ঢাকা ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মার্কিন ট্রেজারি বন্ড নিয়ে প্রতিশ্রুতি মূল্যায়নে এশিয়ার পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা

  • আপডেট সময় : ১০:৪০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 2
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদহার কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের উদ্যোগ মূল্যায়ন করছেন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে শুক্রবার এশিয়ার পুঁজিবাজারে সূচক কিছুটা বেড়েছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু এই উদ্যোগে ঋণের ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হবে না।

হংকং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বাজারকে সহায়তায় আরও পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও তাতে মার্কিন বাজারে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কমেনি। মুদ্রাস্ফীতি উচ্চ থাকা এবং সরকারের ঋণ গ্রহণসহ বিভিন্ন উদ্বেগে ওয়াল স্ট্রিটের সংশয়বাদী বিনিয়োগকারীরা আবারও শেয়ার বিক্রি শুরু করেছেন।

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার ক্ষেত্রে অগ্রগতি না হওয়ায় বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অচলাবস্থা চলায় গত দুই সপ্তাহে তেলের দামও ধীরে ধীরে বেড়েছে।

বুধবার মার্কিন ট্রেজারি বাজারকে প্রয়োজনীয় স্বস্তি দেয়। তারা জানায়, সরকারি বন্ড পুনঃক্রয় অন্তত দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর একদিন আগে ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ওই সময় বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের ঠিক আগে এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।

ট্রেজারির ঘোষণায় দীর্ঘমেয়াদি সুদহার দ্রুত কমে যায়। তবে বৃহস্পতিবার তা আবার বেড়ে যায়। মুরিয়েল সিবার্ট অ্যান্ড কোম্পানির মার্ক মালেক একে ‘সর্বোচ্চ যা হতে পারে, স্বল্পমেয়াদি একটি রুটিন পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেন।
বেসেন্ট বৃহস্পতিবার সিএনবিসিকে বলেন, সুদহার এমনভাবে বাড়ছে যা আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার বিভাগের হাতে ‘বড় ধরণের সরঞ্জামের ভাণ্ডার’ রয়েছে। এর মধ্যে আগের দিনের ঘোষণার চেয়ে আরও বেশি পরিমাণে বন্ড কেনার পদক্ষেপও থাকতে পারে।

বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটি বাজারের এমন একটি অংশ যেখানে লেনদেন কম। আমরা আগস্ট মাসে রয়েছি এবং বিপুল পরিমাণ করপোরেট বন্ড বাজারে এসেছে, যা বাজারকে প্রভাবিত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, সুদের হার প্রকৃত অর্থনৈতিক ভিত্তিকে প্রতিফলিত করছে না।’

তিনি আরও বলেন, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতি ফেডারেল রিজার্ভের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধের ‘অন্য প্রান্তে’ পৌঁছানোর পর এবং তেলের দাম কমলে মূল্যস্ফীতিও কমে আসবে।
সুদের হার বাড়ায় ওয়াল স্ট্রিটে চাপ পড়ে। তিনটি প্রধান সূচকই কমেছে। ঋণ নিয়ে বিপুল বিনিয়োগ করা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে দরপতন হয়েছে।

তবে এশিয়ার বাজার তুলনামূলক ভালো ছিল। প্রযুক্তিনির্ভর সিউলের বাজারে চিপ নির্মাতা স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারে উত্থান হয়েছে। স্যামসাং শেয়ারহোল্ডারদের সর্বোচ্চ ৭৯ বিলিয়ন ডলারের রিটার্ন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

২৯ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার পুনঃক্রয়ের ঘোষণা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।

হংকং, সিঙ্গাপুর, ওয়েলিংটন ও তাইপের বাজারও বেড়েছে। তবে টোকিও, সিডনি ও সাংহাইয়ের বাজার কমেছে।

মুদ্রাবাজারে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে তেলের দাম বাড়ায় গত মাসে জাপানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগামী মাসে সুদহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, সুদহার বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে।

এমসিএইচ মার্কেট ইনসাইটসের মাইকেল হিউসন লিখেছেন, ‘চলতি বছরের শুরুতেই আমরা জানতাম, আটলান্টিকের দুই পাশের সরকারগুলো বাড়তি ব্যয়ের প্রতিশ্রুতির কারণে বিপুল অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করবে। ফলে বন্ড ক্রেতাদের সামনে বেছে নেওয়ার সুযোগও অনেক বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘এআই অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগের কারণে আমরা করপোরেট বন্ডের মাধ্যমে অর্থের নতুন সরবরাহও দেখতে পাচ্ছি। অ্যামাজন, অ্যালফাবেট, মেটাসহ বিভিন্ন কোম্পানি নিজেদের জন্য ৫০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সংগ্রহের চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘এই অতিরিক্ত সরবরাহ বৈশ্বিক সরকারি ঋণবাজারে চাপ সৃষ্টির আরেকটি কারণ হতে পারে। কিছু বিনিয়োগকারী ঋণে জর্জরিত সরকারের পরিবর্তে বিগ টেক কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে বেশি আগ্রহী।’

অন্যরা বলছেন, ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নীতির বিষয়ে বাজারকে কোনো আগাম নির্দেশনা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

আগামী সপ্তাহে জ্যাকসন হোলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান, অর্থনীতিবিদ ও অর্থনীতির নীতিনির্ধারকদের বার্ষিক বৈঠকে তার বক্তব্যের দিকে ব্যবসায়ীরা গভীর নজর রাখবেন। তারা মুদ্রানীতি সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিতের আশা করছেন।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মার্কিন ট্রেজারি বন্ড নিয়ে প্রতিশ্রুতি মূল্যায়নে এশিয়ার পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা

আপডেট সময় : ১০:৪০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদহার কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের উদ্যোগ মূল্যায়ন করছেন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে শুক্রবার এশিয়ার পুঁজিবাজারে সূচক কিছুটা বেড়েছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু এই উদ্যোগে ঋণের ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হবে না।

হংকং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বাজারকে সহায়তায় আরও পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও তাতে মার্কিন বাজারে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কমেনি। মুদ্রাস্ফীতি উচ্চ থাকা এবং সরকারের ঋণ গ্রহণসহ বিভিন্ন উদ্বেগে ওয়াল স্ট্রিটের সংশয়বাদী বিনিয়োগকারীরা আবারও শেয়ার বিক্রি শুরু করেছেন।

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার ক্ষেত্রে অগ্রগতি না হওয়ায় বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অচলাবস্থা চলায় গত দুই সপ্তাহে তেলের দামও ধীরে ধীরে বেড়েছে।

বুধবার মার্কিন ট্রেজারি বাজারকে প্রয়োজনীয় স্বস্তি দেয়। তারা জানায়, সরকারি বন্ড পুনঃক্রয় অন্তত দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর একদিন আগে ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ওই সময় বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের ঠিক আগে এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।

ট্রেজারির ঘোষণায় দীর্ঘমেয়াদি সুদহার দ্রুত কমে যায়। তবে বৃহস্পতিবার তা আবার বেড়ে যায়। মুরিয়েল সিবার্ট অ্যান্ড কোম্পানির মার্ক মালেক একে ‘সর্বোচ্চ যা হতে পারে, স্বল্পমেয়াদি একটি রুটিন পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেন।
বেসেন্ট বৃহস্পতিবার সিএনবিসিকে বলেন, সুদহার এমনভাবে বাড়ছে যা আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার বিভাগের হাতে ‘বড় ধরণের সরঞ্জামের ভাণ্ডার’ রয়েছে। এর মধ্যে আগের দিনের ঘোষণার চেয়ে আরও বেশি পরিমাণে বন্ড কেনার পদক্ষেপও থাকতে পারে।

বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটি বাজারের এমন একটি অংশ যেখানে লেনদেন কম। আমরা আগস্ট মাসে রয়েছি এবং বিপুল পরিমাণ করপোরেট বন্ড বাজারে এসেছে, যা বাজারকে প্রভাবিত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, সুদের হার প্রকৃত অর্থনৈতিক ভিত্তিকে প্রতিফলিত করছে না।’

তিনি আরও বলেন, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতি ফেডারেল রিজার্ভের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধের ‘অন্য প্রান্তে’ পৌঁছানোর পর এবং তেলের দাম কমলে মূল্যস্ফীতিও কমে আসবে।
সুদের হার বাড়ায় ওয়াল স্ট্রিটে চাপ পড়ে। তিনটি প্রধান সূচকই কমেছে। ঋণ নিয়ে বিপুল বিনিয়োগ করা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে দরপতন হয়েছে।

তবে এশিয়ার বাজার তুলনামূলক ভালো ছিল। প্রযুক্তিনির্ভর সিউলের বাজারে চিপ নির্মাতা স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারে উত্থান হয়েছে। স্যামসাং শেয়ারহোল্ডারদের সর্বোচ্চ ৭৯ বিলিয়ন ডলারের রিটার্ন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

২৯ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার পুনঃক্রয়ের ঘোষণা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।

হংকং, সিঙ্গাপুর, ওয়েলিংটন ও তাইপের বাজারও বেড়েছে। তবে টোকিও, সিডনি ও সাংহাইয়ের বাজার কমেছে।

মুদ্রাবাজারে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে তেলের দাম বাড়ায় গত মাসে জাপানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগামী মাসে সুদহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, সুদহার বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে।

এমসিএইচ মার্কেট ইনসাইটসের মাইকেল হিউসন লিখেছেন, ‘চলতি বছরের শুরুতেই আমরা জানতাম, আটলান্টিকের দুই পাশের সরকারগুলো বাড়তি ব্যয়ের প্রতিশ্রুতির কারণে বিপুল অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করবে। ফলে বন্ড ক্রেতাদের সামনে বেছে নেওয়ার সুযোগও অনেক বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘এআই অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগের কারণে আমরা করপোরেট বন্ডের মাধ্যমে অর্থের নতুন সরবরাহও দেখতে পাচ্ছি। অ্যামাজন, অ্যালফাবেট, মেটাসহ বিভিন্ন কোম্পানি নিজেদের জন্য ৫০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সংগ্রহের চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘এই অতিরিক্ত সরবরাহ বৈশ্বিক সরকারি ঋণবাজারে চাপ সৃষ্টির আরেকটি কারণ হতে পারে। কিছু বিনিয়োগকারী ঋণে জর্জরিত সরকারের পরিবর্তে বিগ টেক কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে বেশি আগ্রহী।’

অন্যরা বলছেন, ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নীতির বিষয়ে বাজারকে কোনো আগাম নির্দেশনা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

আগামী সপ্তাহে জ্যাকসন হোলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান, অর্থনীতিবিদ ও অর্থনীতির নীতিনির্ধারকদের বার্ষিক বৈঠকে তার বক্তব্যের দিকে ব্যবসায়ীরা গভীর নজর রাখবেন। তারা মুদ্রানীতি সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিতের আশা করছেন।
বিডিসংবাদ/এএইচএস