ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির আগে আটক অভিজিৎ দীপকে

  • আপডেট সময় : ০৬:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিল্লিতে শুক্রবার ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা তেরঙ্গা ওড়াও কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার ঠিক কয়েক মিনিট আগেই পুলিশ তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে তার বাড়ি থেকে আটক করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি তার দ্বিতীয়বার আটক হওয়ার ঘটনা। এর আগে গত শনিবার মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লিতে নামার পরপরই তাকে আটক করা হয়েছিল। এছাড়া এদিন মানডি হাউসের কাছ থেকে মিছিল করার সময় আইসা নেত্রী নেহা বোরাকেও পুলিশ আটক করেছে। ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে সিজেপি ও বিভিন্ন বিরোধী ছাত্র-যুব সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছিল।

আটকের আগে, শুক্রবার দুপুরে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাকে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ না করার বার্তা দেয়। এ সময় দীপকে ও পুলিশকর্মীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাকে যে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দীপকে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ জানান। তিনি পুলিশকে বলেন, সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার কোনো ভিডিও প্রমাণ তাদের কাছে থাকলে যেন দেখানো হয়। পুলিশ তাকে জানায় যে, অনুমতি ছাড়া মিছিল বা জমায়েত করা আইনত দণ্ডনীয় এবং পতাকা বিধি অনুযায়ী সম্মান প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েরেছ, কাঁধে ছোট একটি জাতীয় পতাকা জড়িয়ে, সোফায় বসে থাকা অভিজিৎ তার সামনে বসা পুলিশকর্মীকে প্রশ্ন করছেন, “আপনারা আমার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ এনেছেন। দীপকে তাকে দেওয়া নোটিশটি পড়ে শোনান, যার একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, “আপনি (দীপকে) সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষকে উসকানি দিয়ে আসছিলেন, যা বেআইনি। পুলিশকে উদ্দেশ্য করে দীপকে বলেছেন, “বরং আমাকে ফাঁসিই দিয়ে দিন না। নিজের বাড়িতে থাকা অবস্থায়, যখন অন্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন, তখন দীপকে তাদের এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। দীপকেকে আরও জানানো হয়েছে যে, তেরঙা পতাকা বহন করা আইনত অপরাধ নয়, তবে অনুমতি ছাড়া মিছিল বের করা বা ভিড় জমানো বিধিনিষেধের লঙ্ঘন এবং এর জন্য পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তদন্তকারীরা তার ওপর নজর রাখছেন।

সিজেপির এই কর্মসূচি মোকাবিলায় দিল্লি প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক ১৬ ও ১৭ অক্টোবর জনসাধারণের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, কনট প্লেস ও যন্তর মন্তরের আশপাশে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’-এর ১৬৩ ধারা জারি করে ১১ জনের বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৬,০০০-এর বেশি দিল্লি পুলিশ সদস্য, সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের (সিএপিএফ) ২২০টি কোম্পানি এবং বর্ধিত সিসিটিভি নেটওয়ার্ক মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এবং যন্তর মন্তরের পথে থাকা অন্যতম প্রধান ব্যবসার কেন্দ্র ‘কনট প্লেস’ ও এর আশপাশের এলাকায় ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ (-এর ১৬৩ ধারার অধীনে ১১ জনের বেশি জমাযেতে একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দিল্লিতে আরেক দফা আন্দোলন ঠেকাতে সরকার কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে প্রবেশাধিকার দুদিনের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে এই কর্মসূচির আগে নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, প্রশাসনিক কারণে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে। উৎসবের মরসুমে ব্যবসার ক্ষতির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর খবর অনুযায়ী, দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় কনট প্লেস, রাজীব চক, সেন্ট্রাল পার্ক, যন্তর মন্তর, পালিকা বাজার, নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশন এবং লুটিয়েন্স দিল্লির অন্যান্য সংবেদনশীল স্থানগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিকেল ৫টার প্রস্তাবিত মিছিলের আগে অন্যান্য জেলা থেকেও অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে।

বিক্ষোভের এই কর্মসূচিতে বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠন, আম আদমি পার্টি এবং কংগ্রেস সমর্থন জানিয়েছিল। তবে কনট প্লেসে এই কর্মসূচি বন্ধ করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েও সুপ্রিম কোর্ট থেকে কোনো জরুরি নির্দেশ পায়নি প্রশাসন। আদালত শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছে। সিজেপি জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের একটি ‘প্ল্যান বি’ বা বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। বৃহষ্পতিবার গভীর রাতে সাংবাদিক সম্মেলনে দীপকে তার গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছিলেন এবং কারাগারে যেতেও প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেছিলেন। আদালতের বেঞ্চ বলেছে, “আমরা আশা করি শুভবুদ্ধির উদয় হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দিল্লিতে ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির আগে আটক অভিজিৎ দীপকে

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লিতে শুক্রবার ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা তেরঙ্গা ওড়াও কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার ঠিক কয়েক মিনিট আগেই পুলিশ তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে তার বাড়ি থেকে আটক করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি তার দ্বিতীয়বার আটক হওয়ার ঘটনা। এর আগে গত শনিবার মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লিতে নামার পরপরই তাকে আটক করা হয়েছিল। এছাড়া এদিন মানডি হাউসের কাছ থেকে মিছিল করার সময় আইসা নেত্রী নেহা বোরাকেও পুলিশ আটক করেছে। ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে সিজেপি ও বিভিন্ন বিরোধী ছাত্র-যুব সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছিল।

আটকের আগে, শুক্রবার দুপুরে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাকে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ না করার বার্তা দেয়। এ সময় দীপকে ও পুলিশকর্মীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাকে যে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দীপকে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ জানান। তিনি পুলিশকে বলেন, সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার কোনো ভিডিও প্রমাণ তাদের কাছে থাকলে যেন দেখানো হয়। পুলিশ তাকে জানায় যে, অনুমতি ছাড়া মিছিল বা জমায়েত করা আইনত দণ্ডনীয় এবং পতাকা বিধি অনুযায়ী সম্মান প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েরেছ, কাঁধে ছোট একটি জাতীয় পতাকা জড়িয়ে, সোফায় বসে থাকা অভিজিৎ তার সামনে বসা পুলিশকর্মীকে প্রশ্ন করছেন, “আপনারা আমার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ এনেছেন। দীপকে তাকে দেওয়া নোটিশটি পড়ে শোনান, যার একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, “আপনি (দীপকে) সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষকে উসকানি দিয়ে আসছিলেন, যা বেআইনি। পুলিশকে উদ্দেশ্য করে দীপকে বলেছেন, “বরং আমাকে ফাঁসিই দিয়ে দিন না। নিজের বাড়িতে থাকা অবস্থায়, যখন অন্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন, তখন দীপকে তাদের এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। দীপকেকে আরও জানানো হয়েছে যে, তেরঙা পতাকা বহন করা আইনত অপরাধ নয়, তবে অনুমতি ছাড়া মিছিল বের করা বা ভিড় জমানো বিধিনিষেধের লঙ্ঘন এবং এর জন্য পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তদন্তকারীরা তার ওপর নজর রাখছেন।

সিজেপির এই কর্মসূচি মোকাবিলায় দিল্লি প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক ১৬ ও ১৭ অক্টোবর জনসাধারণের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, কনট প্লেস ও যন্তর মন্তরের আশপাশে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’-এর ১৬৩ ধারা জারি করে ১১ জনের বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৬,০০০-এর বেশি দিল্লি পুলিশ সদস্য, সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের (সিএপিএফ) ২২০টি কোম্পানি এবং বর্ধিত সিসিটিভি নেটওয়ার্ক মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এবং যন্তর মন্তরের পথে থাকা অন্যতম প্রধান ব্যবসার কেন্দ্র ‘কনট প্লেস’ ও এর আশপাশের এলাকায় ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ (-এর ১৬৩ ধারার অধীনে ১১ জনের বেশি জমাযেতে একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দিল্লিতে আরেক দফা আন্দোলন ঠেকাতে সরকার কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে প্রবেশাধিকার দুদিনের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে এই কর্মসূচির আগে নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, প্রশাসনিক কারণে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে। উৎসবের মরসুমে ব্যবসার ক্ষতির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর খবর অনুযায়ী, দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় কনট প্লেস, রাজীব চক, সেন্ট্রাল পার্ক, যন্তর মন্তর, পালিকা বাজার, নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশন এবং লুটিয়েন্স দিল্লির অন্যান্য সংবেদনশীল স্থানগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিকেল ৫টার প্রস্তাবিত মিছিলের আগে অন্যান্য জেলা থেকেও অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে।

বিক্ষোভের এই কর্মসূচিতে বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠন, আম আদমি পার্টি এবং কংগ্রেস সমর্থন জানিয়েছিল। তবে কনট প্লেসে এই কর্মসূচি বন্ধ করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েও সুপ্রিম কোর্ট থেকে কোনো জরুরি নির্দেশ পায়নি প্রশাসন। আদালত শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছে। সিজেপি জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের একটি ‘প্ল্যান বি’ বা বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। বৃহষ্পতিবার গভীর রাতে সাংবাদিক সম্মেলনে দীপকে তার গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছিলেন এবং কারাগারে যেতেও প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেছিলেন। আদালতের বেঞ্চ বলেছে, “আমরা আশা করি শুভবুদ্ধির উদয় হবে।