রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী
- আপডেট সময় : ০৭:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
রাসায়নিক অণুর দর্পণ প্রতিবিম্ব বা ‘মিরর ইমেজ’ সংক্রান্ত গবেষণায় যুগান্তকারী অবদান রাখায় ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন জাপানের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই এবং ফ্রান্সের বিজ্ঞানী হেনরি বি. কাগান। অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে নন-লিনিয়ার ইফেক্ট এবং অটোক্যাটালাইসিসের রহস্য উন্মোচনে তাঁদের কাজ চিকিৎসা ও ওষুধশিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
নোবেল কমিটির প্রধান হাইনার লিংকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শত বছর ধরে রসায়নবিদদের কাছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হোমোকাইরালিটির উদ্ভব একটি জটিল রহস্য ছিল। কাগান এবং সোয়াই তাঁদের উদ্ভাবনী রাসায়নিক বিক্রিয়ার নকশার মাধ্যমে এই রহস্যের সমাধান করেছেন। বিশেষ করে ওষুধ তৈরিতে তাঁদের এ গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই রাসায়নিক অণুর দুটি দর্পণ-রূপ মানবদেহে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ওষুধের কার্যকারিতার ক্ষেত্রে অণুর গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রকৃতিতে অনেক অণুই আয়নার প্রতিচ্ছবির মতো দুটি ভিন্ন রূপে থাকে। তবে জীবজগতে সাধারণত একটি রূপই প্রাধান্য পায়। গবেষকদের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি পদ্ধতি বের করা, যার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত নির্দিষ্ট দর্পণ-রূপটিই তৈরি করা সম্ভব হয়। ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদের হেনরি কাগান ১৯৮৬ সালে প্রথম এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যা একটি রূপের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়।
পরবর্তীতে জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের কেনসো সোয়াই এই গবেষণায় আরও বড় অগ্রগতি নিয়ে আসেন। ১৯৯৫ সালে তিনি একটি নতুন বিক্রিয়ার নকশা উপস্থাপন করেন এবং ২০০৩ সালে সফলভাবে এমন একটি পদ্ধতি দেখান, যেখানে দুটি সম্ভাব্য রূপের পরিবর্তে মাত্র একটি রূপই তৈরি হয়। নোবেল কমিটির মতে, জীবনের নিজস্ব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার বাইরে গবেষণাগারে এমন সাফল্য আগে দেখা যায়নি।
ওষুধের কার্যকারিতা অণুর কাঠামোর ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। একটি নির্দিষ্ট দর্পণ-রূপ শরীরে যে সুফল বয়ে আনে, অন্য রূপটি তেমন কার্যকর না-ও হতে পারে। তাই এই আবিষ্কার ওষুধশিল্পে নির্ভুল উৎপাদন প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।
১৯০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১১৭ বার রসায়নে নোবেল দেওয়া হয়েছে এবং ১৯৫ জন ব্যক্তি এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার ও ব্যারি শার্পলেস দুবার করে পুরস্কারটি পেয়েছেন। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে ‘মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস’ নিয়ে কাজ করায় সুসুম কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর এম. ইয়াঘি যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পেয়েছিলেন। এ পুরস্কার পেয়েছেন ১৯৮ ব্যক্তি। মহাবিশ্বের দূরবর্তী স্থান থেকে পৃথিবীতে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তকরণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয়েছে ৫ অক্টোবর থেকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এবার পুরস্কার পেয়েছেন কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞানে অবদান রাখার জন্য নোবেল পেয়েছেন ফ্রান্সিস হালজেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে সাহিত্যে এবং শুক্রবার শান্তিতে বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হবে। অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।
নোবেল পুরস্কারের অংশ হিসেবে বিজয়ীদের দেওয়া হয় একটি ডিপ্লোমা, একটি স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের অর্থ। যদি কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকেন, তবে তাদের মধ্যে এই অর্থ সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়। ১৯০১ সাল থেকে আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছানুসারে মানবতার কল্যাণে ও বিজ্ঞানে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস নিয়ে তাঁদের আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারটি প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার ভিত্তিতে প্রদান করা হয়।




















