ঢাকা ০৫:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আড়াইহাজারে অস্ত্র ঠেকিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায় ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নিহতদের মধ্যে ৬ জন একই পরিবারের ভোলায় নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু বহরে নতুন বোয়িং ৭৭৭ যুক্ত করল এয়ার চায়না কার্গো লাইসেন্সহীন টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও কার্যক্রম চালু ফরিদগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের চার নেতা গ্রেপ্তার উত্তরায় পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ২, ভাঙচুর গাড়ি টানা ৫ দিনের ছুটির আগে আজ খোলা ব্যাংক অফিসার্স ক্লাবে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সাবেক অতিরিক্ত সচিবের প্রয়াণ রিয়াদ বিমানবন্দর চালু হলেও ফিরছে না বিমানের স্বাভাবিক ফ্লাইট

যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে চীনে মাহান এয়ারের বিমান অবতরণ

  • আপডেট সময় : ০৩:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 17
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া সত্ত্বেও ইরানের বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ারের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চীনের গুয়াংজু বাইয়ুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এএফপি এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে বিষয়টি বেশ রহস্যময় হয়ে উঠেছে, কারণ ওই বিমানবন্দরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফ্লাইটটির অবতরণ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা এ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ইরানি এই উড়োজাহাজটির অবতরণ এমন এক সময়ে ঘটল যখন তেহরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর চাপ বাড়াতে মরিয়া ওয়াশিংটন। চলতি সপ্তাহে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানি উড়োজাহাজগুলোকে অবতরণ বা ল্যান্ডিং-সংক্রান্ত সেবা প্রদান করবে, তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। বেসেন্টের দাবি অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র এই নিয়ম অমান্য করলে তাদের ডলারভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দেওয়া হতে পারে। যদিও এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ঠিক কীভাবে কার্যকর করা হবে বা এর পরিধি কতটুকু হবে, সে বিষয়ে মার্কিন পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য যে, মাহান এয়ার আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের বিমানবন্দরে এই বিমানের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন যুক্তরাষ্ট্র কঠোর নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে, অন্যদিকে ইরানের জন্য চীনের সঙ্গে আকাশপথের যোগাযোগ বজায় রাখা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। বুধবার থেকে তেহরান থেকে বাগদাদ, মাসকাট ও আঙ্কারাগামী বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ইরান বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি। এই প্রেক্ষাপটে চীনের বিমানবন্দরে মাহান এয়ারের এই অবতরণ কেবল একটি সাধারণ ফ্লাইট পরিচালনা নয়, বরং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানের বিমান যোগাযোগ ধরে রাখার একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয় কারণ বিমানবন্দরের তথ্যের সঙ্গে ফ্লাইট ট্র্যাকারগুলোর তথ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না, যা ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে চীনে মাহান এয়ারের বিমান অবতরণ

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া সত্ত্বেও ইরানের বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ারের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চীনের গুয়াংজু বাইয়ুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এএফপি এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে বিষয়টি বেশ রহস্যময় হয়ে উঠেছে, কারণ ওই বিমানবন্দরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফ্লাইটটির অবতরণ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা এ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ইরানি এই উড়োজাহাজটির অবতরণ এমন এক সময়ে ঘটল যখন তেহরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর চাপ বাড়াতে মরিয়া ওয়াশিংটন। চলতি সপ্তাহে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানি উড়োজাহাজগুলোকে অবতরণ বা ল্যান্ডিং-সংক্রান্ত সেবা প্রদান করবে, তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। বেসেন্টের দাবি অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র এই নিয়ম অমান্য করলে তাদের ডলারভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দেওয়া হতে পারে। যদিও এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ঠিক কীভাবে কার্যকর করা হবে বা এর পরিধি কতটুকু হবে, সে বিষয়ে মার্কিন পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য যে, মাহান এয়ার আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের বিমানবন্দরে এই বিমানের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন যুক্তরাষ্ট্র কঠোর নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে, অন্যদিকে ইরানের জন্য চীনের সঙ্গে আকাশপথের যোগাযোগ বজায় রাখা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। বুধবার থেকে তেহরান থেকে বাগদাদ, মাসকাট ও আঙ্কারাগামী বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ইরান বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি। এই প্রেক্ষাপটে চীনের বিমানবন্দরে মাহান এয়ারের এই অবতরণ কেবল একটি সাধারণ ফ্লাইট পরিচালনা নয়, বরং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানের বিমান যোগাযোগ ধরে রাখার একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয় কারণ বিমানবন্দরের তথ্যের সঙ্গে ফ্লাইট ট্র্যাকারগুলোর তথ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না, যা ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।