মাদরাসায় শারীরিক শাস্তি গ্রহণযোগ্য নয়: ড. মিজানুর রহমান আজহারী
- আপডেট সময় : ০১:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
মাদরাসায় শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি, শিক্ষার্থী নির্যাতন কিংবা যে কোনো ধরনের অনুপযুক্ত স্পর্শ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি চিন্তাবিদ ড. মিজানুর রহমান আজহারী। রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দেশের দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক সময়ে মাদরাসাকেন্দ্রিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা জনমনে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে উল্লেখ করে আজহারী বলেন, মাদরাসা শিক্ষার ভাবমূর্তি রক্ষায় দায়িত্বশীল আলেম ও প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের অবিলম্বে খোলামেলা আলোচনা ও আত্মসমালোচনায় বসা প্রয়োজন। নিজেদের ভুলগুলো সংশোধন না করলে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা অযাচিত সংকটের মুখে পড়তে পারে।
তিনি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশের অনেক হিফজখানা ও মাদরাসায় সিসিটিভি ক্যামেরার অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং যথাযথ তদারকির ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় মাদরাসা শিক্ষার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের ওপর বেত্রাঘাত বা যেকোনো ধরনের শারীরিক শাস্তি, যা শিশুর মনে অপমান ও দীর্ঘমেয়াদী মানসিক আঘাত তৈরি করে, তা ইসলামের শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি মনে করেন। শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শারীরিক শক্তি নয়, বরং প্রজ্ঞা ও মানবিকতার চর্চার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তার মতে, শিক্ষকদের শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান থাকলেই চলবে না, শিশুদের মনস্তত্ত্ব বুঝে বয়সোপযোগী আচরণ করার দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।
প্রতিটি মাদরাসায় শিশু সুরক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে আজহারী বলেন, শিক্ষার্থীদের নির্ভয়ে অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকতে হবে। পাশাপাশি কোনো অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, এসব সংস্কারের মূল লক্ষ্য মাদরাসা শিক্ষাকে দুর্বল করা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্বীনি শিক্ষার মর্যাদা ও আস্থাকে সমুন্নত রাখা। সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে জবাবদিহিতার পথে এগিয়ে যাওয়াই এখনকার সময়ের দাবি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

























