ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ-গাম্বিয়ার সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান মুম্বাই হামলা : পলাতক সন্ত্রাসী হাফিজ সাইদসহ ৬ আসামির বিচার শুরু টিভির পর এবার বড়পর্দায় আসছে ‘নাগিন’! যুক্তরাষ্ট্রের দুই বৃহত্তম জলাধারে রেকর্ড পরিমাণ পানির ঘাটতি এনভিডিয়ার অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এআই ডেটা সেন্টার লিজ নেবে ওপেনএআই পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি কাবুলের স্কুলের কাছে হামলার নিন্দা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রভাবশালী মন্ত্রীর সমর্থন ইরান চুক্তিতে বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ঝিনাইদহে কাদায় বেঁধে রাখা সেই চার মহিষ উদ্ধার

  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

জেলার মহেশপুরে বুক সমান কাদায় বেঁধে রাখা সেই ৪টি মহিষ উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন।

গতকাল রোববার সামাজিক মাধ্যমে পশুগুলোর ভিডিও প্রকাশ হলে বিষয়টি নজরে আসে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেনের।

আজ সোমবার দুপুরে ইউএনওর হস্তক্ষেপে মহিষগুলোকে উদ্ধার করে শুকনো ও নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামে আব্দুল আলীম ৬ মাস ধরে বুক সমান কাদায় ৪টি মহিষ বেঁধে রেখেছিলেন। মহিশগুলোকে কাদাপানির মধ্যেই খাবার দেওয়া হতো। বুক সমান কাদার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতো মহিষগুলো। অবলা পশুগুলোর সাথে এমন অমানবিক আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন অস্বাভাবিক ও কষ্টকর পরিবেশে থাকার কারণে মহিষগুলোর অবস্থা দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছিল। মহিষগুলোকে কাদা থেকে তুলে শুকনা ও নিরাপদ স্থানে রাখার অনুরোধ করলেও মহিষের মালিক আব্দুল আলীম কারও কথা শোনেনি।

পরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা কাদায় আটকে থাকা মহিষগুলোর দুর্দশার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে। ভিডিওটি মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের নজরে এলে তিনি মহিষগুলো উদ্বারের উদ্যোগ নেন।

স্থানীয় পশুপ্রেমী নাজমুল হোসেন বলেন, প্রাণীরা মানুষের মতো নিজেদের কষ্টের কথা বলতে পারে না। কিন্তু তাদেরও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। ৪টি মহিষকে দীর্ঘদিন ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে আটকে রাখার দৃশ্য সত্যিই হৃদয়বিদারক।

আব্দুল আলীমের বৃদ্ধা মা সত্যা খাতুন বলেন, ছেলেকে একাধিকবার বলেছি মহিষগুলোকে ভালো স্থানে রাখতে কিন্তু সে কারও কোনো কথাই শুনত না। মহিষগুলোকে কাদাপানিযুক্ত স্থানে বেঁধে রাখতো। সব সময় ওখানেই খেতে দিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বাসসকে বলেন, মহিষগুলোকে উদ্ধার করে শুকনা স্থানে রাখার হয়েছে। মহিষের মালিককে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, শুকনা মেঝে, খাবার-পানি এবং নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঝিনাইদহে কাদায় বেঁধে রাখা সেই চার মহিষ উদ্ধার

আপডেট সময় : ১০:৫৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

জেলার মহেশপুরে বুক সমান কাদায় বেঁধে রাখা সেই ৪টি মহিষ উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন।

গতকাল রোববার সামাজিক মাধ্যমে পশুগুলোর ভিডিও প্রকাশ হলে বিষয়টি নজরে আসে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেনের।

আজ সোমবার দুপুরে ইউএনওর হস্তক্ষেপে মহিষগুলোকে উদ্ধার করে শুকনো ও নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামে আব্দুল আলীম ৬ মাস ধরে বুক সমান কাদায় ৪টি মহিষ বেঁধে রেখেছিলেন। মহিশগুলোকে কাদাপানির মধ্যেই খাবার দেওয়া হতো। বুক সমান কাদার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতো মহিষগুলো। অবলা পশুগুলোর সাথে এমন অমানবিক আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন অস্বাভাবিক ও কষ্টকর পরিবেশে থাকার কারণে মহিষগুলোর অবস্থা দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছিল। মহিষগুলোকে কাদা থেকে তুলে শুকনা ও নিরাপদ স্থানে রাখার অনুরোধ করলেও মহিষের মালিক আব্দুল আলীম কারও কথা শোনেনি।

পরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা কাদায় আটকে থাকা মহিষগুলোর দুর্দশার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে। ভিডিওটি মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের নজরে এলে তিনি মহিষগুলো উদ্বারের উদ্যোগ নেন।

স্থানীয় পশুপ্রেমী নাজমুল হোসেন বলেন, প্রাণীরা মানুষের মতো নিজেদের কষ্টের কথা বলতে পারে না। কিন্তু তাদেরও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। ৪টি মহিষকে দীর্ঘদিন ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে আটকে রাখার দৃশ্য সত্যিই হৃদয়বিদারক।

আব্দুল আলীমের বৃদ্ধা মা সত্যা খাতুন বলেন, ছেলেকে একাধিকবার বলেছি মহিষগুলোকে ভালো স্থানে রাখতে কিন্তু সে কারও কোনো কথাই শুনত না। মহিষগুলোকে কাদাপানিযুক্ত স্থানে বেঁধে রাখতো। সব সময় ওখানেই খেতে দিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বাসসকে বলেন, মহিষগুলোকে উদ্ধার করে শুকনা স্থানে রাখার হয়েছে। মহিষের মালিককে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, শুকনা মেঝে, খাবার-পানি এবং নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিডিসংবাদ/এএইচএস