বাংলাদেশের আকাশসীমায় বাড়ছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের চাপ, আয় আকাশচুম্বী
- আপডেট সময় : ০৮:৩৯:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 1
আন্তর্জাতিক রুটের বিমানগুলোর কাছে আকাশপথ হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ভৌগোলিক অবস্থানের পাশাপাশি দেশের আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক ও কার্যকর হওয়ায় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোর কাছে বাংলাদেশ এখন অন্যতম পছন্দের রুট। বিশেষ করে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে এই ব্যবহারের বিপরীতে এয়ারলাইনগুলোকে মাশুল বা ওভারফ্লাই ফি প্রদান করতে হয়, যা সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে জমা হচ্ছে।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত এক বছরে আকাশসীমা ব্যবহারের মাশুল বাবদ মোট ৮০৫ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ টাকা ২০ পয়সা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এর মধ্যে বছরের প্রথম ছয় মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আয় ছিল ৩৮৮ কোটি ১০ লাখ ১৫ হাজার ৪৫১ টাকা। পরবর্তী ছয় মাসে তা বেড়ে ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ ৪৪ হাজার ৯১৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে। শুধু বাৎসরিক হিসেবে নয়, মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ধারাবাহিকভাবে এই খাতের আয় বাড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ওভারফ্লাই ফি বাবদ আয় ছিল ৫৩ কোটি ৫ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বেড়ে ৬৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় পৌঁছায় এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তা ৮০ কোটি ১৬ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এছাড়া ফেব্রুয়ারির হিসাবেও ২০২৪ সালের ৪৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৬৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যমতে, ২০২৫ সালে অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে আকাশপথ পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বকেয়া মাশুল আদায়ে কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থান এবং ডিজিটাল বিলিং ব্যবস্থা চালুর ফলে রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া আগের চেয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়েছে। আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেও অনেক বিমান সংস্থা এখন নিরাপদ রুট হিসেবে বাংলাদেশের আকাশপথকে প্রাধান্য দিচ্ছে। বেবিচকের এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম জানিয়েছেন, ওভারফ্লাই খাত থেকে আসা এই রাজস্ব ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং ভবিষ্যতেও এটি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে রাজস্ব বৃদ্ধির এই ধারাকে আরও বেগবান করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, আকাশসীমা ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করা গেলে এই আয় কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সব মিলিয়ে, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বাংলাদেশের আকাশপথ এখন দেশের অর্থনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।

























