ের জবাব -: তাহসিফ সৌরির মৃত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায়
- আপডেট সময় : ০৫:২০:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 14
রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরির (২৮) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে নৌ পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে, যা নিখোঁজের একদিন পর পাওয়া গেল। ইতিমধ্যে মৃতদেহটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নিহতের পরিবার জানায়, নিখোঁজের দিন সন্ধ্যায় তিনি বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, কিন্তু কোথায় যাচ্ছেন তা জানাননি। তার বাবার ভাষ্যমতে, মরদেহ যেখানে পাওয়া গেছে, তাহসিফ সেখানে আগে কখনো যাননি। তিনি কী কারণে সেখানে গিয়েছিলেন, কার ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন, রাত দেড়টা পর্যন্ত কোথায় ছিলেন কিংবা তার শেষ বার্তাটি কে পেয়েছিলেন—এমন সব প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। অভ্যুত্থানের পর চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়া তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে জনমনে প্রবল কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। কে তাকে ডেকে নিল এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। রাত দেড়টা পর্যন্ত কোথায় ছিলেন, শেষ মেসেজ কে দিয়েছিল, কোন বিষয় নিয়ে তিনি আতঙ্কিত ছিলেন—এমনটাও আলোচনায় আসছে। তিনি লেখেন, গত পরশু রাতে সে বাইরে যায় এরপর এই ঘটনা। নিহত ওই ব্যক্তি অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির। যার বয়স আনুমানিক ২৮ বছর।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে তাহসিফের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
তবে মৃত্যুর কয়েকদিন আগে প্রকাশিত একটি পডকাস্টে তাহসিফ নিজেই এই অভিযোগকে ‘প্রমাণহীন’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পেছনে এই ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, এমনটি হতে পারে, তবে বিস্তারিত প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেন। এদিকে, নিজেকে তাহসিফের বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেওয়া নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কে এস এম ইনতিসার ইনজামাম ফেসবুকে এক পোস্টে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ফাঁসের সঙ্গে তার মৃত্যুর যোগসূত্র থাকার আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিহতের লাশের হাতে কাদা থাকলেও বাকি শরীর ছিল পরিষ্কার, যা স্বাভাবিক কোনো দুর্ঘটনা বা ব্যক্তিগত কোন্দল হওয়ার সম্ভাবনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বাকি সব ক্লিন, এইটা কিসের লক্ষণ আমি এখনি বলতে চাইনা।
ইনজামাম আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের ভিডিও প্রকাশের পর তাহসিফকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চললেও কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেনি। অপরদিকে, মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে নৌ পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কলের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে। অজ্ঞাতনামা ওই তরুণকে পরে তাহসিফ সৌরি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। উদ্ধারকালীন তার পরনে ছিল সাদা পাজামা ও কালো জামা, এবং পকেটে থাকা আইফোন ও হাতে থাকা ঘড়ি দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। তিনি আরো লেখেন, ৫ই আগস্টের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর, তার মানহানি করা হয় নানান বিষয়ে কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি কেস করতে পারেনাই। বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে তুরাগ নদী থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল এবং উদ্ধারকৃত মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, এই মৃত্যুর সঙ্গে আলোচিত ভিডিও ধারণের কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পুরো বিষয়টি রহস্যে ঘেরা থাকলেও তদন্ত চলমান রয়েছে।
























