বাংলাদেশের পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৪:১১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
বাংলাদেশের পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক খাতে জাপানি বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাপানের টোকিওতে অবস্থিত জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন বা জেট্রো সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম’-এর মূল বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারক বিনিময়ের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার ১৭টি নতুন বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জেট্রো এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের যৌথ আয়োজনে এবং টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় এই ফোরাম সম্পন্ন হয়। ফোরামের ঘোষণাপর্বের সরবরাহকৃত ট্রান্সক্রিপ্ট অনুযায়ী ১৭টি প্রকল্পের উল্লেখ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের তালিকায় থাকা পাঁচটি খাত হলো—গাড়ি উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, দ্রুতগতির রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ। তিনি জানান, জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সহযোগিতা প্রদানে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে এলএনজি অবকাঠামো, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রযুক্তি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালের মতো বড় শহরগুলোকে সংযুক্ত করে একটি আধুনিক দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ফোরামে ১৭টি প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়, যার মধ্যে টয়োটা তসুশো করপোরেশন, মিৎসুই অ্যান্ড কো. এবং কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা এবং জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক পার্লামেন্টারি ভাইস-মিনিস্টার শিনজি ওয়াকায়ামা বক্তব্য দেন। এবং কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে আসে।
ব্যবসায়িক অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার রূপরেখা তুলে ধরেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বিনিয়োগ সহজীকরণের লক্ষ্যে নতুন সংস্কার কার্যক্রমের ওপর আলোকপাত করেন। জাপানি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মিৎসুই অ্যান্ড কো.-এর কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনইচিরো কাওয়ামোতো এবং ওয়াইকেকে করপোরেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেইসুকে আরাতানি তাদের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা করেন। ওয়াইকেকে করপোরেশনের গ্লোবাল সেলস হেডকোয়ার্টার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেইসুকে আরাতানির উপস্থাপনার বিষয় ছিল বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক যাত্রা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা।
অনুষ্ঠানে সমাপনী পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) রেহান আসিফ আসাদ বাংলাদেশের উদীয়মান ব্যবসায়িক পরিস্থিতির ওপর উপস্থাপনা দেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেট্রো ঢাকা কার্যালয়ের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুআকি কাতাওকা।

























