ইয়েমেনের ৮০ শতাংশ মানুষ চরম খাদ্য সংকটে: জাতিসংঘ
- আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের কারণে মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৮ জনই তাদের দৈনন্দিন মৌলিক খাদ্য চাহিদা মেটাতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন। এই খাদ্য সংকট ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডব্লিউএফপি বলেছে, ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে তুমুল যুদ্ধের কারণে প্রায় আট লাখ মানুষের কাছে জীবন রক্ষাকারী জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। জাতিসংঘের সংস্থাটির মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির মধ্যে এই তাইজ শহরেই খাদ্য নিরাপত্তার সংকট সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম
খাদ্য সংকটের পাশাপাশি দেশটির স্বাস্থ্য অবকাঠামোও ধ্বংসের মুখে। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি) জানিয়েছে, সংঘাত বৃদ্ধির ফলে আহত মানুষের স্রোতে হাসপাতালগুলো উপচে পড়ছে। ১৪ অক্টোবর (বুধবার) সকালে আইসিআরসির স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ফেরাস আবুসামরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, গ্যাংগ্রিন ও অ্যানাস্থেশিয়ার ওষুধ এবং অক্সিজেনসহ জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাসামগ্রীর চরম সংকট দেখা দিয়েছে। আইসিআরসি উল্লেখ করেছে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত, অর্থনৈতিক দুর্দশা ও মহামারির কারণে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য খাত একেবারেই ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল।
চিকিৎসাকর্মীদের লড়াই ও সহায়তা
- সংকটের মধ্যেও স্থানীয় চিকিৎসাকর্মীরা আহত রোগীদের পাশাপাশি মা, শিশু ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্তদের সেবা প্রদানে নিরলস কাজ করছেন।
- আইসিআরসি জানিয়েছে, সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধির পর থেকে তারা ইয়েমেনে এ পর্যন্ত ৫০০ টনেরও বেশি চিকিৎসার সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।
- দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারগুলো চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

























