ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

  • আপডেট সময় : ০৮:১৯:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 21
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রভাব আবারও জোরালোভাবে জাহির করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া তার কড়া ভাষণের পরপরই হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তবে কূটনৈতিক ব্যস্ততা বাড়লেও দেশে এবং বিদেশের বড় বড় সংকট নিরসনে তার সক্ষমতা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার জাতিসংঘে ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, সমঝোতায় রাজি না হলে দেশটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে তার কঠোর নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, বিজয়ীরাই লুটের মাল পায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাকেও তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। অথচ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলের সঙ্গে শুরু হওয়া ইরান সংঘাত সাত মাস গড়িয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিপদে ফেলার পাশাপাশি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকটি বেশ ঘটা করে আয়োজন করা হলেও বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্য মেলেনি। বৈঠকে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাণিজ্য এবং তাইওয়ানের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে বড় কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। তবে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতি আরও দুই মাস বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রুদ্ধদ্বার আলোচনায় শি জিনপিং ট্রাম্পকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আহ্বান জানান, কারণ বেইজিং দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ড মনে করে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি ও গাড়ি শিল্পে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্প চীনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে আগের চেয়ে নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন। এদিকে ইরান যুদ্ধে সহায়তার জন্য ট্রাম্পের আবেদনে অধিকাংশ মিত্র সাড়া দেয়নি। উল্টো জাতিসংঘে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জবরদস্তির বদলে সভ্য আন্তর্জাতিক সমাজ গড়ার কথা বলেছেন এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বিদেশি হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেও রাশিয়া ও ইউক্রেনকে শান্তি আলোচনায় ফেরাতে ট্রাম্পের উদ্যোগ সফল হয়নি।

ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইয়ান ব্রেমার এক্সে লিখেছেন, বর্তমান বিশ্বে কানাডা, ইউরোপ, চীন, ইরানসহ বিভিন্ন দেশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ট্রাম্পকে ‘না’ বলতে প্রস্তুত। নিজের প্রভাব নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশার ইঙ্গিত দিয়ে খোদ ট্রাম্পই জাতিসংঘে মন্তব্য করেছিলেন, আমার কোনো ক্ষমতা আছে কি না তা খুব শিগগিরই জানা যাবে। সব মিলিয়ে ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ট্রাম্প প্রশাসন বড় ধরনের অচলাবস্থায় পড়েছে, যা তার রাজনৈতিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৮:১৯:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রভাব আবারও জোরালোভাবে জাহির করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া তার কড়া ভাষণের পরপরই হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তবে কূটনৈতিক ব্যস্ততা বাড়লেও দেশে এবং বিদেশের বড় বড় সংকট নিরসনে তার সক্ষমতা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার জাতিসংঘে ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, সমঝোতায় রাজি না হলে দেশটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে তার কঠোর নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, বিজয়ীরাই লুটের মাল পায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাকেও তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। অথচ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলের সঙ্গে শুরু হওয়া ইরান সংঘাত সাত মাস গড়িয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিপদে ফেলার পাশাপাশি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকটি বেশ ঘটা করে আয়োজন করা হলেও বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্য মেলেনি। বৈঠকে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাণিজ্য এবং তাইওয়ানের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে বড় কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। তবে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতি আরও দুই মাস বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রুদ্ধদ্বার আলোচনায় শি জিনপিং ট্রাম্পকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আহ্বান জানান, কারণ বেইজিং দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ড মনে করে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি ও গাড়ি শিল্পে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্প চীনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে আগের চেয়ে নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন। এদিকে ইরান যুদ্ধে সহায়তার জন্য ট্রাম্পের আবেদনে অধিকাংশ মিত্র সাড়া দেয়নি। উল্টো জাতিসংঘে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জবরদস্তির বদলে সভ্য আন্তর্জাতিক সমাজ গড়ার কথা বলেছেন এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বিদেশি হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেও রাশিয়া ও ইউক্রেনকে শান্তি আলোচনায় ফেরাতে ট্রাম্পের উদ্যোগ সফল হয়নি।

ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইয়ান ব্রেমার এক্সে লিখেছেন, বর্তমান বিশ্বে কানাডা, ইউরোপ, চীন, ইরানসহ বিভিন্ন দেশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ট্রাম্পকে ‘না’ বলতে প্রস্তুত। নিজের প্রভাব নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশার ইঙ্গিত দিয়ে খোদ ট্রাম্পই জাতিসংঘে মন্তব্য করেছিলেন, আমার কোনো ক্ষমতা আছে কি না তা খুব শিগগিরই জানা যাবে। সব মিলিয়ে ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ট্রাম্প প্রশাসন বড় ধরনের অচলাবস্থায় পড়েছে, যা তার রাজনৈতিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।