নির্দেশ পেলেই ৯৬ ঘণ্টায় ইরানে বড় হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের
- আপডেট সময় : ১২:৫৮:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংকেত পাওয়ার ৯৬ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে সিএনএন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব সামরিক শক্তি ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে জড়ো করেছে ওয়াশিংটন। এবার হামলা হলে তা শুধু ইরানের রাডার বা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এটি একটি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে। বর্তমানে ট্রাম্প এই অভিযানের অনুমোদন দেবেন কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান ও সাবেক অনেক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই এ ধরনের নির্দেশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এর ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। পেন্টাগন ও সেন্ট্রাল কমান্ড ইতোমধ্যে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর একটি বিস্তৃত তালিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
যদিও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক বেশি ওয়াকিবহাল। ফলে লক্ষ্যবস্তুগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ট্রাম্প নিজে বড় ধরনের পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকছেন বলে মনে হলেও, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের নজির রয়েছে তার। এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, হামলা চালানো হলে ইরান ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা পাল্টা আঘাত হানতে পারে। শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, অন্যান্য অঞ্চলে মার্কিন সেনা ও স্থাপনাও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও অতীতেও তাকে কোনো পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পরে শেষ মুহূর্তে সরে আসতে দেখা গেছে। অন্য দূতাবাসগুলোতেও একই ধরনের নির্দেশ আসতে পারে।
ইরান বর্তমানে মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে। কয়েক জায়গায় হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি বলেও মার্কিন গোয়েন্দারা মনে করছেন। উত্তেজনাকর এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রিয়াদে অবস্থানরত মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ওই অঞ্চলে নতুন করে অপ্রয়োজনীয় সামরিক কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে হামলার পরিকল্পনা উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও জানানো হয়েছে।






















