ঢাকা ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্যঙ্গাত্মক কমেডি ঘরানা ছাড়ছেন সাচা ব্যারন কোহেন মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ‘জিহাদি’ বললেন ট্রাম্প হুতিদের -: রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দেশের বাজারে আরও কমল স্বর্ণের দাম ট্রাম্পের ইরান নীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ওবামার তীব্র সমালোচনা টঙ্গীতে শিশু নিপীড়নের মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর বহরে নতুন এয়ারবাস এ৩২১এলআর যোগ করছে কাতার এয়ারওয়েজ নেতানিয়াহুসহ ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তুরস্কে মানবতাবিরোধী মামলার বিচার শুরু হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসে ফের হামলা ও আগুন দেওয়ার চেষ্টা চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চারটি নতুন পাঠ্যবই অনুমোদন দিল এনসিসিসি

ব্যঙ্গাত্মক কমেডি ঘরানা ছাড়ছেন সাচা ব্যারন কোহেন

  • আপডেট সময় : ১১:১৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বজুড়ে ‘বোরাট’ ও ‘দ্য ডিক্টেটর’-এর মতো সিনেমায় অভিনব এবং ব্যতিক্রমী সব চরিত্রের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেছেন ব্রিটিশ অভিনেতা সাচা ব্যারন কোহেন। কিন্তু এবার ব্যঙ্গাত্মক কমেডির সেই পরিচিত ও বিতর্কিত জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ৫৫ বছর বয়সী এই অভিনেতা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি এখন থেকে কমেডি সিনেমার প্রচলিত ধারা থেকে বিরতি নিতে চাচ্ছেন। হতে যাচ্ছে এ ধরনের সিনেমায় তাঁর শেষ কাজ। বরং বিতর্কিত ও ঝুঁকিপূর্ণ চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের অসংগতি তুলে ধরার যে ধারায় তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চান এই অভিনেতা। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শের দুই প্রান্তে উগ্রতার বিস্তার এবং নৈতিকতার দোহাই দিয়ে সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার প্রবণতা ব্যঙ্গাত্মক কমেডির মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব। তাঁর মতে, গণতন্ত্র ও সহনশীল সমাজ টিকিয়ে রাখতে সত্য সম্পর্কে মানুষের মধ্যে একটি অভিন্ন ধারণা থাকা জরুরি। তাঁর তৈরি চরিত্রগুলো প্রায়ই প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতি, ক্ষমতাবানদের আচরণ এবং মানুষের ভণ্ডামিকে বিদ্রূপ করে। বহু বছর পর আবারও এই চরিত্রে ফিরেছেন তিনি। কোহেনের অভিনয়জীবনে বিতর্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তেমনি তাঁর আন্তর্জাতিক পরিচিতি তৈরিতেও সহায়তা করেছে। ‘বোরাট’ সিনেমায় কাজাখ সাংবাদিকের ছদ্মবেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে বিদ্রূপ করা এবং ‘দ্য ডিক্টেটর’-এ স্বৈরশাসকদের আচরণকে। তাঁর অভিনয়ের ধরন প্রচলিত কমেডির সীমানা ছাড়িয়ে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও সামাজিক সমালোচনার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে। নতুন সিনেমাটির মধ্য দিয়ে পরিচালকের ভূমিকাতেও অভিষেক হয়েছে কোহেনের। তাঁর চরিত্রগুলো কখনো দর্শককে হাসিয়েছে, কখনো অস্বস্তিতে ফেলেছে, আবার কখনো বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

দ্য হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাচা ব্যারন কোহেন তার সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, তার ক্যারিয়ারের সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিই এ পর্যন্ত করা তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজ। গত ২৩ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির শিরোনাম ‘আলি জি: হু ইজ আই?’। ১৯৯৮ সালে টেলিভিশনের পর্দায় প্রথম আত্মপ্রকাশ করা ‘আলি জি’ চরিত্রটিই সাচার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক এবং জনপ্রিয় সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া সাক্ষাৎকার এবং টাইম সাময়িকীতে প্রকাশিত লেখায় তিনি যুক্তি দিয়েছেন, তাঁর চরিত্রগুলোর লক্ষ্য কুসংস্কার, পক্ষপাত ও অজ্ঞতাকে প্রকাশ করা।

তবে এই চরিত্রটিকে ঘিরে নানা সময় বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একটি বড় অংশের অভিযোগ রয়েছে যে, সাচা ব্যারন কোহেনের উপস্থাপনা ও হাস্যরসের মধ্যে বর্ণ ও সংস্কৃতিসংক্রান্ত কিছু নেতিবাচক ধারণা ও কুসংস্কার প্রতিফলিত হয়েছে। এই সমালোচনার মুখে অভিনেতা তার দীর্ঘদিনের পছন্দের এই ঘরানা থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি স্পষ্ট করলেন।

ভ্যারাইটি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘আলি জি: হু ইজ আই?’ সিনেমাটির প্রচারণার কাজ চলছে এবং এটি খুব দ্রুত বড় পরিসরে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে সিনেমাটি জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সাচা ব্যারন কোহেন তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের এই সন্ধিক্ষণে এসে কমেডি জনরা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেওয়ায় চলচ্চিত্র বিশ্বে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে নতুন সিনেমাটি নির্মাণের পেছনে কাজ করেছে সমসাময়িক সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে তাঁর উদ্বেগ। বর্তমান বিশ্বে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা, সামাজিক বিভাজন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন কোহেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও তাঁকে ভাবিয়ে তুলছে। বাস্তবতা সম্পর্কে মানুষের উপলব্ধি যখন পরস্পরবিরোধী হয়ে পড়ে, তখন সামাজিক সংহতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। আলি জি মূলত এমন একটি চরিত্র, যার কথাবার্তা ও আচরণের মধ্যে দিয়ে অজ্ঞতা, আত্মম্ভরিতা এবং সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে ভুল ধারণাকে ব্যঙ্গ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্যঙ্গাত্মক কমেডি ঘরানা ছাড়ছেন সাচা ব্যারন কোহেন

আপডেট সময় : ১১:১৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে ‘বোরাট’ ও ‘দ্য ডিক্টেটর’-এর মতো সিনেমায় অভিনব এবং ব্যতিক্রমী সব চরিত্রের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেছেন ব্রিটিশ অভিনেতা সাচা ব্যারন কোহেন। কিন্তু এবার ব্যঙ্গাত্মক কমেডির সেই পরিচিত ও বিতর্কিত জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ৫৫ বছর বয়সী এই অভিনেতা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি এখন থেকে কমেডি সিনেমার প্রচলিত ধারা থেকে বিরতি নিতে চাচ্ছেন। হতে যাচ্ছে এ ধরনের সিনেমায় তাঁর শেষ কাজ। বরং বিতর্কিত ও ঝুঁকিপূর্ণ চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের অসংগতি তুলে ধরার যে ধারায় তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চান এই অভিনেতা। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শের দুই প্রান্তে উগ্রতার বিস্তার এবং নৈতিকতার দোহাই দিয়ে সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার প্রবণতা ব্যঙ্গাত্মক কমেডির মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব। তাঁর মতে, গণতন্ত্র ও সহনশীল সমাজ টিকিয়ে রাখতে সত্য সম্পর্কে মানুষের মধ্যে একটি অভিন্ন ধারণা থাকা জরুরি। তাঁর তৈরি চরিত্রগুলো প্রায়ই প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতি, ক্ষমতাবানদের আচরণ এবং মানুষের ভণ্ডামিকে বিদ্রূপ করে। বহু বছর পর আবারও এই চরিত্রে ফিরেছেন তিনি। কোহেনের অভিনয়জীবনে বিতর্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তেমনি তাঁর আন্তর্জাতিক পরিচিতি তৈরিতেও সহায়তা করেছে। ‘বোরাট’ সিনেমায় কাজাখ সাংবাদিকের ছদ্মবেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে বিদ্রূপ করা এবং ‘দ্য ডিক্টেটর’-এ স্বৈরশাসকদের আচরণকে। তাঁর অভিনয়ের ধরন প্রচলিত কমেডির সীমানা ছাড়িয়ে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও সামাজিক সমালোচনার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে। নতুন সিনেমাটির মধ্য দিয়ে পরিচালকের ভূমিকাতেও অভিষেক হয়েছে কোহেনের। তাঁর চরিত্রগুলো কখনো দর্শককে হাসিয়েছে, কখনো অস্বস্তিতে ফেলেছে, আবার কখনো বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

দ্য হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাচা ব্যারন কোহেন তার সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, তার ক্যারিয়ারের সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিই এ পর্যন্ত করা তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজ। গত ২৩ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির শিরোনাম ‘আলি জি: হু ইজ আই?’। ১৯৯৮ সালে টেলিভিশনের পর্দায় প্রথম আত্মপ্রকাশ করা ‘আলি জি’ চরিত্রটিই সাচার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক এবং জনপ্রিয় সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া সাক্ষাৎকার এবং টাইম সাময়িকীতে প্রকাশিত লেখায় তিনি যুক্তি দিয়েছেন, তাঁর চরিত্রগুলোর লক্ষ্য কুসংস্কার, পক্ষপাত ও অজ্ঞতাকে প্রকাশ করা।

তবে এই চরিত্রটিকে ঘিরে নানা সময় বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একটি বড় অংশের অভিযোগ রয়েছে যে, সাচা ব্যারন কোহেনের উপস্থাপনা ও হাস্যরসের মধ্যে বর্ণ ও সংস্কৃতিসংক্রান্ত কিছু নেতিবাচক ধারণা ও কুসংস্কার প্রতিফলিত হয়েছে। এই সমালোচনার মুখে অভিনেতা তার দীর্ঘদিনের পছন্দের এই ঘরানা থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি স্পষ্ট করলেন।

ভ্যারাইটি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘আলি জি: হু ইজ আই?’ সিনেমাটির প্রচারণার কাজ চলছে এবং এটি খুব দ্রুত বড় পরিসরে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে সিনেমাটি জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সাচা ব্যারন কোহেন তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের এই সন্ধিক্ষণে এসে কমেডি জনরা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেওয়ায় চলচ্চিত্র বিশ্বে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে নতুন সিনেমাটি নির্মাণের পেছনে কাজ করেছে সমসাময়িক সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে তাঁর উদ্বেগ। বর্তমান বিশ্বে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা, সামাজিক বিভাজন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন কোহেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও তাঁকে ভাবিয়ে তুলছে। বাস্তবতা সম্পর্কে মানুষের উপলব্ধি যখন পরস্পরবিরোধী হয়ে পড়ে, তখন সামাজিক সংহতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। আলি জি মূলত এমন একটি চরিত্র, যার কথাবার্তা ও আচরণের মধ্যে দিয়ে অজ্ঞতা, আত্মম্ভরিতা এবং সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে ভুল ধারণাকে ব্যঙ্গ করা হয়।