ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রোনেন বারের মানহানির মামলা

  • আপডেট সময় : ১১:০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 4
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোনেন বার। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে বারবার সতর্কবার্তা প্রদান করা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করার অভিযোগ এনেছেন তিনি। বুধবার দায়ের করা এই মামলায় তিন মিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। হামাসের সেই ভয়াবহ হামলায় প্রায় ১২০০ ইসরাইলি নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, হামাসের সামরিক শাখা যেন মানবিক সহায়তার অর্থ না পায় সে বিষয়ে সতর্ক করা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু গাজায় কাতারের অর্থ প্রবেশের অনুমতি দিয়ে আসছিলেন। এর পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মামলার নথিতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের শুরুর দিকে হামাসের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা নিয়েও একাধিক সতর্কবার্তার উল্লেখ রয়েছে। সে সময় তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষে এমন হামলার পূর্বাভাস দেয়া কঠিন হতে পারে। গাজায় তিনি ‘যেকোনো মূল্যে শান্ত’ বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন বার।

রোনেন বার অভিযোগ করেছেন যে, নিরাপত্তার চরম ব্যর্থতার দায় নিজের ওপর থেকে সরিয়ে নেতানিয়াহু তা অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। শিন বেতের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত থাকাকালীন বার দাবি করেন, ৬ অক্টোবর গভীর রাত থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একাধিকবার সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। ভোর ৩টা ৩ মিনিটে এবং ৩টা ৫৫ মিনিটে সামরিক সচিবালয়কে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়। তবে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, বার গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য গোপন করেছিলেন এবং সেনাদের সতর্ক করতে বা নোভা সংগীত উৎসবের অংশগ্রহণকারীদের সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

নেতানিয়াহুর অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে রোনেন বার জানিয়েছেন, যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে তাকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া একটি চিঠির উল্লেখ রয়েছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও অস্থিতিশীলতা শত্রুদের সাহসী করে তোলার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। জুলাই মাসে ব্যক্তিগতভাবেও তিনি হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তবে নেতানিয়াহু দাবি করেন, জরুরি যোগাযোগের নির্ধারিত সুরক্ষিত ফোনের মাধ্যমে বার চাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন। জবাবে বার পাল্টা দাবি করেন যে, নেতানিয়াহু তাকে কখনো ব্যক্তিগত ফোন নম্বর দেননি।

শিন বেতের প্রধান হিসেবে রোনেন বার স্বীকার করেছেন যে, হামলার সময় ও ব্যাপকতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে তাদের গোয়েন্দা সংস্থা ব্যর্থ হয়েছিল এবং এই ব্যর্থতার দায় তিনি মেনে নিয়েছেন। তবে তিনি সেনাপ্রধান বা সামরিক গোয়েন্দাপ্রধানের সঙ্গে সেই রাতে সরাসরি কথা বলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি প্রায় এক হাজার নথি জমা দিয়েছেন যা বারের দাবির বিপক্ষে প্রমাণ বহন করে। এরপর সকাল ৬টার কিছু পর রোনেন বারের চিফ অব স্টাফ তার সামরিক সচিবকে বিষয়টি অবহিত করেন।

উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের মার্চে নেতানিয়াহুর সরকার আস্থার সংকট দেখিয়ে রোনেন বারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ওই সময় শিন বেত তদন্ত করছিল যে নেতানিয়াহুর সহযোগীরা কাতারের স্বার্থ রক্ষা করছিল কি না। যদিও নেতানিয়াহুর দপ্তর এ অভিযোগ অস্বীকার করে। ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট বারের বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করলে পরবর্তীতে জুন মাসে তিনি পদত্যাগ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রোনেন বারের মানহানির মামলা

আপডেট সময় : ১১:০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোনেন বার। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে বারবার সতর্কবার্তা প্রদান করা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করার অভিযোগ এনেছেন তিনি। বুধবার দায়ের করা এই মামলায় তিন মিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। হামাসের সেই ভয়াবহ হামলায় প্রায় ১২০০ ইসরাইলি নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, হামাসের সামরিক শাখা যেন মানবিক সহায়তার অর্থ না পায় সে বিষয়ে সতর্ক করা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু গাজায় কাতারের অর্থ প্রবেশের অনুমতি দিয়ে আসছিলেন। এর পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মামলার নথিতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের শুরুর দিকে হামাসের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা নিয়েও একাধিক সতর্কবার্তার উল্লেখ রয়েছে। সে সময় তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষে এমন হামলার পূর্বাভাস দেয়া কঠিন হতে পারে। গাজায় তিনি ‘যেকোনো মূল্যে শান্ত’ বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন বার।

রোনেন বার অভিযোগ করেছেন যে, নিরাপত্তার চরম ব্যর্থতার দায় নিজের ওপর থেকে সরিয়ে নেতানিয়াহু তা অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। শিন বেতের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত থাকাকালীন বার দাবি করেন, ৬ অক্টোবর গভীর রাত থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একাধিকবার সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। ভোর ৩টা ৩ মিনিটে এবং ৩টা ৫৫ মিনিটে সামরিক সচিবালয়কে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়। তবে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, বার গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য গোপন করেছিলেন এবং সেনাদের সতর্ক করতে বা নোভা সংগীত উৎসবের অংশগ্রহণকারীদের সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

নেতানিয়াহুর অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে রোনেন বার জানিয়েছেন, যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে তাকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া একটি চিঠির উল্লেখ রয়েছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও অস্থিতিশীলতা শত্রুদের সাহসী করে তোলার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। জুলাই মাসে ব্যক্তিগতভাবেও তিনি হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তবে নেতানিয়াহু দাবি করেন, জরুরি যোগাযোগের নির্ধারিত সুরক্ষিত ফোনের মাধ্যমে বার চাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন। জবাবে বার পাল্টা দাবি করেন যে, নেতানিয়াহু তাকে কখনো ব্যক্তিগত ফোন নম্বর দেননি।

শিন বেতের প্রধান হিসেবে রোনেন বার স্বীকার করেছেন যে, হামলার সময় ও ব্যাপকতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে তাদের গোয়েন্দা সংস্থা ব্যর্থ হয়েছিল এবং এই ব্যর্থতার দায় তিনি মেনে নিয়েছেন। তবে তিনি সেনাপ্রধান বা সামরিক গোয়েন্দাপ্রধানের সঙ্গে সেই রাতে সরাসরি কথা বলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি প্রায় এক হাজার নথি জমা দিয়েছেন যা বারের দাবির বিপক্ষে প্রমাণ বহন করে। এরপর সকাল ৬টার কিছু পর রোনেন বারের চিফ অব স্টাফ তার সামরিক সচিবকে বিষয়টি অবহিত করেন।

উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের মার্চে নেতানিয়াহুর সরকার আস্থার সংকট দেখিয়ে রোনেন বারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ওই সময় শিন বেত তদন্ত করছিল যে নেতানিয়াহুর সহযোগীরা কাতারের স্বার্থ রক্ষা করছিল কি না। যদিও নেতানিয়াহুর দপ্তর এ অভিযোগ অস্বীকার করে। ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট বারের বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করলে পরবর্তীতে জুন মাসে তিনি পদত্যাগ করেন।