ঢাকা ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানে ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য : জেডি ভ্যান্স ১০ কোটি ভিউ পার করলো ইমরান-পড়শীর ‘জনম জনম’ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে নতুন প্রতিরোধ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ : চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধে তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তানজিদের বেগম খালেদা জিয়া : গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা

আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের শঙ্কা

  • আপডেট সময় : ১১:০০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / 22
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

আগামী দু’দিন তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির স্তর আরও বাড়তে পারে। কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে রংপুর অঞ্চলে স্বল্পস্থায়ী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির স্তর বেড়েছে।

আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদীগুলোর কিছু কিছু স্থানে পানির স্তর বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা এবং কুড়িগ্রাম জেলার এসব নদী সংলগ্ন প্লাবনভূমি ও নিচু এলাকাগুলোতে আকস্মিক ও স্বল্পস্থায়ী বন্যা দেখা দিতে পারে।

তবে তৃতীয় দিনে এই নদীগুলোর পানির স্তর স্থিতিশীল থাকতে পারে।

এদিকে, বিডব্লিউডিবি-র বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আজ (সোমবার) এক বুলেটিনে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানির স্তর বেড়েছে।

আগামী পাঁচদিন ধরে এই নদীগুলোর পানির স্তর বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে এই নদীগুলো সতর্কীকরণ স্তরে প্রবাহিত হতে পারে এবং সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক জলমগ্নতা দেখা দিতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশের রংপুরসহ চারটি বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের সংলগ্ন উজান অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের উজান অঞ্চলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে উইলিয়ামনগরে ৩৭১ মিমি, আরকেএম সোহরায় ২৮২ মিমি, চেরাপুঞ্জিতে ২৭৯ মিমি, গুয়াহাটিতে ১৩৮ মিমি, তুরায় ১০১ মিমি এবং জলপাইগুড়িতে ৫৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

একই সময়ে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার ভাটিতে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে পঞ্চগড়ে ৯১ মিমি, রংপুরে ৬১ মিমি, ডালিয়ায় ৫৫ মিমি, পাটেশ্বরীতে ৫০ মিমি এবং চিলমারীতে ৪৭ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বিডব্লিউডিবি’র রংপুর সার্কেলের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার মো. আহসান হাবিব বাসসকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় উজানে ও ভাটিতে মৌসুমী বৃষ্টিপাত বাড়ায় প্রধান নদীগুলোর প্রায় সব পয়েন্টেই পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী দিনগুলোতে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বড় ধরনের বন্যার কোনো শঙ্কা নেই। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

আজ বিকেল ৩টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদী নির্ধারিত বিপৎসীমার ৯ সেমি নিচে, রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে ৩৩ সেমি নিচে এবং গাইবান্ধার তারাপুর ও হরিপুর পয়েন্টে যথাক্রমে ৮ সেমি ও ২৭ সেমি নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল।

একই সময়ে দুধকুমার নদী পাটেশ্বরীতে নির্ধারিত বিপৎসীমার ৩৫ সেমি নিচে, ধরলা নদী কুড়িগ্রামে বিপৎসীমার ৬২ সেমি নিচে এবং ব্রহ্মপুত্র নদী নুনখাওয়ায় বিপৎসীমার ৬৯ সেমি, হাতিয়ায় ৫০ সেমি ও চিলমারী পয়েন্টে ৪৫ সেমি নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল।

অন্যদিকে যমুনা নদী ফুলছড়িতে মাত্র ৫৯ সেমি, বাহাদুরাবাদে ৫৮ সেমি, সাঘাটায় ৫৯ সেমি, সারিয়াকান্দিতে ৫০ সেমি, কাজিপুরে ১০৩ সেমি এবং সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৫ সেমি নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের শঙ্কা

আপডেট সময় : ১১:০০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

আগামী দু’দিন তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির স্তর আরও বাড়তে পারে। কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে রংপুর অঞ্চলে স্বল্পস্থায়ী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির স্তর বেড়েছে।

আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদীগুলোর কিছু কিছু স্থানে পানির স্তর বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা এবং কুড়িগ্রাম জেলার এসব নদী সংলগ্ন প্লাবনভূমি ও নিচু এলাকাগুলোতে আকস্মিক ও স্বল্পস্থায়ী বন্যা দেখা দিতে পারে।

তবে তৃতীয় দিনে এই নদীগুলোর পানির স্তর স্থিতিশীল থাকতে পারে।

এদিকে, বিডব্লিউডিবি-র বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আজ (সোমবার) এক বুলেটিনে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানির স্তর বেড়েছে।

আগামী পাঁচদিন ধরে এই নদীগুলোর পানির স্তর বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে এই নদীগুলো সতর্কীকরণ স্তরে প্রবাহিত হতে পারে এবং সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক জলমগ্নতা দেখা দিতে পারে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশের রংপুরসহ চারটি বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের সংলগ্ন উজান অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের উজান অঞ্চলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে উইলিয়ামনগরে ৩৭১ মিমি, আরকেএম সোহরায় ২৮২ মিমি, চেরাপুঞ্জিতে ২৭৯ মিমি, গুয়াহাটিতে ১৩৮ মিমি, তুরায় ১০১ মিমি এবং জলপাইগুড়িতে ৫৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

একই সময়ে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার ভাটিতে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে পঞ্চগড়ে ৯১ মিমি, রংপুরে ৬১ মিমি, ডালিয়ায় ৫৫ মিমি, পাটেশ্বরীতে ৫০ মিমি এবং চিলমারীতে ৪৭ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বিডব্লিউডিবি’র রংপুর সার্কেলের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার মো. আহসান হাবিব বাসসকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় উজানে ও ভাটিতে মৌসুমী বৃষ্টিপাত বাড়ায় প্রধান নদীগুলোর প্রায় সব পয়েন্টেই পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী দিনগুলোতে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বড় ধরনের বন্যার কোনো শঙ্কা নেই। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

আজ বিকেল ৩টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদী নির্ধারিত বিপৎসীমার ৯ সেমি নিচে, রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে ৩৩ সেমি নিচে এবং গাইবান্ধার তারাপুর ও হরিপুর পয়েন্টে যথাক্রমে ৮ সেমি ও ২৭ সেমি নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল।

একই সময়ে দুধকুমার নদী পাটেশ্বরীতে নির্ধারিত বিপৎসীমার ৩৫ সেমি নিচে, ধরলা নদী কুড়িগ্রামে বিপৎসীমার ৬২ সেমি নিচে এবং ব্রহ্মপুত্র নদী নুনখাওয়ায় বিপৎসীমার ৬৯ সেমি, হাতিয়ায় ৫০ সেমি ও চিলমারী পয়েন্টে ৪৫ সেমি নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল।

অন্যদিকে যমুনা নদী ফুলছড়িতে মাত্র ৫৯ সেমি, বাহাদুরাবাদে ৫৮ সেমি, সাঘাটায় ৫৯ সেমি, সারিয়াকান্দিতে ৫০ সেমি, কাজিপুরে ১০৩ সেমি এবং সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৫ সেমি নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল।
বিডিসংবাদ/এএইচএস