ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা
- আপডেট সময় : ১২:০১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 16
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার স্থগিত করার পর এই তিনটি সংবাদমাধ্যম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মূলত সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সুরক্ষায় তারা ওয়াশিংটনের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, কোনো পূর্ব নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই কেবল প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তির কারণে তাদের সাংবাদিকদের অনুমতিপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক দাবি করে তারা দ্রুত বিচারকের রায় প্রত্যাশা করছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার, যখন ট্রাম্প এই সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, এই প্রতিষ্ঠানগুলো তার প্রশাসন সম্পর্কে মনগড়া ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করছে। শনিবার এই তিন সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের হোয়াইট হাউস ভবনে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। এদিকে মামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘তৃতীয় শ্রেণির ভাঁড়’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি দাবি করেন, তার অর্জনকে হেয় করার পাশাপাশি অজ্ঞাত সূত্র ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, তার প্রশাসন এই মামলার বিরুদ্ধে আপিল করবে।
প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কয়েকটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক হোয়াইট হাউসের প্রেস পুলে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন স্থগিত করেছে। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া ট্রাম্পের কর্মসূচি কাভার করার ক্ষেত্রে সিএনএনকে বাধা দিলে অন্য নেটওয়ার্কগুলোও এই কর্মসূচিতে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয়। বর্তমানে হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন পুলের দায়িত্বে থাকা ফক্স নিউজের ওয়াশিংটন ব্যুরো প্রধান ব্রায়ান বুটন জানিয়েছেন, এখন থেকে টেলিভিশন পুল ট্রাম্পের নির্ধারিত কোনো পুল কভারেজে অংশ নেবে না। এছাড়া নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের মতো গণমাধ্যমগুলোও ট্রাম্পের অনুষ্ঠানের স্থিরচিত্র অন্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগাভাগি না করার কথা জানিয়েছে।
পাঁচটি প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক—এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স নিউজ ও এনবিসি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, জনস্বার্থে নির্ভুল ও স্বাধীন তথ্য পাওয়ার অধিকার সবার আছে। কোনো প্রশাসনেরই সংবাদের ধরন নিয়ে আপত্তি থাকলে সংবাদমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত নয়। এর পরিবর্তে ট্রাম্প তার সফরে রক্ষণশীল চ্যানেল ‘রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস’কে বিকল্প সংবাদমাধ্যম হিসেবে জায়গা দিয়েছেন। এমনকি সোমবার নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মাদানীর সঙ্গে বৈঠক ও পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা অব্যাহত রাখেন। তবে তিনি এক প্রশ্নের জবাবে মজা করে বলেন, সাংবাদিকরা বয়কটের কথা বললেও বাস্তবে তাকে কখনোই বয়কট করে না।
উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউস তাদের নিজস্ব স্ট্রিমিং চ্যানেল ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করেছে। গত সপ্তাহে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার সময় কোনো নির্দিষ্ট সংবাদের কথা উল্লেখ না করলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিগত কয়েক বছরের সামগ্রিক প্রতিবেদনের কারণেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে আরও কিছু সংবাদমাধ্যমের ওপর এমন বিধিনিষেধ আসতে পারে। ভুয়া খবরের তালিকায় তিনি নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের নামও উল্লেখ করেছেন।
ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর আগেও বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসন নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সাথে বৈরী আচরণ করেছে। ২০০৯ সালে বারাক ওবামা প্রশাসন ফক্স নিউজকে একটি নির্দিষ্ট সাক্ষাৎকার থেকে বাদ দিতে চেয়েছিল, তবে অন্য নেটওয়ার্কগুলোর আপত্তির মুখে তারা পিছু হটে। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ভুল শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে হোয়াইট হাউসের সীমিত প্রবেশাধিকার হারালে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়, যার মামলা এখনো চলমান। এছাড়া অতীতে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমগুলো সরকারি বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয়েছে। সিএনএনের মতো প্রধান পাঁচটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের বর্তমান এই যৌথ অবস্থান মার্কিন সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সরকারকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আদালতগুলো ঐতিহ্যগতভাবে এই বিধানকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছে যে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে সরকার কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করতে পারে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর কোনো বিকল্প পুলও গঠন করা হবে না বলে ই-মেইলে জানানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু সোমবার সকালে হোয়াইট হাউসের প্রেস এলাকার বেসমেন্টে সিএনএনের পাঁচ আসনের বুথটি- যেখানে সাধারণত ভোর থেকে দিনভর সাংবাদিক ও কর্মীরা থাকেন, তা ফাঁকা ও বন্ধ দেখা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভেতরের পর্দা ও মনিটরগুলোও বন্ধ ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর পরিবর্তে সিএনএনের একটি দল হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকার বাইরে একটি জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামদানি বলেন, আমি প্রেসিডেন্টকে বলেছি, আমরা এখানে লনে সংবাদমাধ্যমের সব সদস্যকে রাখব।























