ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু পাবনায় ১১টি দেশীয় অস্ত্রসহ সর্বহারা দলের কমান্ডার গ্রেপ্তার কাল প্রকাশ হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল তিন বিমানবন্দরে বাড়ছে সোনা চোরাচালান, নেপথ্যের কারিগররা অধরা তিন বিমানবন্দরে বাড়ছে সোনা চোরাচালান, নেপথ্যের কারিগররা অধরা আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নেপাল গেলেন রাবির ৫ শিক্ষার্থী ইসরাইলে নির্বাচনের ফল প্রকাশ: সরকার গঠন নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা ভোলায় অনুষ্ঠিত কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬ শীতের সবজির দামে নাভিশ্বাস, চড়া বাজারে দিশেহারা ক্রেতারা সিলেট-মাস্কাট রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াল সালামএয়ার

তিন বিমানবন্দরে বাড়ছে সোনা চোরাচালান, নেপথ্যের কারিগররা অধরা

  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 6
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—হযরত শাহজালাল, শাহ আমানত এবং ওসমানীকে কেন্দ্র করে সোনা চোরাচালানের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চোরাকারবারিরা প্রতিনিয়ত অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে, যার ফলে যাত্রীদের ব্যাগ, শরীরের বিভিন্ন অংশ, উড়োজাহাজের আসন, শৌচাগার এমনকি কার্গো হোল থেকেও উদ্ধার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ সোনা। কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে নিয়মিত চালান ধরা পড়লেও এই চোরাচালানের মূল হোতা, অর্থদাতা এবং প্রকৃত গ্রহীতাদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের খতিয়ে দেখতে হবে, চালানগুলো কোথা থেকে আসছে, কার নির্দেশে বহন করা হচ্ছে এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর কার কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেদ্দাফেরত এক যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় দেড় কেজি ওজনের সোনার চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর কয়েক দিন আগে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে মালদ্বীপ থেকে আসা দুই যাত্রীর শরীর তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম ওজনের সোনার পেস্ট, যার বর্তমান বাজারমূল্য চার কোটি টাকা।

উড়োজাহাজের অভ্যন্তরেও চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য থেমে নেই। গত ৪ অক্টোবর এমিরেটসের একটি ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৯ দশমিক ৩৪ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এছাড়া গত ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের শৌচাগার থেকে ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি সোনা, জুলাই মাসে কার্গো অংশ থেকে ১৮ কেজির বেশি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের আসনের নিচ থেকে ৯ দশমিক ৩৩ কেজি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় নিয়মিত বাহক আটক হলেও মূল হোতারা শনাক্ত না হওয়ায় চোরাচালান চক্র ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না।

বিমানবন্দরকেন্দ্রিক অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকার বিষয়েও জোরালো অভিযোগ রয়েছে। যদিও প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষারোপ করা কঠিন, তবে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের নিরাপত্তা নথি, কর্মীদের প্রবেশাধিকার, সিসিটিভি ফুটেজ ও আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. রইচ উদ্দিন খান জানিয়েছেন, অবৈধ পণ্য পাচার রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। তবে তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করা যায় না। কর্মকর্তাদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাহক গ্রেপ্তার বা সোনা উদ্ধার করে চোরাচালান নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য পুরো সরবরাহশৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া, অর্থের উৎস অনুসন্ধান এবং ঘটনাগুলোর তথ্য সমন্বয় করা প্রয়োজন। নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে তবেই বিমানবন্দরগুলোতে চোরাচালান প্রতিরোধ কার্যকর হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ্যে এলে জবাবদিহি বাড়বে এবং বিমানবন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালান প্রতিরোধ আরও কার্যকর হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তিন বিমানবন্দরে বাড়ছে সোনা চোরাচালান, নেপথ্যের কারিগররা অধরা

আপডেট সময় : ০৬:২৬:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—হযরত শাহজালাল, শাহ আমানত এবং ওসমানীকে কেন্দ্র করে সোনা চোরাচালানের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চোরাকারবারিরা প্রতিনিয়ত অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে, যার ফলে যাত্রীদের ব্যাগ, শরীরের বিভিন্ন অংশ, উড়োজাহাজের আসন, শৌচাগার এমনকি কার্গো হোল থেকেও উদ্ধার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ সোনা। কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে নিয়মিত চালান ধরা পড়লেও এই চোরাচালানের মূল হোতা, অর্থদাতা এবং প্রকৃত গ্রহীতাদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের খতিয়ে দেখতে হবে, চালানগুলো কোথা থেকে আসছে, কার নির্দেশে বহন করা হচ্ছে এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর কার কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেদ্দাফেরত এক যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় দেড় কেজি ওজনের সোনার চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর কয়েক দিন আগে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে মালদ্বীপ থেকে আসা দুই যাত্রীর শরীর তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম ওজনের সোনার পেস্ট, যার বর্তমান বাজারমূল্য চার কোটি টাকা।

উড়োজাহাজের অভ্যন্তরেও চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য থেমে নেই। গত ৪ অক্টোবর এমিরেটসের একটি ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৯ দশমিক ৩৪ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এছাড়া গত ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের শৌচাগার থেকে ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি সোনা, জুলাই মাসে কার্গো অংশ থেকে ১৮ কেজির বেশি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের আসনের নিচ থেকে ৯ দশমিক ৩৩ কেজি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় নিয়মিত বাহক আটক হলেও মূল হোতারা শনাক্ত না হওয়ায় চোরাচালান চক্র ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না।

বিমানবন্দরকেন্দ্রিক অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকার বিষয়েও জোরালো অভিযোগ রয়েছে। যদিও প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষারোপ করা কঠিন, তবে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের নিরাপত্তা নথি, কর্মীদের প্রবেশাধিকার, সিসিটিভি ফুটেজ ও আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. রইচ উদ্দিন খান জানিয়েছেন, অবৈধ পণ্য পাচার রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। তবে তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করা যায় না। কর্মকর্তাদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাহক গ্রেপ্তার বা সোনা উদ্ধার করে চোরাচালান নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য পুরো সরবরাহশৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া, অর্থের উৎস অনুসন্ধান এবং ঘটনাগুলোর তথ্য সমন্বয় করা প্রয়োজন। নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে তবেই বিমানবন্দরগুলোতে চোরাচালান প্রতিরোধ কার্যকর হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ্যে এলে জবাবদিহি বাড়বে এবং বিমানবন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালান প্রতিরোধ আরও কার্যকর হতে পারে।