ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের হামলা: নিহত ৫
- আপডেট সময় : ১০:০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে অবস্থিত দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে অতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সরকারি সূত্র জানায়, এ হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। আল-মাশিক প্রাসাদ নামে পরিচিত এই স্থাপনাটি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি সমর্থিত সরকারের প্রধান কার্যালয়। চলমান সংঘাতের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো প্রাসাদটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সৌদি বাহিনী যেখানেই অবস্থান করুক, তাদের শক্তিবৃদ্ধির প্রচেষ্টা লক্ষ্যবস্তু করার নীতির অংশ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-এরিয়ানি নিশ্চিত করেছেন যে, হামলার সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিরাপদে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রাসাদের আশপাশের এলাকায় একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসিম বুহাইবেহ জানান, নিহত ও আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী ও বেসামরিক কর্মচারী রয়েছেন। এদিকে হুতি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তারা এডেনে সৌদি সামরিক অভিযানের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছেন। তাদের ভাষ্যমতে, ওই স্থাপনাটি সৌদি কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সেখানে অস্ত্রের গুদামও ছিল। তবে হুতিদের এই দাবির সত্যতা রয়টার্স নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি।
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই সম্প্রতি তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা দেশটির মানবিক পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। গত সপ্তাহে সরকারি বাহিনী হুতিদের কবজায় থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে অভিযান শুরু করে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী কিছু এলাকা পুনরায় সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।
২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নিলে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। পরবর্তী বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সরকারের সহায়তায় যুদ্ধে যোগ দেয়। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি সেই যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘটেছে।
এদিকে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করেও হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে হুতিরা। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, চলতি মাসে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ২০টি হামলা চালানো হয়েছে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় মোট ১৭ জন নিহত ও ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সৌদি সীমান্তের কাছে আভা বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় আরও তিনজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হওয়ার খবর দিয়েছে সামরিক জোট। এতে দেশটিতে মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো। সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেয়ায় সৌদি আরব এখন হুতিদের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এতে আঞ্চলিক যুদ্ধের বিস্তার এবং সৌদির উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার পরিচালনা পরিষদ সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও অবকাঠামোর ওপর এসব হামলার নিন্দা জানিয়েছে। আল-মালিকির অভিযোগ, আঞ্চলিক বিভিন্ন শক্তির সহায়তায় হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিস্ফোরকবাহী নৌযানের মতো উন্নত সামরিক প্রযুক্তি অর্জন করেছে। দীর্ঘকাল ধরেই সৌদি আরব ও তার মিত্ররা অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান হুতিদের অস্ত্র, অর্থ ও সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিস্ফোরকবোঝাই দ্রুতগতির নৌযান।

























