পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি সৌদি আরব
- আপডেট সময় : ১০:২৭:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 17
সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি বলে মার্কিন সরকারের একটি গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নে উঠে এসেছে। এই প্রতিবেদনটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাথে রিয়াদের করা পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আইনপ্রণেতাদের পর্যালোচনার জন্য দেয়া গোপন নথিপত্রের মধ্যে এই গোয়েন্দা তথ্যটি ছিল। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজস্ব একটি আলাদা মূল্যায়ন পেশ করেছে, যেখানে তারা রিয়াদের দেয়া প্রতিশ্রুতি এবং চুক্তিতে থাকা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার ওপর কিছুটা বেশি আস্থা দেখিয়েছে।
চলতি বছরের জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত তথাকথিত ‘সেকশন ১২৩’ চুক্তির অধীনে সৌদি আরবের বেসামরিক পরমাণু প্রকল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণের আইনি পথ প্রশস্ত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই চুক্তি পরমাণু বিস্তারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং সৌদি আরবকে রাশিয়া বা চীনের পরমাণু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর হওয়া থেকে বিরত রাখবে। তবে চুক্তিটির শর্তাবলী নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনপ্রণেতারা। প্রাথমিকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৫ শতাংশের নিচে রাখার পরিকল্পনা থাকলেও, পরবর্তী গবেষণার প্রয়োজনে এবং ওয়াশিংটন ও রিয়াদের লিখিত সম্মতিতে তা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। যদিও ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি অস্ত্র তৈরির মাত্রায় পড়ে না, কিন্তু এর ফলে ভবিষ্যতে অস্ত্র উপযোগী ইউরেনিয়াম তৈরির পথে অনেকখানি অগ্রগতি সহজতর হয়। এছাড়া, চুক্তিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ‘অ্যাডিশনাল প্রটোকল’ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা না রাখায় পরিদর্শকদের ক্ষমতা সীমিত থাকবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা। তবে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত গবেষণা এবং ওয়াশিংটন ও রিয়াদের লিখিত অনুমোদনের পর তা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এই প্রটোকলের আওতায় পরিদর্শকরা আরও বিস্তৃতভাবে পরমাণু স্থাপনায় প্রবেশ করতে পারেন এবং ঘোষণার বাইরে কোনো পরমাণু কার্যক্রম চলছে কি না, তা শনাক্তের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ পান। এর পরিবর্তে ওয়াশিংটন ও রিয়াদ পৃথক একটি দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছে।
সিনেটর এড মার্কি ও জেফ মার্কির নেতৃত্বে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই চুক্তি রিয়াদকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা দিয়ে দিতে পারে। মার্কি জানান, সৌদি আরব যেহেতু নিজস্ব ভূমিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ ধরে রাখতে চাইছে, তাই তাদের কর্মসূচির উদ্দেশ্য যে পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। এর জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়েছে, সৌদি আরবের কোনো সামরিক পরমাণু কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে না এবং ভবিষ্যতে করার পরিকল্পনাও নেই। সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী আবদুল আজিজ বিন সালমানও একই সুরে দাবি করেছেন যে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সাথে পরিচালিত হবে।
তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ২০১৮ সালের একটি বক্তব্য রিয়াদের পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিতর্ক উসকে দিচ্ছে। সে সময় তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ইরান যদি পরমাণু বোমা তৈরি করে, তবে সৌদি আরবও দ্রুত একই পথে হাঁটবে। বর্তমান পরিস্থিতির সাথে আইনপ্রণেতারা ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তির তুলনা টানছেন। তৎকালীন ওই চুক্তিতে ১৫ বছরের জন্য ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩.৬৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তির শর্ত কঠোর নয় দাবি করে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। বর্তমানে সৌদি আরবের সাথে স্বাক্ষরিত নতুন এই চুক্তিটি গত ২৪ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে জমা দেয়া হয়েছে এবং এটি ৯০ দিনের পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। আইনপ্রণেতারা এই চুক্তি আটকে দেয়ার উদ্যোগ নিতে পারেন, তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতার কারণে এটি বাতিল করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।


























