সৌদি ফ্লাইট সংকট: কর্মস্থলে ফিরতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রবাসী কর্মীরা
- আপডেট সময় : ০৯:০৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার জেরে ১১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ-সৌদি সরাসরি ফ্লাইট চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করতে হয়েছে। এতে ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, এই ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই প্রবাসী কর্মী, যার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। সেই হিসাবে প্রায় ১০ হাজার কর্মী ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৬ অক্টোবর রিয়াদ যাওয়ার টিকিট কাটলেও পরে সেটি বাতিল হয়ে যায়। সরাসরি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় অনেকে বিকল্প পথে কর্মস্থলে ফেরার চেষ্টা করছেন।
ফ্লাইট বিপর্যয়ের ফলে কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রবাসীরা। কুমিল্লার মো. মাসুম বিল্লাহর ভিসার মেয়াদ ১ নভেম্বর শেষ হবে; বাধ্য হয়ে তিনি রিয়াদের পরিবর্তে জেদ্দাগামী ফ্লাইটের টিকিট কেটেছেন, যার ফলে তাঁকে অতিরিক্ত তিন থেকে চার হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। একই চিত্র টাঙ্গাইলের মো. আলমগীরের ক্ষেত্রেও, যাঁকে রিয়াদের পরিবর্তে মদিনার টিকিট নিতে হয়েছে এবং সেখান থেকে সড়কপথে কর্মস্থলে পৌঁছাতে হবে। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. আলামিন বাড়তি খরচের আশঙ্কায় আপাতত যাত্রা স্থগিত করেছেন। অন্যদিকে, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সৌদি ভ্রমণে অনিচ্ছুক চুয়াডাঙ্গার রুবেল রানা তাঁর কেনা ৭৭ হাজার ৯৯৫ টাকার টিকিট ফেরত পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাসিন্দা মো. মাসুম বিল্লাহ গত ২ সেপ্টেম্বর ছুটিতে দেশে এসেছিলেন।
আটকে পড়া কর্মীদের সুনির্দিষ্ট কোনো তালিকা বা পরিসংখ্যান নেই প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় কিংবা জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার কাছে। বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব টিপু সুলতানের মতে, প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার কর্মী মধ্যপ্রাচ্যে যাতায়াত করেন, আর বর্তমান পরিস্থিতিতে আটকা পড়া কর্মীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বায়রার সদস্য শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান মনে করেন, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার বা কর্মীদের নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকলে এই সংকটকালে দ্রুত সহায়তা করা সম্ভব হতো।
তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আটকে পড়া কর্মীদের তালিকা তৈরিতে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো নির্দেশনা বা চিঠি দেওয়া হয়নি। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সব মিলিয়ে ফ্লাইট সংকটের এই সময়ে প্রবাসীদের বাড়তি আর্থিক ব্যয়, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং কর্মসংস্থান হারানোর শঙ্কা চরমে পৌঁছেছে।
























