসুম। দুই রান তুলতে গিয়ে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে আসলেন তিনজন; করিম জানাতকে উপহার দিলেন হ্যাটট্রিক।

এক নিমিষেই যেন ফিরে আসলো ২০১৬ সালের ব্যাঙ্গালুরু স্মৃতি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেবার ভারতের দেয়া ভারতের বিপক্ষে ৩ বলে ২ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি টাইগাররা, ১৪৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় হেরেছিল ১ রানে। জনমনে আতঙ্ক, এবারো কি এমন কিছু হতে চলেছে! না তা আর হয়নি, দশে নামা শরিফুলের বাউন্ডারিতে ১ বল বাকি থাকতেই ২ উইকেটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

৭. টি-টোয়েন্টি দলটা যেন ভিন্ন ধাচের। সাকিব আল হাসান যেন ভিন্ন একটা রূপ দেয়ার চেষ্টা করছেন। চেষ্টা করছেন সংক্ষিপ্ত এই ফরম্যাটে সমীহ জাগানিয়া একটা দল হিসেবে গড়ে তুলতে। যেই দলটা ভয় পাবেনা, খেলবে প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে। হারার আগে হারবে না, হারতে চাইবে না। শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করবে জয়ের নেশায়।

এখনো হয়তো সেই চাওয়ার পুরোটা পূরণ হয়নি, তবে সেই পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ। একটা দল যখন শেষ ৭ ম্যাচের ছয়টা জিতবে, তখন নিশ্চয়ই তারা সঠিক পথেই আছে। আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড নয়; বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকেও ধবলধোলাই দিয়েছে এই সময়। ফলে শুধু বলা যায়, এই জয়রথ ছুটতে থাকুক।

বিডিসংবাদ/এএইচএস