জাতিসংঘ সফর সংক্ষিপ্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৬:২৯:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 1
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে তার সফরসূচিতে বড় ধরনের কাটছাঁট করেছেন। মূলত রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ এবং দেশের বাইরে দীর্ঘ সময় না থাকার সিদ্ধান্ত থেকে এই সফর সংক্ষিপ্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতিসংঘের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো যাওয়ার কথা থাকলেও, সেই সফর বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফর মূলত নিউইয়র্ককেন্দ্রিকই থাকছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর ২১ সেপ্টেম্বর এটি তার দ্বিতীয়বারের মতো বিদেশ সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের সামনে ভাষণ দেবেন সরকারপ্রধান। সফরের শেষভাগে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে তার। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন ফার্স্টলেডি জুবাইদা রহমান। সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিল হওয়ায় সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠান এবং প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকগুলোও আর হচ্ছে না।
এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রায় চার দশক পর আবারও কোনো বাংলাদেশি কূটনীতিক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে বিশ্বমঞ্চে একই সময়ে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ও সাধারণ পরিষদের সভাপতির উপস্থিতি এক বিরল কূটনৈতিক মুহূর্ত তৈরি করেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরবেন।
বড় বহর নিয়ে বিদেশ ভ্রমণের আগের প্রথা ভেঙে এবার সফরসঙ্গীর সংখ্যা অনেক সীমিত রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩০ জনের নিচে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। অতীতে ২০১৪ সালে ১৮০ জন এবং ২০১৯ সালে ২৯২ জনের বিশাল বহর নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের নজির রয়েছে। এমনকি গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে সরকারি নথিতে ৮০ জনের বেশি মানুষের নাম ছিল। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের নিয়ে ছোট বহর গঠনের এই নতুন উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচনেরই অংশ।
জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরবেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্য, আকাঙ্ক্ষা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরবেন তিনি। একই সঙ্গে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাওয়া হবে। বিষয়টি এবার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে থাকছে এবং অধিবেশনের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওয়াশিংটন ডিসিতে কিছু কর্মসূচি থাকলেও সফরের প্রধান আয়োজন থাকবে জাতিসংঘকে ঘিরেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৩ সেপ্টেম্বরের নৈশভোজেও থাকছে বিশেষ গুরুত্ব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এতে আয়োজক হিসেবে থাকবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ লক্ষ্যেই তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৮০ জন সফরসঙ্গী নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৪ সালে জাতিসংঘের ৭৯তম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গীর সংখ্যা পুস্তিকা অনুযায়ী ছিল ৫৭ জন।
























