লাইসেন্সহীন টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও কার্যক্রম চালু
- আপডেট সময় : ০৩:০৭:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক সৈকতে অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানিয়েছেন যে, কাঠের তৈরি এই রিসোর্টটির অগ্নিনির্বাপক লাইসেন্স ছিল না। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে দুর্গাপূজায় নিরাপত্তাবিষয়ক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। ১৭ অক্টোবর (শনিবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘শারদীয় দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক’ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। দোতলা ও তিনতলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। এরইমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব কারণে অগ্নিনির্বাপণকারী যানবাহন ও সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
মহাপরিচালক আরও জানান, গত জুন মাসে রিসোর্টটি পরিদর্শনের পর ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সেটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সতর্ক করে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সতর্কতা উপেক্ষা করেই রিসোর্টটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। তিনতলা এই রিসোর্টটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ ছিল এবং শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থলের নিকটতম ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব ২২ কিলোমিটার হওয়ায় জরুরি সেবা পৌঁছাতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। রিসোর্টটির লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং সতর্ক করার পরও কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে রিসোর্টটি চালাচ্ছিল না। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই এ বিষয়ে জানা যাবে। পুরান ঢাকায় ঘনঘন অগ্নিকাণ্ড, অনুমোদনহীন কারখানা ও গুদাম এবং বিস্ফোরক পদার্থের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার সরু রাস্তা ও ভবনগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব না থাকা। ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়াতে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন মহাপরিচালক। পাশাপাশি মোটরসাইকেলে হোস পাইপ নিয়ে গিয়ে আশপাশের ভবনের পানির রিজার্ভারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে আগুন নেভানো যায় কি না, তা নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।
ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিস ডিজি আরও বলেন, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় কাঠ ও দাহ্য উপকরণে তৈরি রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বেশ নাজুক। অনেক প্রতিষ্ঠানই প্রয়োজনীয় অনুমতি নেয় না। এই দুর্ঘটনা এড়াতে ভবিষ্যতে কী করা যায়, তা নিয়ে ফায়ার সার্ভিস পর্যালোচনা করছে। তিনি জানান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সমিতিগুলোর মাধ্যমে নিরাপত্তাবিষয়ক বার্তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সামনে শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কায় তিনি সংশ্লিষ্টদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নোটিশের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদ্যমান আইন ও নজরদারির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে পুরোনো বসতি ও স্থাপনাগুলোতে একসঙ্গে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাস্তবিক অর্থেই কঠিন।
তবে আগুনের সঠিক সূত্রপাত সম্পর্কে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। এছাড়া, পুরান ঢাকার মতো জনবহুল ও সরু রাস্তার এলাকায় অগ্নিনির্বাপণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস বিশেষ ধরনের তিন চাকার যান ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। তিনি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড ও প্রয়োজনীয় বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নতুন ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনে চলতে বারবার সচেতন করা হচ্ছে।























