ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো ইচ্ছা নেই: তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচারহীনতার অবসান চায় ডুজা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন কার্ল ডাইসারথসহ তিন বিজ্ঞানী ছিনতাইকারী ধাওয়া করতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল পুলিশ নতুন ঋণের আগে আইএমএফের চার চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ জরুরি: সিইসি অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় নতুন কৌশল গ্রহণ ইরানের রাজধানীতে অটোরিকশা চালকদের অবরোধ, বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল বন্ধ ইরানে স্টারলিংক সেবা চালুর অভিযোগে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত তলব মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে সামরিক পথ ছাড়ার আহ্বান ইরানের

নতুন ঋণের আগে আইএমএফের চার চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ

  • আপডেট সময় : ০২:৫৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বড় অঙ্কের নতুন ঋণ পেতে হলে বাংলাদেশকে চারটি বড় অর্থনৈতিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। সংস্থাটি মূলত রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ব্যাংক খাতের ব্যাপক সংস্কার, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায়। এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী ২৯ অক্টোবর ঢাকায় আসছে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল। প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী এই সফরে তারা বাংলাদেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি চলমান ঋণ কর্মসূচির শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতিও যাচাই করবে। আর এই পরীক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতির ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে নতুন ঋণ কর্মসূচির পথ কতটা সহজ হবে।

প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্বে থাকছেন আইএমএফের উন্নয়ন সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ক্রিস পাপাজিও। সফরকালে তারা বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, এনবিআর, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করবে। এর আগে ১৩ থেকে ১৭ অক্টোবর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো, নতুন কর্মসূচির আওতায় ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করা, যা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগ ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি নতুন ঋণ আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত তুলনামূলকভাবে কম, যার ফলে বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ঋণের বোঝা বাড়ছে। রাজস্ব আয় পর্যাপ্ত না হলে সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে এনবিআরের আদায় ক্ষমতা, করের আওতা বাড়ানো এবং কর প্রশাসনের সংস্কার নিয়ে আইএমএফ কঠোর অবস্থান নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, ব্যাংক খাতের সংস্কার এখন অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। খেলাপি ঋণের আধিক্য, মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট এবং সুশাসনের অভাব আর্থিক খাতকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। জুলাই মাসে ঢাকা সফর শেষে আইএমএফ ব্যাংক খাতে গভীর চাপের কথা উল্লেখ করেছিল। এবার সংস্থাটি কেবল সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন এবং পরিচালনা পর্ষদে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মতো বাস্তব পদক্ষেপের অগ্রগতি দেখতে চাইতে পারে। ব্যাংকিং খাতের এই দুর্বলতা দূর না হলে ঋণের অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। কারণ ব্যাংক খাত দুর্বল থাকলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।

ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আইএমএফের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের অস্থিরতার কারণে সরকার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে। যদিও সরকার ডিজেল, পেট্রোলসহ জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে, তবুও নতুন কর্মসূচিতে ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে আনার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেললেও এটি অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বড় শর্ত হিসেবে কাজ করবে। কারণ অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে একদিকে ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজন, অন্যদিকে পর্যাপ্ত রাজস্ব না থাকায় সেই ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা সীমিত। এ খাত পুনর্গঠনে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন। এরই মধ্যে সরকার ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বাড়িয়েছে।

চতুর্থ পরীক্ষাটি হবে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকট ও প্রবৃদ্ধির ধীরগতি অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে। বিশেষ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ, যা সংস্কারে গাফিলতি হলে আরও কমার ঝুঁকি রয়েছে। তাই বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুত শক্তিশালী করা নতুন কর্মসূচির মূল অগ্রাধিকার হতে পারে। সংস্কারে গতি না এলে মধ্য মেয়াদে প্রবৃদ্ধি আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকির কথাও বলা হয়েছে।

এই চার ক্ষেত্রকে সামনে রেখেই সরকার ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ঋণচুক্তি চূড়ান্ত করতে চায়। সব প্রক্রিয়া সফল হলে আগামী বছরের শুরুতে প্রথম কিস্তি পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গেও বাজেট সহায়তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু মোকাবিলা এবং ব্যাংক পুনর্গঠনে অর্থায়নের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। ওয়াশিংটনে দুই সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই ঋণ সাময়িকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমাতে এবং বাজেট ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি দিতে পারে। তবে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, ঋণের অর্থ কোন খাতে ব্যয় হবে এবং রাজস্ব অনুপাত কীভাবে বাড়ানো হবে, তার স্পষ্ট পরিকল্পনা সরকারের থাকতে হবে। একইভাবে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, ঋণের জন্য নয়, বরং দেশের অর্থনীতির স্বার্থেই নিজস্ব উদ্যোগে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। পরিশেষে, ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের ঋণের দরজা খুলতে গিয়ে সরকার অর্থনীতিতে কতটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন ঋণের আগে আইএমএফের চার চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০২:৫৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বড় অঙ্কের নতুন ঋণ পেতে হলে বাংলাদেশকে চারটি বড় অর্থনৈতিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। সংস্থাটি মূলত রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ব্যাংক খাতের ব্যাপক সংস্কার, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায়। এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী ২৯ অক্টোবর ঢাকায় আসছে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল। প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী এই সফরে তারা বাংলাদেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি চলমান ঋণ কর্মসূচির শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতিও যাচাই করবে। আর এই পরীক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতির ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে নতুন ঋণ কর্মসূচির পথ কতটা সহজ হবে।

প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্বে থাকছেন আইএমএফের উন্নয়ন সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ক্রিস পাপাজিও। সফরকালে তারা বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, এনবিআর, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করবে। এর আগে ১৩ থেকে ১৭ অক্টোবর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো, নতুন কর্মসূচির আওতায় ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করা, যা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগ ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি নতুন ঋণ আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত তুলনামূলকভাবে কম, যার ফলে বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ঋণের বোঝা বাড়ছে। রাজস্ব আয় পর্যাপ্ত না হলে সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে এনবিআরের আদায় ক্ষমতা, করের আওতা বাড়ানো এবং কর প্রশাসনের সংস্কার নিয়ে আইএমএফ কঠোর অবস্থান নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, ব্যাংক খাতের সংস্কার এখন অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। খেলাপি ঋণের আধিক্য, মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট এবং সুশাসনের অভাব আর্থিক খাতকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। জুলাই মাসে ঢাকা সফর শেষে আইএমএফ ব্যাংক খাতে গভীর চাপের কথা উল্লেখ করেছিল। এবার সংস্থাটি কেবল সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন এবং পরিচালনা পর্ষদে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মতো বাস্তব পদক্ষেপের অগ্রগতি দেখতে চাইতে পারে। ব্যাংকিং খাতের এই দুর্বলতা দূর না হলে ঋণের অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। কারণ ব্যাংক খাত দুর্বল থাকলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।

ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আইএমএফের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের অস্থিরতার কারণে সরকার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে। যদিও সরকার ডিজেল, পেট্রোলসহ জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে, তবুও নতুন কর্মসূচিতে ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে আনার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেললেও এটি অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বড় শর্ত হিসেবে কাজ করবে। কারণ অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে একদিকে ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজন, অন্যদিকে পর্যাপ্ত রাজস্ব না থাকায় সেই ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা সীমিত। এ খাত পুনর্গঠনে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন। এরই মধ্যে সরকার ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বাড়িয়েছে।

চতুর্থ পরীক্ষাটি হবে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকট ও প্রবৃদ্ধির ধীরগতি অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে। বিশেষ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ, যা সংস্কারে গাফিলতি হলে আরও কমার ঝুঁকি রয়েছে। তাই বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুত শক্তিশালী করা নতুন কর্মসূচির মূল অগ্রাধিকার হতে পারে। সংস্কারে গতি না এলে মধ্য মেয়াদে প্রবৃদ্ধি আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকির কথাও বলা হয়েছে।

এই চার ক্ষেত্রকে সামনে রেখেই সরকার ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ঋণচুক্তি চূড়ান্ত করতে চায়। সব প্রক্রিয়া সফল হলে আগামী বছরের শুরুতে প্রথম কিস্তি পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গেও বাজেট সহায়তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু মোকাবিলা এবং ব্যাংক পুনর্গঠনে অর্থায়নের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। ওয়াশিংটনে দুই সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই ঋণ সাময়িকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমাতে এবং বাজেট ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি দিতে পারে। তবে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, ঋণের অর্থ কোন খাতে ব্যয় হবে এবং রাজস্ব অনুপাত কীভাবে বাড়ানো হবে, তার স্পষ্ট পরিকল্পনা সরকারের থাকতে হবে। একইভাবে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, ঋণের জন্য নয়, বরং দেশের অর্থনীতির স্বার্থেই নিজস্ব উদ্যোগে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। পরিশেষে, ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের ঋণের দরজা খুলতে গিয়ে সরকার অর্থনীতিতে কতটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।