ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শীতের সবজির দামে নাভিশ্বাস, চড়া বাজারে দিশেহারা ক্রেতারা সিলেট-মাস্কাট রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াল সালামএয়ার শেরেবাংলার ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশালে সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু: তদন্তে তথ্য দিলেন বন্ধু সিরাজগঞ্জে মহাসড়কে মিছিল, গ্রেপ্তার ৩ জন বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার খবর নাকচ করল জাপান জাপান সফর শেষে আজ রাতে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটের শ্রমিক হাটে কাজের সন্ধানে দীর্ঘ সারি, কমেছে কাজের সুযোগ পিবিআইয়ের অভিযানে উদ্ধার সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিলে পুলিশি অবহেলার অভিযোগ: ৪ সদস্য ক্লোজড

শীতের সবজির দামে নাভিশ্বাস, চড়া বাজারে দিশেহারা ক্রেতারা

  • আপডেট সময় : ০৪:২৯:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর বাজারে শীতের নতুন সবজি উঠতে শুরু করেছে, তবে দামের উত্তাপ যেন সবজিকেও ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, সবজির ভরা মৌসুমেও চড়া দরে পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে নতুন আলুর কেজি ১৬০ টাকা এবং দেশি টমেটোর দাম ১৮০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। অধিকাংশ সাধারণ সবজির দরও কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে।

বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে তারা চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন।

সবজি ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারের শুরুতে নতুন সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকে। আবু বক্কর নামে এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, গণমাধ্যমে দেখা যায় লাউয়ের দাম খুব কম, অথচ এই বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকার নিচে একটি লাউ পাওয়া দুষ্কর। এদিকে ঝিঙা ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, শিম ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা এবং সাধারণ টমেটো ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অবশ্য তুলনামূলক কম দামে কিছু সবজি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া যথাক্রমে ৩০ ও ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ ও পটোল ৬০ থেকে ৮০ টাকার সীমার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচের দাম এখনো ১৪০ টাকা প্রতি কেজি।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। বড় ও সামুদ্রিক মাছের দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সাগরের মাছের জোগান কম থাকায় দাম বেশি। আইড় মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, বাইন ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বড় চিংড়ি ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বড় কাতল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা ও দেশি শিং মাছ ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া রুই মাছ ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা এবং বায়লা ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশ মাছের আকাশছোঁয়া দামের কারণে সাধারণের নাগালের বাইরে রয়েছে। আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তুলনায় চাষের মাছ কিছুটা কম দামে পাঙাশ ২৩০ টাকা ও তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতা আজাদ রহমানের অভিযোগ, মোহাম্মদপুরের অন্যান্য বাজারের তুলনায় টাউন হল মার্কেটে দাম কিছুটা বেশি, যদিও এখানে পণ্যের মান টাটকা থাকে।

মুরগি ও ডিমের বাজারেও একই পরিস্থিতি। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি ডজন বাদামি ব্রয়লার ডিম ১৪০ টাকায় এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

শীতের সবজির দামে নাভিশ্বাস, চড়া বাজারে দিশেহারা ক্রেতারা

আপডেট সময় : ০৪:২৯:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর বাজারে শীতের নতুন সবজি উঠতে শুরু করেছে, তবে দামের উত্তাপ যেন সবজিকেও ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, সবজির ভরা মৌসুমেও চড়া দরে পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে নতুন আলুর কেজি ১৬০ টাকা এবং দেশি টমেটোর দাম ১৮০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। অধিকাংশ সাধারণ সবজির দরও কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে।

বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে তারা চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন।

সবজি ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারের শুরুতে নতুন সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকে। আবু বক্কর নামে এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, গণমাধ্যমে দেখা যায় লাউয়ের দাম খুব কম, অথচ এই বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকার নিচে একটি লাউ পাওয়া দুষ্কর। এদিকে ঝিঙা ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, শিম ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা এবং সাধারণ টমেটো ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অবশ্য তুলনামূলক কম দামে কিছু সবজি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া যথাক্রমে ৩০ ও ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ ও পটোল ৬০ থেকে ৮০ টাকার সীমার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচের দাম এখনো ১৪০ টাকা প্রতি কেজি।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। বড় ও সামুদ্রিক মাছের দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সাগরের মাছের জোগান কম থাকায় দাম বেশি। আইড় মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, বাইন ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বড় চিংড়ি ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বড় কাতল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা ও দেশি শিং মাছ ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া রুই মাছ ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা এবং বায়লা ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশ মাছের আকাশছোঁয়া দামের কারণে সাধারণের নাগালের বাইরে রয়েছে। আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তুলনায় চাষের মাছ কিছুটা কম দামে পাঙাশ ২৩০ টাকা ও তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতা আজাদ রহমানের অভিযোগ, মোহাম্মদপুরের অন্যান্য বাজারের তুলনায় টাউন হল মার্কেটে দাম কিছুটা বেশি, যদিও এখানে পণ্যের মান টাটকা থাকে।

মুরগি ও ডিমের বাজারেও একই পরিস্থিতি। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি ডজন বাদামি ব্রয়লার ডিম ১৪০ টাকায় এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।